ঢাকা ১০:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ঢাকাসহ ৪ বিভাগে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা: বাড়তে পারে দিনের তাপমাত্রা দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে আর জড়াবে না যুক্তরাষ্ট্র: ফক্স নিউজকে জেডি ভ্যান্স ইরানকে চিরতরে দমানোর ছক করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ঃ হাকান ফিদান শেয়ারবাজার কারসাজি: সাকিবসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন পেছাল ইরান সমঝোতার জন্য প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও তাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। নওগাঁ আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপির একচেটিয়া জয়, শূন্য হাতে জামায়াত শাহজালাল বিমানবন্দরে চারদিনে ১৪৭ ফ্লাইট বাতিল দুদকে পরিবর্তন, চেয়ারম্যান-কমিশনারদের পদত্যাগ পলিটেকনিকে সংঘর্ষ: রক্তের ‘বদলা’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি ছাত্রদল সভাপতির বিলবোর্ড ও ব্যানার থেকে নিজের ছবি সরানোর নির্দেশ: প্রধানমন্ত্রী

মিয়ানমারের ভূমিকম্পে মৃত্যু ছাড়াল ৩ হাজার ৬০০, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও মিলছে মরদেহ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:১২:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ এপ্রিল ২০২৫
  • / 221

ছবি সংগৃহীত

 

ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত মিয়ানমারে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৬০০-এ। আহত হয়েছেন ৫ হাজারের বেশি মানুষ। এখনও চলছে উদ্ধার তৎপরতা, বিশেষ করে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মান্দালয় অঞ্চলে ধ্বংসস্তূপের নিচে মিলছে একের পর এক মরদেহ। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘর্ষের কারণে, যেখানে জাতিসংঘ জানিয়েছে ত্রাণ পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না।

গত ২৮ মার্চ দুপুরে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে মিয়ানমার। এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও স্বাভাবিক হয়নি জনজীবন। ভূমিকম্পের পরপরই একাধিক আফটারশক দেশটির জনমানসে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে মান্দালয়ে, যেখানে বহু ভবন ধসে পড়ে, রাস্তা-বাড়ি পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশ-মিয়ানমার করিডরে চীনের সম্পৃক্ততা নেই: চীনা রাষ্ট্রদূত

স্থানীয় প্রশাসনের বরাতে বার্তাসংস্থা আনাদোলু জানায়, এখনও উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষজনকে উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। দুর্যোগের মধ্যে আরও বিপর্যয় হয়ে দেখা দিয়েছে প্রবল বৃষ্টি ও ঝড়। এতে বহু মানুষ খোলা আকাশের নিচে জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন।

চীনের উদ্ধারকারী দল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় স্থাপন করেছে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র। মান্দালয়ের দুটি স্টেডিয়ামে গাদাগাদি করে বাস করছেন হাজারো মানুষ। তৃতীয় দফায় চীন থেকে এসেছে মানবিক সহায়তা। চীনা বিশেষজ্ঞরা ইতোমধ্যে প্রায় ৯০০টি ভবনের কাঠামো পর্যবেক্ষণ করেছেন, যাতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো যায়।

তবে সবচেয়ে বড় বাধা দেশজুড়ে চলমান গৃহযুদ্ধ। জান্তা বাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘর্ষের কারণে বহু দুর্গম অঞ্চলে পৌঁছানো যাচ্ছে না জরুরি সহায়তা। জাতিসংঘ আশঙ্কা করছে, সহিংসতা অব্যাহত থাকলে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম আরও ব্যাহত হবে।

গৃহযুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অর্থনৈতিক সংকট এই ত্রিমুখী দুর্যোগে বিপর্যস্ত মিয়ানমার। আন্তর্জাতিক সহায়তাই এখন তাদের একমাত্র ভরসা। মানবিক সংস্থাগুলোর মতে, সহিংসতা বন্ধ না হলে এই সংকট থেকে মিয়ানমারের উত্তরণ সম্ভব নয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

মিয়ানমারের ভূমিকম্পে মৃত্যু ছাড়াল ৩ হাজার ৬০০, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও মিলছে মরদেহ

আপডেট সময় ০১:১২:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ এপ্রিল ২০২৫

 

ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত মিয়ানমারে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৬০০-এ। আহত হয়েছেন ৫ হাজারের বেশি মানুষ। এখনও চলছে উদ্ধার তৎপরতা, বিশেষ করে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মান্দালয় অঞ্চলে ধ্বংসস্তূপের নিচে মিলছে একের পর এক মরদেহ। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘর্ষের কারণে, যেখানে জাতিসংঘ জানিয়েছে ত্রাণ পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না।

গত ২৮ মার্চ দুপুরে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে মিয়ানমার। এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও স্বাভাবিক হয়নি জনজীবন। ভূমিকম্পের পরপরই একাধিক আফটারশক দেশটির জনমানসে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে মান্দালয়ে, যেখানে বহু ভবন ধসে পড়ে, রাস্তা-বাড়ি পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে।

আরও পড়ুন  ঘূর্ণিঝড় গেজানির তাণ্ডবে মাদাগাস্কারে ৫৯ জনের মৃত্যু

স্থানীয় প্রশাসনের বরাতে বার্তাসংস্থা আনাদোলু জানায়, এখনও উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষজনকে উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। দুর্যোগের মধ্যে আরও বিপর্যয় হয়ে দেখা দিয়েছে প্রবল বৃষ্টি ও ঝড়। এতে বহু মানুষ খোলা আকাশের নিচে জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন।

চীনের উদ্ধারকারী দল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় স্থাপন করেছে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র। মান্দালয়ের দুটি স্টেডিয়ামে গাদাগাদি করে বাস করছেন হাজারো মানুষ। তৃতীয় দফায় চীন থেকে এসেছে মানবিক সহায়তা। চীনা বিশেষজ্ঞরা ইতোমধ্যে প্রায় ৯০০টি ভবনের কাঠামো পর্যবেক্ষণ করেছেন, যাতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো যায়।

তবে সবচেয়ে বড় বাধা দেশজুড়ে চলমান গৃহযুদ্ধ। জান্তা বাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘর্ষের কারণে বহু দুর্গম অঞ্চলে পৌঁছানো যাচ্ছে না জরুরি সহায়তা। জাতিসংঘ আশঙ্কা করছে, সহিংসতা অব্যাহত থাকলে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম আরও ব্যাহত হবে।

গৃহযুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অর্থনৈতিক সংকট এই ত্রিমুখী দুর্যোগে বিপর্যস্ত মিয়ানমার। আন্তর্জাতিক সহায়তাই এখন তাদের একমাত্র ভরসা। মানবিক সংস্থাগুলোর মতে, সহিংসতা বন্ধ না হলে এই সংকট থেকে মিয়ানমারের উত্তরণ সম্ভব নয়।