ঢাকা ১২:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম :
ইশরাকের পদত্যাগের খবর ভিত্তিহীন, দাবি প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরের বক্স অফিসে ‘জেলার ২’-এর ঝড় আগারগাঁওয়ে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন ফিলিস্তিনিদের জলপাই চুরির পক্ষে ইসরাইলি রাব্বির ফতোয়া ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের সুদিন ফেরাতে আর্থিক সহায়তার জোরালো দাবি স্যামির আইয়ুব বাচ্চুর প্রয়াণ দিবসে তাঁকে উৎসর্গ করে কন্সট্যান্টের ‘শেষ বিকেল’ সাজেক ফেরার পথে চাঁদের গাড়ি উল্টে দুর্ঘটনা, আহত ৭ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মুম্বাইয়ে তলব করলেন রুবিও, চরম বিতর্কে মোদি সরকার ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আখলাকিকে নিয়োগ দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, সৌদি রাষ্ট্রদূতকে তলব

খরায় হাহাকার হাওড়ে, পানির সংকটে বিপন্ন মৌলভীবাজারের বোরো ফসল

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৩৯:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ এপ্রিল ২০২৫
  • / 760

ছবি সংগৃহীত

 

অনাবৃষ্টি আর খরার কারণে মৌলভীবাজারের হাইলহাওড়, কাউয়াদিঘি ও হাকালুকিসহ বেশ কয়েকটি হাওড় অঞ্চলের বিল শুকিয়ে গেছে। ফলে হাওড়পারের বিস্তীর্ণ বোরো জমি পড়েছে ভয়াবহ পানি সংকটে। ধান এখন থোড় আসার পর্যায়ে থাকলেও অনেক জমির ধান হলদে হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। কৃষকদের ভাষ্য, ইতোমধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ ফসল হুমকির মুখে।

গত বছর বন্যায় আমন ধানের ক্ষতির পর এবছর কৃষকেরা বোরো চাষেই ভরসা রেখেছিলেন। কৃষি বিভাগের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি প্রায় এক হাজার হেক্টর জমিতে এবছর চাষ হয়েছে। সরকার বিনামূল্যে সার ও বীজ সরবরাহ করায় ৪৭ হাজার কৃষক উপকৃত হন। মনুনদী প্রকল্পের আওতায় কিছু এলাকায় আগেভাগেই সেচের পানি সরবরাহও করা হয়েছিল। মাঠে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন  বড়লেখা ও মাগুরায় শিশু ধর্ষণের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠল জনতা, ধর্ষকদের ফাঁসির দাবি

তবে মার্চের শেষ ভাগ থেকে বৃষ্টি না থাকায় ধীরে ধীরে জমি ফেটে যেতে থাকে। সেচ দিতে বাধ্য হয়ে অনেক কৃষক দুই-তিন কিলোমিটার দূর থেকে পাইপে করে পানি টানছেন। কিন্তু এতেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ফল।

শ্রীমঙ্গলের কৃষক সনজিত সূত্রধর বলেন, “বোরোতেই ভরসা ছিল। কিন্তু পানির অভাবে সব শেষ হয়ে যাচ্ছে।” রাজনগরের প্রদীপ নামে এক কৃষক জানান, “৩৫ কিয়ার জমিতে ফসল দিয়েছি। তোড় আসার সময় পানি না থাকায় ধান শুকিয়ে যাচ্ছে।”

কিছু কৃষকের অভিযোগ, উজানে প্রভাবশালীরা কোদালিছড়ার পানি আটকে রাখায় সংকট আরও বাড়ছে। কাসেমপুরের জলিল মিয়া ও আনসার আহমদ জানান, পানি না থাকায় থোড় ভালোভাবে আসছে না, এবার ধান চিঠা হওয়ার আশঙ্কা।

জেলা হাওড় রক্ষা আন্দোলনের নেতা খসরু মিয়া চৌধুরী বলেন, “ইজারাদাররা বিল শুকিয়ে মাছ ধরছে, এতে পানির স্তর কমে ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে।”

