ঢাকা ০৩:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সালের ১০ বছরের কারাদণ্ড শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলা: সাবেক দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন উত্তরাধিকার সূত্রে সন্তানের শরীর ও মনে মায়ের জিনের প্রভাব কতটুকু ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় আল জাজিরার সাংবাদিক মোহাম্মদ উইশাহ নিহত আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় আজ: ট্রাইব্যুনালে হাজির ৬ আসামি ছাত্র আন্দোলনের পরিচিত মুখ রাফিয়া সুলতানা রাফির অকাল প্রয়াণ চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগে ফের হরমুজ প্রণালি বন্ধ করল ইরান ‘প্রকৃত চুক্তি’ না মানলে ফের যুদ্ধের হুমকি: ইরানকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি শুক্রবার সকাল থেকে ২৪ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায় ২৭ হাজার টন অকটেন নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে মালয়েশীয়ার জাহাজ

সড়ক-রেল-নৌপথে মার্চে হতাহত ২৫০০ ছুঁইছুঁই; দুর্ঘটনার মূল কারণ বেপরোয়া গতি ও অব্যবস্থাপনা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:২৫:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬
  • / 59

ছবি সংগৃহীত

 

বিদায়ী মার্চ মাসে দেশের সড়ক, রেল ও নৌপথে দুর্ঘটনার এক ভয়াবহ পরিসংখ্যান সামনে এসেছে। মাসজুড়ে মোট ৬৭০টি দুর্ঘটনায় ৬৮২ জন নিহত এবং ১ হাজার ৭৯৬ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে কেবল সড়কেই ৬১৬টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৬১৯ জন। শনিবার (৪ এপ্রিল) বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিভাগীয় পরিসংখ্যান: শীর্ষে ঢাকা, নিচে বরিশাল
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে ঢাকা বিভাগে।
ঢাকা বিভাগ: ১৬০টি দুর্ঘটনায় ১৭০ জন নিহত ও ৩২০ জন আহত।
বরিশাল বিভাগ: সবচেয়ে কম দুর্ঘটনার রেকর্ড এই বিভাগে; ৩০টি দুর্ঘটনায় ২৭ জন নিহত ও ১২২ জন আহত।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশ-সৌদি সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী রিয়াদ

দুর্ঘটনার শিকার ও নিহতের পরিচয়
মার্চ মাসে প্রাণ হারানোদের মধ্যে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন। উল্লেখযোগ্যরা হলেন:
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী: ৫ জন পুলিশ, ১ জন আনসার ও ১ জন বিজিবি সদস্য।
পেশাজীবী: ১ জন চিকিৎসক, ১ জন আইনজীবী, ৩ জন প্রকৌশলী এবং ১৪ জন শিক্ষক।
সাধারণ যাত্রী ও অন্যান্য: ১৫০ জন চালক, ৮৪ জন পথচারী, ৭৪ জন নারী, ৮২ জন শিশু এবং ৬৭ জন শিক্ষার্থী।

রেল ও নৌপথের চিত্র
সড়কের পাশাপাশি রেল ও নৌপথও ছিল অনিরাপদ:
রেলপথ: ৪৫টি দুর্ঘটনায় ৫৪ জন নিহত এবং ২২৯ জন আহত হয়েছেন।
নৌপথ: ৯টি দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত এবং ১৯ জন আহত হয়েছেন; এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৩ জন।
দুর্ঘটনার নেপথ্যে প্রধান কারণসমূহ
যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী দুর্ঘটনার মূল কারণগুলো হলো:
মহাসড়কে মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশার অবাধ চলাচল।
রোড সাইন, মার্কিং ও সড়কবাতির অভাব।
অদক্ষ চালক ও ফিটনেসবিহীন যানবাহনের দাপট।
উল্টো পথে যান চলাচল এবং বেপরোয়া গতি।
ঈদযাত্রা স্পেশাল: বাসের ছাদে, ট্রাক-পিকআপে এবং ট্রেনের ছাদে ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত।

