ঢাকা ০৭:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :
নরসিংদীতে ছুরিকাঘাতে পিতাকে হত্যা, অভিযুক্ত ছেলে পলাতক নিখোঁজের চার দিন পর খালে বৃদ্ধার মরদেহ মাদক মামলার বিচার দ্রুত করতে ২২ ট্রাইব্যুনাল গঠন আমাদের বোমায় নারী-শিশু নিহত হচ্ছে, ট্রাম্পের সমালোচনায় মার্কিন কংগ্রেস সদস্য জনস্বার্থের প্রকল্পে নতুন অর্থের উৎস খুঁজছে সরকার: অর্থমন্ত্রী গ্যাস-বিদ্যুৎ নিয়ে পরামর্শ দিন, রাজপথে হুমকি নয়: রিজভী ‘যৌনাঙ্গ চুরি’র গুজবে আফ্রিকায় ৮০ জনের বেশি নিহত সাংবাদিকদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করছে সরকার: তথ্য প্রতিমন্ত্রী ধর্মঘট প্রত্যাহার ভারতীয়দের, শনিবার থেকে হিলি বন্দরে বাণিজ্য শুরু জেন-জিদের পর এবার শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে ভারতে জেন-আলফার বিক্ষোভ

শিশুর পুষ্টি ও দুগ্ধশিল্পের অগ্রগতিতে বিশ্ব দুগ্ধ দিবস আজ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৮:৫৮:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ জুন ২০২৫
  • / 561

ছবি সংগৃহীত

 

আজ ১ জুন, বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব দুগ্ধ দিবস’। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) ২০০১ সাল থেকে দুধের পুষ্টিগুণ ও দুগ্ধখাতের গুরুত্ব তুলে ধরতেই এ দিবসটি পালন করে আসছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দুধভিত্তিক শিল্পের সম্প্রসারণ।

বাংলাদেশেও দিবসটি নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালন করা হচ্ছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর রাজধানীর ফার্মগেটের কেআইবি মিলনায়তনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।

আরও পড়ুন  প্রচণ্ড গরমে শিশুর যত্ন: ভুল করলে হতে পারে বিপদ!

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রাণিসম্পদ দপ্তরগুলোও বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে দুগ্ধ পণ্যের বহুমুখীকরণে পরামর্শ ক্যাম্পেইন, প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী, বিনামূল্যে প্রাণিসম্পদ চিকিৎসাসেবা, কৃমিনাশক ও টিকা বিতরণ।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রায় ২০ লাখ দুগ্ধ খামারি রয়েছেন। দুধ উৎপাদনে গত এক দশকে বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ২০১২-১৩ অর্থবছরে যেখানে দুধের উৎপাদন ছিল ৫০ লাখ ৭০ হাজার টন, সেখানে ২০১৬-১৭ সালে তা বেড়ে হয় ৯২ লাখ টন। ২০২১-২২ অর্থবছরে উৎপাদন ১ কোটি ৩০ লাখ টনে পৌঁছায় এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৫২ লাখ ৫২ হাজার টনে।

তবে চাহিদার দিক থেকে এখনো ঘাটতি রয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে তরল দুধের চাহিদা প্রায় ১ কোটি ৫৬ লাখ ৬৮ হাজার টন। ফলে প্রায় ৪ লাখ টনের ঘাটতি থেকে যায়, যা পূরণে প্রতিবছর আমদানি করা হয় বিপুল পরিমাণ গুঁড়া দুধ।

বর্তমানে দেশে ৮ থেকে ৯ লাখ টন দুধ প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি করা হয় দই, ঘি, চিজ ও ফ্লেভারড মিল্কসহ বিভিন্ন পণ্য। তবে এখনো অধিকাংশ খামারি তাদের দুধ সরাসরি বাজারে বা মিষ্টির দোকানে বিক্রি করেন।

বিশ্ব দুগ্ধ দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরতে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে, হাড় গঠনে এবং রোগ প্রতিরোধে দুধের অপরিহার্য ভূমিকা নিয়ে ব্যাপকভাবে সচেতনতা ছড়ানো হচ্ছে। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও এগিয়ে এসে দুধ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে আরও দক্ষতা অর্জনের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

শিশুর পুষ্টি ও দুগ্ধশিল্পের অগ্রগতিতে বিশ্ব দুগ্ধ দিবস আজ

আপডেট সময় ০৮:৫৮:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ জুন ২০২৫

 

আজ ১ জুন, বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব দুগ্ধ দিবস’। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) ২০০১ সাল থেকে দুধের পুষ্টিগুণ ও দুগ্ধখাতের গুরুত্ব তুলে ধরতেই এ দিবসটি পালন করে আসছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দুধভিত্তিক শিল্পের সম্প্রসারণ।

বাংলাদেশেও দিবসটি নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালন করা হচ্ছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর রাজধানীর ফার্মগেটের কেআইবি মিলনায়তনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।

আরও পড়ুন  হামে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রাণিসম্পদ দপ্তরগুলোও বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে দুগ্ধ পণ্যের বহুমুখীকরণে পরামর্শ ক্যাম্পেইন, প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী, বিনামূল্যে প্রাণিসম্পদ চিকিৎসাসেবা, কৃমিনাশক ও টিকা বিতরণ।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রায় ২০ লাখ দুগ্ধ খামারি রয়েছেন। দুধ উৎপাদনে গত এক দশকে বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ২০১২-১৩ অর্থবছরে যেখানে দুধের উৎপাদন ছিল ৫০ লাখ ৭০ হাজার টন, সেখানে ২০১৬-১৭ সালে তা বেড়ে হয় ৯২ লাখ টন। ২০২১-২২ অর্থবছরে উৎপাদন ১ কোটি ৩০ লাখ টনে পৌঁছায় এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৫২ লাখ ৫২ হাজার টনে।

তবে চাহিদার দিক থেকে এখনো ঘাটতি রয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে তরল দুধের চাহিদা প্রায় ১ কোটি ৫৬ লাখ ৬৮ হাজার টন। ফলে প্রায় ৪ লাখ টনের ঘাটতি থেকে যায়, যা পূরণে প্রতিবছর আমদানি করা হয় বিপুল পরিমাণ গুঁড়া দুধ।

বর্তমানে দেশে ৮ থেকে ৯ লাখ টন দুধ প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি করা হয় দই, ঘি, চিজ ও ফ্লেভারড মিল্কসহ বিভিন্ন পণ্য। তবে এখনো অধিকাংশ খামারি তাদের দুধ সরাসরি বাজারে বা মিষ্টির দোকানে বিক্রি করেন।

বিশ্ব দুগ্ধ দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরতে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে, হাড় গঠনে এবং রোগ প্রতিরোধে দুধের অপরিহার্য ভূমিকা নিয়ে ব্যাপকভাবে সচেতনতা ছড়ানো হচ্ছে। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও এগিয়ে এসে দুধ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে আরও দক্ষতা অর্জনের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।