১১:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চলতি বিশ্বকাপে রানের রেকর্ড গড়ে ওমানকে ধরাশায়ী করল আয়ারল্যান্ড

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:০০:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 22

ছবি: সংগৃহীত

গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার আগেই পাঁচটি ২০০+ স্কোর; এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ যেন রেকর্ডের খাতা উল্টেপাল্টে দিচ্ছে! এক আসরে সবচেয়ে বেশিবার ২০০ ছাড়ানো স্কোরের বিশ্বরেকর্ড এখন ২০২৬ বিশ্বকাপের দখলে। ১৯ বছর আগে ২০০৭ বিশ্বকাপে ৫ বার এমন দলীয় স্কোর দেখা গিয়েছিল, আর এবার গ্রুপ পর্বেই সেই মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলল ব্যাটাররা।

কলম্বোর মাঠে আজ ওমানের বোলারদের শাসন করে ৫ উইকেটে ২৩৫ রান তুলেছে আয়ারল্যান্ড। এটি চলতি আসরের সর্বোচ্চ স্কোর তো বটেই, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসেও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। কেনিয়ার বিপক্ষে করা শ্রীলঙ্কার ২৬০ রানের সেই ১৮ বছর পুরনো রেকর্ডটিই কেবল এখন আইরিশদের ওপরে।

র‍্যাঙ্কিংয়ের ২০ নম্বর দল ওমানের জন্য আয়ারল্যান্ডের রানের পাহাড় টপকানো যে অসম্ভব ছিল, তা ম্যাচের শুরুতেই পরিষ্কার হয়ে যায়। ৯৬ রানের বড় হার ওমানের ব্যাটিং ব্যর্থতাকেই স্পষ্ট করেছে। গ্রুপ পর্বের শেষ তিন ম্যাচে আজই তারা তাদের সর্বোচ্চ ১৩৯ রান করতে পেরেছে, কিন্তু তা হয়েছে মাত্র ১৮ ওভার খেলে। টানা তিন হারে ‘বি’ গ্রুপ থেকে ওমানের বিদায় এখন নিশ্চিত।

আয়ারল্যান্ডের ইনিংসের শুরুটা ছিল রীতিমতো দুঃস্বপ্নের মতো। প্রথম ৫ ওভারের মধ্যেই মাত্র ৪৫ রানে টপ অর্ডারের ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল তারা। ৭.৩ ওভারে যখন ৬৪ রানে চতুর্থ উইকেটের পতন ঘটে, তখন আইরিশ সমর্থকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়াটাই ছিল স্বাভাবিক। টিম টেক্টর (৫), রস আদাইর (১৪), হ্যারি টেক্টর (১২) ও কার্টিস ক্যাম্ফার (১৪)—টপ অর্ডারের কেউই থিতু হতে পারেননি।
আয়ারল্যান্ডকে ম্যাচে ফেরায় পঞ্চম উইকেটে অধিনায়ক লোরকান টাকার ও গ্যারেথ ডেলানির ৫৬ বলে ১০১ রানের বিধ্বংসী জুটি। কিন্তু নাটকের তখনও বাকি ছিল! ষষ্ঠ উইকেটে টাকারের সঙ্গে জর্জ ডকরেল যখন যোগ দিলেন, ওমানের বোলারদের ওপর দিয়ে যেন স্টিমরোলার চলল—মাত্র ১৯ বলে এলো ৭০ রান!

৪টি ছক্কা ও ১০টি চারের সাহায্যে ৫১ বলে অপরাজিত ৯৪ রান করেছেন টাকার। এছাড়া ডেলানি করেন ৩০ বলে ৫৬ রান এবং ৯ বলে ৩৫ রানে অপরাজিত ছিলেন ডকরেল।