উত্তরণের উপায়: সমিতির সুপারিশ
সড়ক নিরাপদ করতে প্রতিবেদনে বেশ কিছু জরুরি সুপারিশ করা হয়েছে:
১. প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ফিটনেস ও লাইসেন্স প্রদান।
২. জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে রাতে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা নিশ্চিত করা।
৩. বিআরটিএ-র সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত ‘রোড সেফটি অডিট’ পরিচালনা।
৪. ফিটনেসবিহীন যান ও ব্যাটারিচালিত রিকশার নিবন্ধন বন্ধ করা।
৫. মহাসড়কে সার্ভিস লেন নির্মাণ এবং চাঁদাবাজি বন্ধ করা।

নিউজটি শেয়ার করুন

সড়ক-রেল-নৌপথে মার্চে হতাহত ২৫০০ ছুঁইছুঁই; দুর্ঘটনার মূল কারণ বেপরোয়া গতি ও অব্যবস্থাপনা

আপডেট সময় ০৫:২৫:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

 

বিদায়ী মার্চ মাসে দেশের সড়ক, রেল ও নৌপথে দুর্ঘটনার এক ভয়াবহ পরিসংখ্যান সামনে এসেছে। মাসজুড়ে মোট ৬৭০টি দুর্ঘটনায় ৬৮২ জন নিহত এবং ১ হাজার ৭৯৬ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে কেবল সড়কেই ৬১৬টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৬১৯ জন। শনিবার (৪ এপ্রিল) বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিভাগীয় পরিসংখ্যান: শীর্ষে ঢাকা, নিচে বরিশাল
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে ঢাকা বিভাগে।
ঢাকা বিভাগ: ১৬০টি দুর্ঘটনায় ১৭০ জন নিহত ও ৩২০ জন আহত।
বরিশাল বিভাগ: সবচেয়ে কম দুর্ঘটনার রেকর্ড এই বিভাগে; ৩০টি দুর্ঘটনায় ২৭ জন নিহত ও ১২২ জন আহত।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশে সামাজিক ব্যবসায় বিনিয়োগে সুইডেনকে আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

দুর্ঘটনার শিকার ও নিহতের পরিচয়
মার্চ মাসে প্রাণ হারানোদের মধ্যে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন। উল্লেখযোগ্যরা হলেন:
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী: ৫ জন পুলিশ, ১ জন আনসার ও ১ জন বিজিবি সদস্য।
পেশাজীবী: ১ জন চিকিৎসক, ১ জন আইনজীবী, ৩ জন প্রকৌশলী এবং ১৪ জন শিক্ষক।
সাধারণ যাত্রী ও অন্যান্য: ১৫০ জন চালক, ৮৪ জন পথচারী, ৭৪ জন নারী, ৮২ জন শিশু এবং ৬৭ জন শিক্ষার্থী।

রেল ও নৌপথের চিত্র
সড়কের পাশাপাশি রেল ও নৌপথও ছিল অনিরাপদ:
রেলপথ: ৪৫টি দুর্ঘটনায় ৫৪ জন নিহত এবং ২২৯ জন আহত হয়েছেন।
নৌপথ: ৯টি দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত এবং ১৯ জন আহত হয়েছেন; এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৩ জন।
দুর্ঘটনার নেপথ্যে প্রধান কারণসমূহ
যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী দুর্ঘটনার মূল কারণগুলো হলো:
মহাসড়কে মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশার অবাধ চলাচল।
রোড সাইন, মার্কিং ও সড়কবাতির অভাব।
অদক্ষ চালক ও ফিটনেসবিহীন যানবাহনের দাপট।
উল্টো পথে যান চলাচল এবং বেপরোয়া গতি।
ঈদযাত্রা স্পেশাল: বাসের ছাদে, ট্রাক-পিকআপে এবং ট্রেনের ছাদে ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত।

উত্তরণের উপায়: সমিতির সুপারিশ
সড়ক নিরাপদ করতে প্রতিবেদনে বেশ কিছু জরুরি সুপারিশ করা হয়েছে:
১. প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ফিটনেস ও লাইসেন্স প্রদান।
২. জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে রাতে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা নিশ্চিত করা।
৩. বিআরটিএ-র সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত ‘রোড সেফটি অডিট’ পরিচালনা।
৪. ফিটনেসবিহীন যান ও ব্যাটারিচালিত রিকশার নিবন্ধন বন্ধ করা।
৫. মহাসড়কে সার্ভিস লেন নির্মাণ এবং চাঁদাবাজি বন্ধ করা।