ঢাকা ০২:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশে এক বছরে বেকারত্ব বেড়েছে ৩ লাখ ৩০ হাজার, বাড়ছে স্থবিরতা ও মূল্যস্ফীতির চাপ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:১০:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ মে ২০২৫
  • / 216

ছবি সংগৃহীত

 

দেশে বিনিয়োগে স্থবিরতা, লাগামছাড়া মূল্যস্ফীতি ও ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদের কারণে শ্রমবাজারে নেমেছে বড় ধাক্কা। চলতি অর্থবছরের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর প্রান্তিকে বেকার মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৭ লাখ ৩০ হাজারে। এক বছরের ব্যবধানে এই সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার।

পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সর্বশেষ পর্যালোচনায় উঠে এসেছে এ তথ্য। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, চলমান অর্থনৈতিক চাপে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি থমকে গেছে। পাশাপাশি পুরোনো অনেক খাতে কর্মী ছাঁটাইও বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে সার্বিক শ্রমবাজারে।

আরও পড়ুন  ২ জুন ঘোষণা আসছে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট: গুরুত্ব পাচ্ছে মূল্যস্ফীতি ও করনীতি

এই প্রসঙ্গে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম সচিব দীপংকর রায় বলেন, ‘আগের অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই প্রান্তিকে সেবা খাতেই বেকারত্ব সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। এবং এই বেকার জনসংখ্যার বড় একটি অংশই নারী।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিনিয়োগে স্থবিরতা ও উৎপাদনশীল খাতে ধীরগতির কারণে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে না। শিল্প ও ব্যবসা খাত চরম চাপের মধ্যে রয়েছে। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান লোকবল কমিয়ে খরচ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। এতে করে বড় একটি জনগোষ্ঠী কর্মহীন হয়ে পড়ছে।

এ ছাড়া ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদে উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছেন। যার প্রভাব পড়ছে উৎপাদনে এবং শ্রমবাজারে। মধ্যম মানের কাজের সুযোগ কমে যাওয়ায় নতুন শিক্ষিত তরুণ-তরুণীরা কর্মহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সংকট মোকাবেলায় উৎপাদন ও সেবা খাতে বিশেষ প্রণোদনা, বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালা এবং নারী কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

বর্তমানে দেশে শ্রমবাজারে সক্রিয় জনসংখ্যা বাড়লেও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সেভাবে তৈরি হচ্ছে না। ফলে চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা বেড়েছে, এবং বেকারত্ব সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, স্থায়ী ও টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য শিল্পোন্নয়ন, দক্ষতা উন্নয়ন ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করাই হতে পারে সমাধানের পথ। নতুবা বেকার জনগোষ্ঠী দেশের অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

দেশে এক বছরে বেকারত্ব বেড়েছে ৩ লাখ ৩০ হাজার, বাড়ছে স্থবিরতা ও মূল্যস্ফীতির চাপ

আপডেট সময় ১১:১০:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ মে ২০২৫

 

দেশে বিনিয়োগে স্থবিরতা, লাগামছাড়া মূল্যস্ফীতি ও ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদের কারণে শ্রমবাজারে নেমেছে বড় ধাক্কা। চলতি অর্থবছরের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর প্রান্তিকে বেকার মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৭ লাখ ৩০ হাজারে। এক বছরের ব্যবধানে এই সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার।

পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সর্বশেষ পর্যালোচনায় উঠে এসেছে এ তথ্য। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, চলমান অর্থনৈতিক চাপে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি থমকে গেছে। পাশাপাশি পুরোনো অনেক খাতে কর্মী ছাঁটাইও বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে সার্বিক শ্রমবাজারে।

আরও পড়ুন  শুল্ক যুদ্ধে উত্তাল বিশ্ববাজার: মূল্যস্ফীতি অস্বীকার ট্রাম্পের, হুমকি চীনের উদ্দেশে

এই প্রসঙ্গে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম সচিব দীপংকর রায় বলেন, ‘আগের অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই প্রান্তিকে সেবা খাতেই বেকারত্ব সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। এবং এই বেকার জনসংখ্যার বড় একটি অংশই নারী।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিনিয়োগে স্থবিরতা ও উৎপাদনশীল খাতে ধীরগতির কারণে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে না। শিল্প ও ব্যবসা খাত চরম চাপের মধ্যে রয়েছে। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান লোকবল কমিয়ে খরচ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। এতে করে বড় একটি জনগোষ্ঠী কর্মহীন হয়ে পড়ছে।

এ ছাড়া ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদে উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছেন। যার প্রভাব পড়ছে উৎপাদনে এবং শ্রমবাজারে। মধ্যম মানের কাজের সুযোগ কমে যাওয়ায় নতুন শিক্ষিত তরুণ-তরুণীরা কর্মহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সংকট মোকাবেলায় উৎপাদন ও সেবা খাতে বিশেষ প্রণোদনা, বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালা এবং নারী কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

বর্তমানে দেশে শ্রমবাজারে সক্রিয় জনসংখ্যা বাড়লেও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সেভাবে তৈরি হচ্ছে না। ফলে চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা বেড়েছে, এবং বেকারত্ব সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, স্থায়ী ও টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য শিল্পোন্নয়ন, দক্ষতা উন্নয়ন ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করাই হতে পারে সমাধানের পথ। নতুবা বেকার জনগোষ্ঠী দেশের অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ সৃষ্টি করতে পারে।