অধিনায়ক হিসেবে ক্রিস গেইলের গড়া পাহাড়সম রানের রেকর্ডের ঠিক পেছনেই এখন জায়গা করে নিয়েছেন লরকান টাকার। ম্যাচের শেষ দিকে আইরিশ ব্যাটারদের বিধ্বংসী মেজাজে শেষ ৫ ওভার থেকে আসে রেকর্ড ৯৩ রান, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে ডেথ ওভারের তৃতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহ। এই দাপুটে ব্যাটিংয়ের মূল কারিগর ছিলেন টাকার ও ডকরেল। তাঁদের অবিচ্ছিন্ন ৭০ রানের জুটিতে ওভারপ্রতি রান উঠেছে রেকর্ড ২২.১০ করে, যা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্রুততম রানের জুটির রেকর্ডটিও এখন আয়ারল্যান্ডের দখলে। ২০১০ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার মাইক হাসি এবং মিচেল জনসনের গড়া ১৯.৮৭ রান রেটের রেকর্ডটি দীর্ঘ ১৫ বছর অক্ষুণ্ণ ছিল। ১৬ বলে ৫৩ রানের সেই রেকর্ড ভেঙে লরকান টাকার ও ডকরেল জুটি ওভারপ্রতি গড়ে ২২.১০ রান তুলে ইতিহাস গড়েছেন। তাঁদের এই ৭০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিটি এখন বিশ্বকাপের যেকোনো জুটিতে ওভারপ্রতি রানের হিসেবে সর্বকালের সেরা।

ওমানের ইনিংসটি ছিল মূলত ‘দুই অর্ধে’র গল্প। প্রথম ১০ ওভারে ২ উইকেটে ৮৫ রান তুলে তারা জয়ের পথেই ছিল, কিন্তু মিডল অর্ডারের ব্যাটিং ধস তাদের ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে দেয়। মাত্র ৫৪ রানের ব্যবধানে শেষ ৮ উইকেট হারানো প্রমাণ করে যে চাপের মুখে ওমানের লোয়ার-অর্ডার কতটা ভঙ্গুর। তবে ব্যক্তিগত অর্জনে উজ্জ্বল ছিলেন আমির কলিম; ৪৪ বছর বয়সে তাঁর এই ফিফটি কেবল ওমানের জন্যই নয়, বরং আইসিসি টুর্নামেন্টের ইতিহাসে বয়োজ্যেষ্ঠ ক্রিকেটারদের জন্য এক নতুন অনুপ্রেরণা।

নিউজটি শেয়ার করুন

চলতি বিশ্বকাপে রানের রেকর্ড গড়ে ওমানকে ধরাশায়ী করল আয়ারল্যান্ড

আপডেট সময় ০৭:০০:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার আগেই পাঁচটি ২০০+ স্কোর; এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ যেন রেকর্ডের খাতা উল্টেপাল্টে দিচ্ছে! এক আসরে সবচেয়ে বেশিবার ২০০ ছাড়ানো স্কোরের বিশ্বরেকর্ড এখন ২০২৬ বিশ্বকাপের দখলে। ১৯ বছর আগে ২০০৭ বিশ্বকাপে ৫ বার এমন দলীয় স্কোর দেখা গিয়েছিল, আর এবার গ্রুপ পর্বেই সেই মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলল ব্যাটাররা।

কলম্বোর মাঠে আজ ওমানের বোলারদের শাসন করে ৫ উইকেটে ২৩৫ রান তুলেছে আয়ারল্যান্ড। এটি চলতি আসরের সর্বোচ্চ স্কোর তো বটেই, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসেও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। কেনিয়ার বিপক্ষে করা শ্রীলঙ্কার ২৬০ রানের সেই ১৮ বছর পুরনো রেকর্ডটিই কেবল এখন আইরিশদের ওপরে।

র‍্যাঙ্কিংয়ের ২০ নম্বর দল ওমানের জন্য আয়ারল্যান্ডের রানের পাহাড় টপকানো যে অসম্ভব ছিল, তা ম্যাচের শুরুতেই পরিষ্কার হয়ে যায়। ৯৬ রানের বড় হার ওমানের ব্যাটিং ব্যর্থতাকেই স্পষ্ট করেছে। গ্রুপ পর্বের শেষ তিন ম্যাচে আজই তারা তাদের সর্বোচ্চ ১৩৯ রান করতে পেরেছে, কিন্তু তা হয়েছে মাত্র ১৮ ওভার খেলে। টানা তিন হারে ‘বি’ গ্রুপ থেকে ওমানের বিদায় এখন নিশ্চিত।