জেলা কৃষি কর্মকর্তা নাগিব মাহফুজ জানান, “খরা বড় সমস্যা হলেও বৃষ্টি হলে কিছুটা উপকার হবে।” এদিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসলাম উদ্দিন জানিয়েছেন, “একনেকে অনুমোদিত একটি সারফেস ওয়াটার প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে সেচ সমস্যা অনেকটা কাটবে।”

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর জেলার ৬২ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। উৎপাদনের টার্গেট ছিল ২ লাখ ৫৫ হাজার মেট্রিক টন চাল। তবে চলমান খরায় সেই লক্ষ্য অর্জন এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

খরায় হাহাকার হাওড়ে, পানির সংকটে বিপন্ন মৌলভীবাজারের বোরো ফসল

আপডেট সময় ১১:৩৯:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ এপ্রিল ২০২৫

 

অনাবৃষ্টি আর খরার কারণে মৌলভীবাজারের হাইলহাওড়, কাউয়াদিঘি ও হাকালুকিসহ বেশ কয়েকটি হাওড় অঞ্চলের বিল শুকিয়ে গেছে। ফলে হাওড়পারের বিস্তীর্ণ বোরো জমি পড়েছে ভয়াবহ পানি সংকটে। ধান এখন থোড় আসার পর্যায়ে থাকলেও অনেক জমির ধান হলদে হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। কৃষকদের ভাষ্য, ইতোমধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ ফসল হুমকির মুখে।

গত বছর বন্যায় আমন ধানের ক্ষতির পর এবছর কৃষকেরা বোরো চাষেই ভরসা রেখেছিলেন। কৃষি বিভাগের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি প্রায় এক হাজার হেক্টর জমিতে এবছর চাষ হয়েছে। সরকার বিনামূল্যে সার ও বীজ সরবরাহ করায় ৪৭ হাজার কৃষক উপকৃত হন। মনুনদী প্রকল্পের আওতায় কিছু এলাকায় আগেভাগেই সেচের পানি সরবরাহও করা হয়েছিল। মাঠে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন  মৌলভীবাজারে সিজদারত বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যা

তবে মার্চের শেষ ভাগ থেকে বৃষ্টি না থাকায় ধীরে ধীরে জমি ফেটে যেতে থাকে। সেচ দিতে বাধ্য হয়ে অনেক কৃষক দুই-তিন কিলোমিটার দূর থেকে পাইপে করে পানি টানছেন। কিন্তু এতেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ফল।

শ্রীমঙ্গলের কৃষক সনজিত সূত্রধর বলেন, “বোরোতেই ভরসা ছিল। কিন্তু পানির অভাবে সব শেষ হয়ে যাচ্ছে।” রাজনগরের প্রদীপ নামে এক কৃষক জানান, “৩৫ কিয়ার জমিতে ফসল দিয়েছি। তোড় আসার সময় পানি না থাকায় ধান শুকিয়ে যাচ্ছে।”

কিছু কৃষকের অভিযোগ, উজানে প্রভাবশালীরা কোদালিছড়ার পানি আটকে রাখায় সংকট আরও বাড়ছে। কাসেমপুরের জলিল মিয়া ও আনসার আহমদ জানান, পানি না থাকায় থোড় ভালোভাবে আসছে না, এবার ধান চিঠা হওয়ার আশঙ্কা।

জেলা হাওড় রক্ষা আন্দোলনের নেতা খসরু মিয়া চৌধুরী বলেন, “ইজারাদাররা বিল শুকিয়ে মাছ ধরছে, এতে পানির স্তর কমে ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে।”

জেলা কৃষি কর্মকর্তা নাগিব মাহফুজ জানান, “খরা বড় সমস্যা হলেও বৃষ্টি হলে কিছুটা উপকার হবে।” এদিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসলাম উদ্দিন জানিয়েছেন, “একনেকে অনুমোদিত একটি সারফেস ওয়াটার প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে সেচ সমস্যা অনেকটা কাটবে।”

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর জেলার ৬২ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। উৎপাদনের টার্গেট ছিল ২ লাখ ৫৫ হাজার মেট্রিক টন চাল। তবে চলমান খরায় সেই লক্ষ্য অর্জন এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।