ঢাকা ১১:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

সুনামগঞ্জের হাওরে ধানের বাম্পার ফলন, ন্যায্য দামের শঙ্কায় কৃষক

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:৩০:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৫
  • / 907

ছবি সংগৃহীত

 

সুনামগঞ্জের হাওরে এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ধান কাটা, মাড়াই আর শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। তবে ধানের ন্যায্য দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় তারা। চারা রোপণের সময় দাদন ব্যবসায়ী ও মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে চাষ করেছিলেন কৃষকরা। সেই টাকা পরিশোধ করতে বৈশাখ মাসেই কম দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে।

হাওরের কৃষকদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ, আগামী দিনগুলো কীভাবে চলবে তারা জানেন না। সুনামগঞ্জে ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩ লাখ ৯৬ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন। কৃষি বিভাগের দাবি, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ধান উৎপাদিত হবে এবার।

আরও পড়ুন  সুনামগঞ্জে ট্রাক-সিএনজির সংঘর্ষে মা-মেয়েসহ নিহত ৩

সরকার এ বছর জেলার কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি কেজি ৩৬ টাকা দরে ১৪৪০ টাকা মণে মোট ১৪ হাজার ৬৪৫ মেট্রিক টন বোরো ধান কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। যা উৎপাদিত ধানের মাত্র ১ শতাংশ। হাওর পাড়ের সচেতন মহলের মতে, সরকার যে পরিমাণ ধান ক্রয় করে তা খুবই অপ্রতুল।

ফলে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পান না। কৃষকদের এই অধিকার রক্ষায় ধান সংগ্রহের পরিমাণ বাড়াতে হবে। প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে কমপক্ষে ৫-৬ টন করে ধান সংগ্রহ করলে তারা উপকৃত হবেন। সেই সঙ্গে গুদামের সিন্ডিকেট কঠোরভাবে দমন করতে হবে।

হাওরে অধিকাংশ কৃষক চড়া সুদে মহাজন ও ফড়িয়াদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে চাষ করেন। সেই ঋণ শোধ করতে গুদামে ধান দেওয়ার নানা জটিলতা, পরিবহন সমস্যা, অতিরিক্ত খরচের কারণে তারা বাধ্য হয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও মহাজনের কাছে ধান বিক্রি করেন।

এছাড়া, গুদামে ধান দিতে গেলে স্থানীয় সিন্ডিকেট ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা কৌশলে কৃষকের কাছ থেকে কম দামে কার্ড কিনে নিজেরাই ধান সরবরাহ করেন। এতে কৃষকরা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।

কৃষক সাদিক মিয়া জানান, সরকারি গুদামে ধান বিক্রিতে জটিলতা ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে আমরা অসহায়। সিন্ডিকেটের লোকজন প্রতি বছর কৃষকের কার্ড কিনে গুদামে ধান বিক্রি করে।

জেলার কৃষক মইনুল ইসলাম জানান, আমরা আবেদন করলেও নাম ওঠে না, অথচ সিন্ডিকেটের লোকজন ঠিকই ধান গুদামে দিতে পারে। মাঠ পর্যায়ে সরাসরি কৃষকদের থেকে ধান কিনলে আমরা লাভবান হব।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হুমায়ুন কবির জানান, নীতিমালা অনুযায়ী কার্যক্রম চলছে। সিন্ডিকেট ও ফড়িয়াদের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।

কৃষি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক মোস্তফা ইকবাল আজাদ বলেন, কৃষকদের গুদামে ধান দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে। লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে দেড় মেট্রিক টন করা হয়েছে। ধান সংগ্রহে কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

সুনামগঞ্জের হাওরে ধানের বাম্পার ফলন, ন্যায্য দামের শঙ্কায় কৃষক

আপডেট সময় ০২:৩০:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৫

 

সুনামগঞ্জের হাওরে এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ধান কাটা, মাড়াই আর শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। তবে ধানের ন্যায্য দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় তারা। চারা রোপণের সময় দাদন ব্যবসায়ী ও মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে চাষ করেছিলেন কৃষকরা। সেই টাকা পরিশোধ করতে বৈশাখ মাসেই কম দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে।

হাওরের কৃষকদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ, আগামী দিনগুলো কীভাবে চলবে তারা জানেন না। সুনামগঞ্জে ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩ লাখ ৯৬ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন। কৃষি বিভাগের দাবি, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ধান উৎপাদিত হবে এবার।

আরও পড়ুন  সুনামগঞ্জে ট্রাক-সিএনজির সংঘর্ষে মা-মেয়েসহ নিহত ৩

সরকার এ বছর জেলার কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি কেজি ৩৬ টাকা দরে ১৪৪০ টাকা মণে মোট ১৪ হাজার ৬৪৫ মেট্রিক টন বোরো ধান কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। যা উৎপাদিত ধানের মাত্র ১ শতাংশ। হাওর পাড়ের সচেতন মহলের মতে, সরকার যে পরিমাণ ধান ক্রয় করে তা খুবই অপ্রতুল।

ফলে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পান না। কৃষকদের এই অধিকার রক্ষায় ধান সংগ্রহের পরিমাণ বাড়াতে হবে। প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে কমপক্ষে ৫-৬ টন করে ধান সংগ্রহ করলে তারা উপকৃত হবেন। সেই সঙ্গে গুদামের সিন্ডিকেট কঠোরভাবে দমন করতে হবে।

হাওরে অধিকাংশ কৃষক চড়া সুদে মহাজন ও ফড়িয়াদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে চাষ করেন। সেই ঋণ শোধ করতে গুদামে ধান দেওয়ার নানা জটিলতা, পরিবহন সমস্যা, অতিরিক্ত খরচের কারণে তারা বাধ্য হয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও মহাজনের কাছে ধান বিক্রি করেন।

এছাড়া, গুদামে ধান দিতে গেলে স্থানীয় সিন্ডিকেট ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা কৌশলে কৃষকের কাছ থেকে কম দামে কার্ড কিনে নিজেরাই ধান সরবরাহ করেন। এতে কৃষকরা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।

কৃষক সাদিক মিয়া জানান, সরকারি গুদামে ধান বিক্রিতে জটিলতা ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে আমরা অসহায়। সিন্ডিকেটের লোকজন প্রতি বছর কৃষকের কার্ড কিনে গুদামে ধান বিক্রি করে।

জেলার কৃষক মইনুল ইসলাম জানান, আমরা আবেদন করলেও নাম ওঠে না, অথচ সিন্ডিকেটের লোকজন ঠিকই ধান গুদামে দিতে পারে। মাঠ পর্যায়ে সরাসরি কৃষকদের থেকে ধান কিনলে আমরা লাভবান হব।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হুমায়ুন কবির জানান, নীতিমালা অনুযায়ী কার্যক্রম চলছে। সিন্ডিকেট ও ফড়িয়াদের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।

কৃষি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক মোস্তফা ইকবাল আজাদ বলেন, কৃষকদের গুদামে ধান দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে। লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে দেড় মেট্রিক টন করা হয়েছে। ধান সংগ্রহে কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না।