০১:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
শিরোনাম :
হাসনাত আব্দুল্লাহর প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল চরমোনাইয়ের জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করবে জামায়াত জোট আইসিসি ভারতীয় কর্মকর্তাকে ভিসা দেয়নি বাংলাদেশ, ভারতীয় মিডিয়ার দাবি একটি দল নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার সুযোগ খুঁজছে: সালাহউদ্দিন আহমদ বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করেছে : তারেক রহমান আচরণবিধি লঙ্ঘন: অপসাংবাদিকতার শিকার বললেন মামুনুল হক পোস্টাল ব্যালটের ডিজাইনে পরিবর্তন আনছে ইসি গুম ও নির্যাতনের শিকার পরিবারের পাশে তারেক রহমান জাতিসংঘের এলডিসি উত্তরণবিষয়ক প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফর স্থগিত ব্রিটিশ নৌবাহিনীর প্রথম স্বয়ংক্রিয় হেলিকপ্টারের সফল প্রথম উড্ডয়ন

শিশুর পুষ্টি ও দুগ্ধশিল্পের অগ্রগতিতে বিশ্ব দুগ্ধ দিবস আজ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৮:৫৮:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ জুন ২০২৫
  • / 73

ছবি সংগৃহীত

 

আজ ১ জুন, বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব দুগ্ধ দিবস’। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) ২০০১ সাল থেকে দুধের পুষ্টিগুণ ও দুগ্ধখাতের গুরুত্ব তুলে ধরতেই এ দিবসটি পালন করে আসছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দুধভিত্তিক শিল্পের সম্প্রসারণ।

বাংলাদেশেও দিবসটি নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালন করা হচ্ছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর রাজধানীর ফার্মগেটের কেআইবি মিলনায়তনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।

বিজ্ঞাপন

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রাণিসম্পদ দপ্তরগুলোও বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে দুগ্ধ পণ্যের বহুমুখীকরণে পরামর্শ ক্যাম্পেইন, প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী, বিনামূল্যে প্রাণিসম্পদ চিকিৎসাসেবা, কৃমিনাশক ও টিকা বিতরণ।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রায় ২০ লাখ দুগ্ধ খামারি রয়েছেন। দুধ উৎপাদনে গত এক দশকে বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ২০১২-১৩ অর্থবছরে যেখানে দুধের উৎপাদন ছিল ৫০ লাখ ৭০ হাজার টন, সেখানে ২০১৬-১৭ সালে তা বেড়ে হয় ৯২ লাখ টন। ২০২১-২২ অর্থবছরে উৎপাদন ১ কোটি ৩০ লাখ টনে পৌঁছায় এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৫২ লাখ ৫২ হাজার টনে।

তবে চাহিদার দিক থেকে এখনো ঘাটতি রয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে তরল দুধের চাহিদা প্রায় ১ কোটি ৫৬ লাখ ৬৮ হাজার টন। ফলে প্রায় ৪ লাখ টনের ঘাটতি থেকে যায়, যা পূরণে প্রতিবছর আমদানি করা হয় বিপুল পরিমাণ গুঁড়া দুধ।

বর্তমানে দেশে ৮ থেকে ৯ লাখ টন দুধ প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি করা হয় দই, ঘি, চিজ ও ফ্লেভারড মিল্কসহ বিভিন্ন পণ্য। তবে এখনো অধিকাংশ খামারি তাদের দুধ সরাসরি বাজারে বা মিষ্টির দোকানে বিক্রি করেন।

বিশ্ব দুগ্ধ দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরতে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে, হাড় গঠনে এবং রোগ প্রতিরোধে দুধের অপরিহার্য ভূমিকা নিয়ে ব্যাপকভাবে সচেতনতা ছড়ানো হচ্ছে। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও এগিয়ে এসে দুধ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে আরও দক্ষতা অর্জনের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

শিশুর পুষ্টি ও দুগ্ধশিল্পের অগ্রগতিতে বিশ্ব দুগ্ধ দিবস আজ

আপডেট সময় ০৮:৫৮:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ জুন ২০২৫

 

আজ ১ জুন, বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব দুগ্ধ দিবস’। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) ২০০১ সাল থেকে দুধের পুষ্টিগুণ ও দুগ্ধখাতের গুরুত্ব তুলে ধরতেই এ দিবসটি পালন করে আসছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দুধভিত্তিক শিল্পের সম্প্রসারণ।

বাংলাদেশেও দিবসটি নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালন করা হচ্ছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর রাজধানীর ফার্মগেটের কেআইবি মিলনায়তনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।

বিজ্ঞাপন

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রাণিসম্পদ দপ্তরগুলোও বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে দুগ্ধ পণ্যের বহুমুখীকরণে পরামর্শ ক্যাম্পেইন, প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী, বিনামূল্যে প্রাণিসম্পদ চিকিৎসাসেবা, কৃমিনাশক ও টিকা বিতরণ।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রায় ২০ লাখ দুগ্ধ খামারি রয়েছেন। দুধ উৎপাদনে গত এক দশকে বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ২০১২-১৩ অর্থবছরে যেখানে দুধের উৎপাদন ছিল ৫০ লাখ ৭০ হাজার টন, সেখানে ২০১৬-১৭ সালে তা বেড়ে হয় ৯২ লাখ টন। ২০২১-২২ অর্থবছরে উৎপাদন ১ কোটি ৩০ লাখ টনে পৌঁছায় এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৫২ লাখ ৫২ হাজার টনে।

তবে চাহিদার দিক থেকে এখনো ঘাটতি রয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে তরল দুধের চাহিদা প্রায় ১ কোটি ৫৬ লাখ ৬৮ হাজার টন। ফলে প্রায় ৪ লাখ টনের ঘাটতি থেকে যায়, যা পূরণে প্রতিবছর আমদানি করা হয় বিপুল পরিমাণ গুঁড়া দুধ।

বর্তমানে দেশে ৮ থেকে ৯ লাখ টন দুধ প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি করা হয় দই, ঘি, চিজ ও ফ্লেভারড মিল্কসহ বিভিন্ন পণ্য। তবে এখনো অধিকাংশ খামারি তাদের দুধ সরাসরি বাজারে বা মিষ্টির দোকানে বিক্রি করেন।

বিশ্ব দুগ্ধ দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরতে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে, হাড় গঠনে এবং রোগ প্রতিরোধে দুধের অপরিহার্য ভূমিকা নিয়ে ব্যাপকভাবে সচেতনতা ছড়ানো হচ্ছে। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও এগিয়ে এসে দুধ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে আরও দক্ষতা অর্জনের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।