০৩:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
শিরোনাম :
সাংবাদিকতার স্বাধীনতা টিকিয়ে রাখতে আর্থিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক স্বনির্ভরতা জরুরি: শফিক রেহমান হাসনাত আব্দুল্লাহর প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল চরমোনাইয়ের জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করবে জামায়াত জোট আইসিসি ভারতীয় কর্মকর্তাকে ভিসা দেয়নি বাংলাদেশ, ভারতীয় মিডিয়ার দাবি একটি দল নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার সুযোগ খুঁজছে: সালাহউদ্দিন আহমদ বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করেছে : তারেক রহমান আচরণবিধি লঙ্ঘন: অপসাংবাদিকতার শিকার বললেন মামুনুল হক পোস্টাল ব্যালটের ডিজাইনে পরিবর্তন আনছে ইসি গুম ও নির্যাতনের শিকার পরিবারের পাশে তারেক রহমান জাতিসংঘের এলডিসি উত্তরণবিষয়ক প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফর স্থগিত

দেশে এক বছরে বেকারত্ব বেড়েছে ৩ লাখ ৩০ হাজার, বাড়ছে স্থবিরতা ও মূল্যস্ফীতির চাপ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:১০:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ মে ২০২৫
  • / 103

ছবি সংগৃহীত

 

দেশে বিনিয়োগে স্থবিরতা, লাগামছাড়া মূল্যস্ফীতি ও ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদের কারণে শ্রমবাজারে নেমেছে বড় ধাক্কা। চলতি অর্থবছরের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর প্রান্তিকে বেকার মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৭ লাখ ৩০ হাজারে। এক বছরের ব্যবধানে এই সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার।

পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সর্বশেষ পর্যালোচনায় উঠে এসেছে এ তথ্য। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, চলমান অর্থনৈতিক চাপে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি থমকে গেছে। পাশাপাশি পুরোনো অনেক খাতে কর্মী ছাঁটাইও বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে সার্বিক শ্রমবাজারে।

বিজ্ঞাপন

এই প্রসঙ্গে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম সচিব দীপংকর রায় বলেন, ‘আগের অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই প্রান্তিকে সেবা খাতেই বেকারত্ব সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। এবং এই বেকার জনসংখ্যার বড় একটি অংশই নারী।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিনিয়োগে স্থবিরতা ও উৎপাদনশীল খাতে ধীরগতির কারণে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে না। শিল্প ও ব্যবসা খাত চরম চাপের মধ্যে রয়েছে। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান লোকবল কমিয়ে খরচ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। এতে করে বড় একটি জনগোষ্ঠী কর্মহীন হয়ে পড়ছে।

এ ছাড়া ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদে উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছেন। যার প্রভাব পড়ছে উৎপাদনে এবং শ্রমবাজারে। মধ্যম মানের কাজের সুযোগ কমে যাওয়ায় নতুন শিক্ষিত তরুণ-তরুণীরা কর্মহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সংকট মোকাবেলায় উৎপাদন ও সেবা খাতে বিশেষ প্রণোদনা, বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালা এবং নারী কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

বর্তমানে দেশে শ্রমবাজারে সক্রিয় জনসংখ্যা বাড়লেও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সেভাবে তৈরি হচ্ছে না। ফলে চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা বেড়েছে, এবং বেকারত্ব সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, স্থায়ী ও টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য শিল্পোন্নয়ন, দক্ষতা উন্নয়ন ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করাই হতে পারে সমাধানের পথ। নতুবা বেকার জনগোষ্ঠী দেশের অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

দেশে এক বছরে বেকারত্ব বেড়েছে ৩ লাখ ৩০ হাজার, বাড়ছে স্থবিরতা ও মূল্যস্ফীতির চাপ

আপডেট সময় ১১:১০:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ মে ২০২৫

 

দেশে বিনিয়োগে স্থবিরতা, লাগামছাড়া মূল্যস্ফীতি ও ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদের কারণে শ্রমবাজারে নেমেছে বড় ধাক্কা। চলতি অর্থবছরের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর প্রান্তিকে বেকার মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৭ লাখ ৩০ হাজারে। এক বছরের ব্যবধানে এই সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার।

পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সর্বশেষ পর্যালোচনায় উঠে এসেছে এ তথ্য। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, চলমান অর্থনৈতিক চাপে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি থমকে গেছে। পাশাপাশি পুরোনো অনেক খাতে কর্মী ছাঁটাইও বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে সার্বিক শ্রমবাজারে।

বিজ্ঞাপন

এই প্রসঙ্গে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম সচিব দীপংকর রায় বলেন, ‘আগের অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই প্রান্তিকে সেবা খাতেই বেকারত্ব সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। এবং এই বেকার জনসংখ্যার বড় একটি অংশই নারী।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিনিয়োগে স্থবিরতা ও উৎপাদনশীল খাতে ধীরগতির কারণে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে না। শিল্প ও ব্যবসা খাত চরম চাপের মধ্যে রয়েছে। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান লোকবল কমিয়ে খরচ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। এতে করে বড় একটি জনগোষ্ঠী কর্মহীন হয়ে পড়ছে।

এ ছাড়া ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদে উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছেন। যার প্রভাব পড়ছে উৎপাদনে এবং শ্রমবাজারে। মধ্যম মানের কাজের সুযোগ কমে যাওয়ায় নতুন শিক্ষিত তরুণ-তরুণীরা কর্মহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সংকট মোকাবেলায় উৎপাদন ও সেবা খাতে বিশেষ প্রণোদনা, বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালা এবং নারী কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

বর্তমানে দেশে শ্রমবাজারে সক্রিয় জনসংখ্যা বাড়লেও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সেভাবে তৈরি হচ্ছে না। ফলে চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা বেড়েছে, এবং বেকারত্ব সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, স্থায়ী ও টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য শিল্পোন্নয়ন, দক্ষতা উন্নয়ন ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করাই হতে পারে সমাধানের পথ। নতুবা বেকার জনগোষ্ঠী দেশের অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ সৃষ্টি করতে পারে।