০৮:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
শিরোনাম :
৬ কোটি টন ধ্বংসস্তূপের নিচে গা*জা, অপসারণে লাগবে কমপক্ষে সাত বছর ইরানকে ধন্যবাদ জানালেন ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে কঠোর ট্রাম্প: বিরোধী দেশে শুল্ক আরোপের হুমকি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে অপ্রয়োজনীয় বিমান সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে গাজা প্রশাসনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে নতুন বেসামরিক কমিটি গঠন গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তায় যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন বিবেচনা করছে জার্মানি চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ির উপর শুল্ক কমালো কানাডা খালে পড়ে ট্রাক, পাকিস্তানে একই পরিবারের ১৪ জনের মৃত্যু সিলেটে তিন বাসের ভয়াবহ সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১০ ঢাকায় আংশিক মেঘলা ও কুয়াশার সম্ভাবনা

পানিবন্দী ১৭ হাজার পরিবার: ২৪০ কোটি টাকার ক্ষতির চিত্র

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৩১:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ জুলাই ২০২৫
  • / 242

ছবি: সংগৃহীত

 

নোয়াখালীতে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের ফলে সৃষ্ট বন্যায় এখন পর্যন্ত ২৪০ কোটি টাকারও বেশি ক্ষয়ক্ষতির হিসাব পাওয়া গেছে। জেলার ছয়টি উপজেলার অন্তত ১৭ হাজার ৪৬০ পরিবার এখনো পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ৮ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই দুর্যোগে জেলার মোট ৫৭টি ইউনিয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং প্রায় ২ লাখ ৩ হাজার মানুষ পানিবন্দী হন।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান জানান, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের মাধ্যমে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে এই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত ৪৫ হাজারেরও বেশি মানুষ এখনো পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছেন বলে জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

ক্ষতির দিক থেকে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে মৎস্য খাতে, যেখানে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩৫ কোটি ৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে শুধু বড় মাছ ভেসে গিয়ে ক্ষতি হয়েছে ১১২ কোটি টাকার বেশি এবং পোনা মাছের ক্ষতি ২২ কোটি টাকারও বেশি। কৃষি খাতে সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়েছে ৫ হাজার ৫০৭ হেক্টর জমির ফসল, আর আংশিক ক্ষতি হয়েছে আরও ২ হাজার ৬৬০ হেক্টরে। আমন ধানের বীজতলার ক্ষতি হয়েছে ৮৯১ হেক্টর জমিতে, যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫১ কোটি ১৮ লাখ টাকা। সুবর্ণচরের কৃষক জাহাঙ্গীর আলম জানান, তাঁর প্রায় ৪০ কেজি ধানের বীজতলা নষ্ট হয়েছে, যা দিয়ে চার একর জমি আবাদ করা যেত।

প্রাণিসম্পদ খাতেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। হাঁস-মুরগি মারা গিয়ে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৬ লাখ টাকা। এ ছাড়া কবিরহাট, সেনবাগ ও সুবর্ণচর উপজেলায় ৫৮টি বসতঘর আংশিক বা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ২৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। জেলার প্রায় ৬০০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থাও বিপর্যস্ত হয়েছে। শুধু সড়ক খাতে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩০ কোটি টাকা। অন্যদিকে কোম্পানীগঞ্জ, কবিরহাট ও হাতিয়ায় বাঁধ ও নদীর তীর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এই খাতের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৩ কোটি টাকা।

বন্যা পরবর্তী জলাবদ্ধতা এখনো পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। কবিরহাট, সদর, কোম্পানীগঞ্জ ও সেনবাগে জলাবদ্ধতা তুলনামূলক বেশি। এসব এলাকায় নিচু রাস্তা ও বাড়িঘরে এখনো পানি জমে রয়েছে। কাদিরহানিফ ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. আবদুল্লাহ জানান, তাঁর ওয়ার্ডের প্রায় ৫৫ শতাংশ বাড়িতে এখনো পানি জমে আছে। পাশের নোয়াখালী খাল দিয়ে পানি নামতে সময় নিচ্ছে, যা দুর্ভোগ দীর্ঘস্থায়ী করার আশঙ্কা তৈরি করছে।

জেলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, জুলাই মাসে যেখানে সাধারণত ৬৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়, সেখানে প্রথম ১০ দিনেই ৬২৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টির ফলে বন্যা ও জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি আরও প্রকট হয়েছে বলে জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

পানিবন্দী ১৭ হাজার পরিবার: ২৪০ কোটি টাকার ক্ষতির চিত্র

আপডেট সময় ১২:৩১:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ জুলাই ২০২৫

 

নোয়াখালীতে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের ফলে সৃষ্ট বন্যায় এখন পর্যন্ত ২৪০ কোটি টাকারও বেশি ক্ষয়ক্ষতির হিসাব পাওয়া গেছে। জেলার ছয়টি উপজেলার অন্তত ১৭ হাজার ৪৬০ পরিবার এখনো পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ৮ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই দুর্যোগে জেলার মোট ৫৭টি ইউনিয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং প্রায় ২ লাখ ৩ হাজার মানুষ পানিবন্দী হন।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান জানান, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের মাধ্যমে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে এই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত ৪৫ হাজারেরও বেশি মানুষ এখনো পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছেন বলে জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

ক্ষতির দিক থেকে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে মৎস্য খাতে, যেখানে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩৫ কোটি ৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে শুধু বড় মাছ ভেসে গিয়ে ক্ষতি হয়েছে ১১২ কোটি টাকার বেশি এবং পোনা মাছের ক্ষতি ২২ কোটি টাকারও বেশি। কৃষি খাতে সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়েছে ৫ হাজার ৫০৭ হেক্টর জমির ফসল, আর আংশিক ক্ষতি হয়েছে আরও ২ হাজার ৬৬০ হেক্টরে। আমন ধানের বীজতলার ক্ষতি হয়েছে ৮৯১ হেক্টর জমিতে, যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫১ কোটি ১৮ লাখ টাকা। সুবর্ণচরের কৃষক জাহাঙ্গীর আলম জানান, তাঁর প্রায় ৪০ কেজি ধানের বীজতলা নষ্ট হয়েছে, যা দিয়ে চার একর জমি আবাদ করা যেত।

প্রাণিসম্পদ খাতেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। হাঁস-মুরগি মারা গিয়ে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৬ লাখ টাকা। এ ছাড়া কবিরহাট, সেনবাগ ও সুবর্ণচর উপজেলায় ৫৮টি বসতঘর আংশিক বা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ২৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। জেলার প্রায় ৬০০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থাও বিপর্যস্ত হয়েছে। শুধু সড়ক খাতে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩০ কোটি টাকা। অন্যদিকে কোম্পানীগঞ্জ, কবিরহাট ও হাতিয়ায় বাঁধ ও নদীর তীর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এই খাতের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৩ কোটি টাকা।

বন্যা পরবর্তী জলাবদ্ধতা এখনো পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। কবিরহাট, সদর, কোম্পানীগঞ্জ ও সেনবাগে জলাবদ্ধতা তুলনামূলক বেশি। এসব এলাকায় নিচু রাস্তা ও বাড়িঘরে এখনো পানি জমে রয়েছে। কাদিরহানিফ ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. আবদুল্লাহ জানান, তাঁর ওয়ার্ডের প্রায় ৫৫ শতাংশ বাড়িতে এখনো পানি জমে আছে। পাশের নোয়াখালী খাল দিয়ে পানি নামতে সময় নিচ্ছে, যা দুর্ভোগ দীর্ঘস্থায়ী করার আশঙ্কা তৈরি করছে।

জেলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, জুলাই মাসে যেখানে সাধারণত ৬৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়, সেখানে প্রথম ১০ দিনেই ৬২৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টির ফলে বন্যা ও জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি আরও প্রকট হয়েছে বলে জানান তিনি।