পটুয়াখালীতে দুই উপজেলা বিএনপি কমিটি বিলুপ্ত: বহিষ্কৃত নেতার পক্ষে মিষ্টি বিতরণ
- আপডেট সময় ০৪:২৩:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
- / 31
পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় কার্যালয়। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক নির্দেশে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। তবে কমিটি বিলুপ্তির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের অনুসারীরা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করেছেন।
শনিবার রাত ১০টার দিকে গলাচিপা পৌর শহরের বিভিন্ন মিষ্টির দোকানে নেতাকর্মীদের ভিড় জমে যায়। মিষ্টি বিতরণের সময় আনন্দিত কর্মীরা বলেন, “আমরা এখন সব শৃঙ্খল থেকে মুক্ত। ১২ তারিখের নির্বাচনে মামুন ভাইকে বিজয়ী করে এই আসন আমরা তারেক রহমানকে উপহার দেব।” কমিটি বিলুপ্তির এই নির্দেশনা পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে পাঠিয়ে তা অবিলম্বে কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দলীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি দলীয় কোনো প্রার্থী না দিয়ে জোটগতভাবে গণঅধিকার পরিষদের একাংশের নেতা ভিপি নুরকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কেন্দ্রীয় এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে কঠোর নির্দেশনা থাকলেও গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলার একটি বড় অংশ এতে অনীহা দেখায়। অভিযোগ রয়েছে, এই নেতারা দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করে সদ্য বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের পক্ষে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় ছিলেন। বিষয়টি কেন্দ্রের নজরে এলে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় দ্রুত এই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এদিকে বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনকে আলোচনার জন্য বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে ডাকা হলেও তিনি তাতে সাড়া দেননি। বিলুপ্ত ঘোষিত গলাচিপা উপজেলা বিএনপির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “যে দলের নেতা বহিষ্কৃত হয়, সেখানে কর্মীরাও বহিষ্কৃত হওয়া স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। বরং এই ব্যবস্থা নিতে দেরি হয়েছে।” তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, তারা অন্য কোনো প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন না এবং হাসান মামুনের সঙ্গেই থাকবেন। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটন কমিটি বিলুপ্তির চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে এমন বড় সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা ও মেরুকরণের সৃষ্টি হয়েছে।



















