১১:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ: প্রশান্ত মহাসাগরের ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:১৫:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 41

ছবি: সংগৃহীত

মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ হলো প্রশান্ত মহাসাগরের মাঝামাঝি অবস্থিত একটি দ্বীপ রাষ্ট্র। এটি ওশেনিয়া মহাদেশের মাইক্রোনেশিয়া অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। দেশটি মোট ২৯টি প্রবাল অ্যাটল ও ৫টি পৃথক দ্বীপ নিয়ে গঠিত। রাজধানী মাজুরো।

ইতিহাসের শুরুতে, এখানকার দ্বীপগুলোতে মাইক্রোনেশীয় জনগোষ্ঠী বসবাস করত। ষোড়শ শতকে ইউরোপীয় নাবিকরা এই অঞ্চলে আসে। পরে এটি স্পেন, জার্মানি ও জাপানের নিয়ন্ত্রণে যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে আসে। ১৯৮৬ সালে দেশটি স্বাধীন রাষ্ট্রের মর্যাদা পায়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বিশেষ চুক্তি রয়েছে, যাকে “কমপ্যাক্ট অব ফ্রি অ্যাসোসিয়েশন” বলা হয়। এর মাধ্যমে দেশটি প্রতিরক্ষা ও আর্থিক সহায়তা পায়।

রাজনৈতিকভাবে, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ একটি গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র। প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় দেশটির পররাষ্ট্রনীতি ও নিরাপত্তায় তাদের প্রভাব রয়েছে।

নাগরিক সুবিধার কথা বললে, প্রাথমিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় কিছু উন্নয়নমূলক প্রকল্প পরিচালিত হয়। তবে দেশটির বড় চ্যালেঞ্জ হলো সীমিত অর্থনীতি, কর্মসংস্থানের অভাব এবং আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি দ্বীপগুলোর জন্য বড় হুমকি।

একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ১৯৪৬ থেকে ১৯৫৮ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এখানে পারমাণবিক পরীক্ষা চালায়। এর ফলে পরিবেশ ও মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ে, যা এখনো একটি আলোচিত বিষয়।

ধর্মীয়ভাবে, দেশের অধিকাংশ মানুষ খ্রিস্টান। মুসলিম জনসংখ্যা খুবই কম। উল্লেখযোগ্য কোনো ঐতিহাসিক মুসলিম অবদান নেই, তবে ছোট পরিসরে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছে।

ভ্রমণ ও পর্যটনের ক্ষেত্রে, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ তার স্বচ্ছ নীল পানি, প্রবাল প্রাচীর ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসাবশেষের জন্য পরিচিত। স্কুবা ডাইভিং ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য এখানে বড় আকর্ষণ। তবে দূরত্ব ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে পর্যটন এখনো ব্যাপকভাবে উন্নত হয়নি।

সব মিলিয়ে, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ ছোট আকারের হলেও ইতিহাস, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং জলবায়ু সংকটের দিক থেকে বিশ্ব রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ধরে রেখেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ: প্রশান্ত মহাসাগরের ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র

আপডেট সময় ০৪:১৫:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ হলো প্রশান্ত মহাসাগরের মাঝামাঝি অবস্থিত একটি দ্বীপ রাষ্ট্র। এটি ওশেনিয়া মহাদেশের মাইক্রোনেশিয়া অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। দেশটি মোট ২৯টি প্রবাল অ্যাটল ও ৫টি পৃথক দ্বীপ নিয়ে গঠিত। রাজধানী মাজুরো।

ইতিহাসের শুরুতে, এখানকার দ্বীপগুলোতে মাইক্রোনেশীয় জনগোষ্ঠী বসবাস করত। ষোড়শ শতকে ইউরোপীয় নাবিকরা এই অঞ্চলে আসে। পরে এটি স্পেন, জার্মানি ও জাপানের নিয়ন্ত্রণে যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে আসে। ১৯৮৬ সালে দেশটি স্বাধীন রাষ্ট্রের মর্যাদা পায়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বিশেষ চুক্তি রয়েছে, যাকে “কমপ্যাক্ট অব ফ্রি অ্যাসোসিয়েশন” বলা হয়। এর মাধ্যমে দেশটি প্রতিরক্ষা ও আর্থিক সহায়তা পায়।

রাজনৈতিকভাবে, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ একটি গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র। প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় দেশটির পররাষ্ট্রনীতি ও নিরাপত্তায় তাদের প্রভাব রয়েছে।

নাগরিক সুবিধার কথা বললে, প্রাথমিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় কিছু উন্নয়নমূলক প্রকল্প পরিচালিত হয়। তবে দেশটির বড় চ্যালেঞ্জ হলো সীমিত অর্থনীতি, কর্মসংস্থানের অভাব এবং আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি দ্বীপগুলোর জন্য বড় হুমকি।

একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ১৯৪৬ থেকে ১৯৫৮ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এখানে পারমাণবিক পরীক্ষা চালায়। এর ফলে পরিবেশ ও মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ে, যা এখনো একটি আলোচিত বিষয়।

ধর্মীয়ভাবে, দেশের অধিকাংশ মানুষ খ্রিস্টান। মুসলিম জনসংখ্যা খুবই কম। উল্লেখযোগ্য কোনো ঐতিহাসিক মুসলিম অবদান নেই, তবে ছোট পরিসরে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছে।

ভ্রমণ ও পর্যটনের ক্ষেত্রে, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ তার স্বচ্ছ নীল পানি, প্রবাল প্রাচীর ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসাবশেষের জন্য পরিচিত। স্কুবা ডাইভিং ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য এখানে বড় আকর্ষণ। তবে দূরত্ব ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে পর্যটন এখনো ব্যাপকভাবে উন্নত হয়নি।

সব মিলিয়ে, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ ছোট আকারের হলেও ইতিহাস, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং জলবায়ু সংকটের দিক থেকে বিশ্ব রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ধরে রেখেছে।