ঢাকা ০৬:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইরানকে চিরতরে দমানোর ছক করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ঃ হাকান ফিদান শেয়ারবাজার কারসাজি: সাকিবসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন পেছাল ইরান সমঝোতার জন্য প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও তাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। নওগাঁ আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপির একচেটিয়া জয়, শূন্য হাতে জামায়াত শাহজালাল বিমানবন্দরে চারদিনে ১৪৭ ফ্লাইট বাতিল দুদকে পরিবর্তন, চেয়ারম্যান-কমিশনারদের পদত্যাগ পলিটেকনিকে সংঘর্ষ: রক্তের ‘বদলা’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি ছাত্রদল সভাপতির বিলবোর্ড ও ব্যানার থেকে নিজের ছবি সরানোর নির্দেশ: প্রধানমন্ত্রী বলিভিয়া: আন্দেসের হৃদয়ে লুকানো বৈচিত্র্যময় দেশ মধ্যপ্রাচ্যের ১৫ দেশ ছাড়ার জরুরি নির্দেশ দিল যুক্তরাষ্ট্র

ট্রাইব্যুনালে টিএফআই–জেআইসি মামলার আসামি ১৩ সেনা কর্মকর্তা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:৫৩:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫
  • / 262

ছবি সংগৃহীত

 

শেখ হাসিনার দীর্ঘমেয়াদি শাসনামলে টিএফআই–জেআইসি সেলে বিরোধী রাজনৈতিক মতাবলম্বীদের তুলে নিয়ে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের দুই পৃথক মামলায় সেনাবাহিনীর ১৩ কর্মকর্তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। এ দুই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট আসামি ৩০ জন।

রোববার (২৩ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে প্রিজনভ্যানে করে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের আদালত চত্বরে আনা হয়। পরে তাদের একে একে হাজতখানায় নেয় পুলিশ।

আরও পড়ুন  দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে ধর্ষণ মামলার নিষ্পত্তির দাবি, ন্যায়বিচারের দাবিতে তীব্র প্রতিবাদ

ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল আজ দুই মামলার শুনানি গ্রহণ করছে। এদিন গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ফেরত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে এবং পলাতক আসামিদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ দেওয়া হতে পারে।

ট্রাইব্যুনালে আনা সেনা কর্মকর্তারা হলেন—
র‍্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, ব্রিগেডিয়ার কেএম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসরকালীন ছুটিতে), র‍্যাব গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম, ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভীর মাজাহার সিদ্দিকী।

সকালে ট্রাইব্যুনাল ও সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবির যৌথ অবস্থান ছিল পুরো প্রাঙ্গণজুড়ে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত।

এর আগে ২০ নভেম্বর এ দুই মামলার শুনানির দিন ধার্য থাকলেও প্রসিকিউশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে তা পিছিয়ে আজকের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। তারও আগে, ২২ অক্টোবর সেনা হেফাজতে থাকা ১৩ কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের হাজির করতে জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়, যা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

গত ৮ অক্টোবর মানবতাবিরোধী অপরাধের দুই মামলায় মোট ৩০ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। অভিযোগ আমলে নিয়ে ট্রাইব্যুনাল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। টিএফআই সেলে আটক রেখে নির্যাতনের ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনকে এক মামলায় আসামি করা হয়।

অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—
শেখ হাসিনার সাবেক প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ, র‍্যাবের সাবেক ডিজি এম খুরশিদ হোসেন, সাবেক মহাপরিচালক ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদসহ র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর আরও বেশ কয়েকজন সাবেক-বর্তমান কর্মকর্তা। এ মামলায় এখন পর্যন্ত ১০ সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার আছেন।

জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল (জেআইসি) বা ‘আয়নাঘর’-এ গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা অপর মামলায় ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। এতে শেখ হাসিনা ও তারিক আহমেদ সিদ্দিকসহ সাবেক ডিজিএফআই মহাপরিচালকদের নাম রয়েছে। এ মামলায় তিনজন কারাগারে থাকলেও বাকিরা পলাতক।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্রাইব্যুনালে টিএফআই–জেআইসি মামলার আসামি ১৩ সেনা কর্মকর্তা

আপডেট সময় ০১:৫৩:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫

 

শেখ হাসিনার দীর্ঘমেয়াদি শাসনামলে টিএফআই–জেআইসি সেলে বিরোধী রাজনৈতিক মতাবলম্বীদের তুলে নিয়ে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের দুই পৃথক মামলায় সেনাবাহিনীর ১৩ কর্মকর্তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। এ দুই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট আসামি ৩০ জন।

রোববার (২৩ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে প্রিজনভ্যানে করে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের আদালত চত্বরে আনা হয়। পরে তাদের একে একে হাজতখানায় নেয় পুলিশ।

আরও পড়ুন  রাউজানের সাবেক এমপি ফজলে করীমসহ ৩ আসামি ট্রাইব্যুনালে হাজির

ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল আজ দুই মামলার শুনানি গ্রহণ করছে। এদিন গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ফেরত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে এবং পলাতক আসামিদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ দেওয়া হতে পারে।

ট্রাইব্যুনালে আনা সেনা কর্মকর্তারা হলেন—
র‍্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, ব্রিগেডিয়ার কেএম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসরকালীন ছুটিতে), র‍্যাব গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম, ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভীর মাজাহার সিদ্দিকী।

সকালে ট্রাইব্যুনাল ও সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবির যৌথ অবস্থান ছিল পুরো প্রাঙ্গণজুড়ে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত।

এর আগে ২০ নভেম্বর এ দুই মামলার শুনানির দিন ধার্য থাকলেও প্রসিকিউশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে তা পিছিয়ে আজকের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। তারও আগে, ২২ অক্টোবর সেনা হেফাজতে থাকা ১৩ কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের হাজির করতে জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়, যা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

গত ৮ অক্টোবর মানবতাবিরোধী অপরাধের দুই মামলায় মোট ৩০ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। অভিযোগ আমলে নিয়ে ট্রাইব্যুনাল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। টিএফআই সেলে আটক রেখে নির্যাতনের ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনকে এক মামলায় আসামি করা হয়।

অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—
শেখ হাসিনার সাবেক প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ, র‍্যাবের সাবেক ডিজি এম খুরশিদ হোসেন, সাবেক মহাপরিচালক ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদসহ র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর আরও বেশ কয়েকজন সাবেক-বর্তমান কর্মকর্তা। এ মামলায় এখন পর্যন্ত ১০ সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার আছেন।

জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল (জেআইসি) বা ‘আয়নাঘর’-এ গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা অপর মামলায় ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। এতে শেখ হাসিনা ও তারিক আহমেদ সিদ্দিকসহ সাবেক ডিজিএফআই মহাপরিচালকদের নাম রয়েছে। এ মামলায় তিনজন কারাগারে থাকলেও বাকিরা পলাতক।