আয়ারল্যান্ডের ইনিংসের শুরুটা ছিল রীতিমতো দুঃস্বপ্নের মতো। প্রথম ৫ ওভারের মধ্যেই মাত্র ৪৫ রানে টপ অর্ডারের ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল তারা। ৭.৩ ওভারে যখন ৬৪ রানে চতুর্থ উইকেটের পতন ঘটে, তখন আইরিশ সমর্থকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়াটাই ছিল স্বাভাবিক। টিম টেক্টর (৫), রস আদাইর (১৪), হ্যারি টেক্টর (১২) ও কার্টিস ক্যাম্ফার (১৪)—টপ অর্ডারের কেউই থিতু হতে পারেননি।
আয়ারল্যান্ডকে ম্যাচে ফেরায় পঞ্চম উইকেটে অধিনায়ক লোরকান টাকার ও গ্যারেথ ডেলানির ৫৬ বলে ১০১ রানের বিধ্বংসী জুটি। কিন্তু নাটকের তখনও বাকি ছিল! ষষ্ঠ উইকেটে টাকারের সঙ্গে জর্জ ডকরেল যখন যোগ দিলেন, ওমানের বোলারদের ওপর দিয়ে যেন স্টিমরোলার চলল—মাত্র ১৯ বলে এলো ৭০ রান!

৪টি ছক্কা ও ১০টি চারের সাহায্যে ৫১ বলে অপরাজিত ৯৪ রান করেছেন টাকার। এছাড়া ডেলানি করেন ৩০ বলে ৫৬ রান এবং ৯ বলে ৩৫ রানে অপরাজিত ছিলেন ডকরেল।

অধিনায়ক হিসেবে ক্রিস গেইলের গড়া পাহাড়সম রানের রেকর্ডের ঠিক পেছনেই এখন জায়গা করে নিয়েছেন লরকান টাকার। ম্যাচের শেষ দিকে আইরিশ ব্যাটারদের বিধ্বংসী মেজাজে শেষ ৫ ওভার থেকে আসে রেকর্ড ৯৩ রান, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে ডেথ ওভারের তৃতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহ। এই দাপুটে ব্যাটিংয়ের মূল কারিগর ছিলেন টাকার ও ডকরেল। তাঁদের অবিচ্ছিন্ন ৭০ রানের জুটিতে ওভারপ্রতি রান উঠেছে রেকর্ড ২২.১০ করে, যা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্রুততম রানের জুটির রেকর্ডটিও এখন আয়ারল্যান্ডের দখলে। ২০১০ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার মাইক হাসি এবং মিচেল জনসনের গড়া ১৯.৮৭ রান রেটের রেকর্ডটি দীর্ঘ ১৫ বছর অক্ষুণ্ণ ছিল। ১৬ বলে ৫৩ রানের সেই রেকর্ড ভেঙে লরকান টাকার ও ডকরেল জুটি ওভারপ্রতি গড়ে ২২.১০ রান তুলে ইতিহাস গড়েছেন। তাঁদের এই ৭০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিটি এখন বিশ্বকাপের যেকোনো জুটিতে ওভারপ্রতি রানের হিসেবে সর্বকালের সেরা।

ওমানের ইনিংসটি ছিল মূলত ‘দুই অর্ধে’র গল্প। প্রথম ১০ ওভারে ২ উইকেটে ৮৫ রান তুলে তারা জয়ের পথেই ছিল, কিন্তু মিডল অর্ডারের ব্যাটিং ধস তাদের ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে দেয়। মাত্র ৫৪ রানের ব্যবধানে শেষ ৮ উইকেট হারানো প্রমাণ করে যে চাপের মুখে ওমানের লোয়ার-অর্ডার কতটা ভঙ্গুর। তবে ব্যক্তিগত অর্জনে উজ্জ্বল ছিলেন আমির কলিম; ৪৪ বছর বয়সে তাঁর এই ফিফটি কেবল ওমানের জন্যই নয়, বরং আইসিসি টুর্নামেন্টের ইতিহাসে বয়োজ্যেষ্ঠ ক্রিকেটারদের জন্য এক নতুন অনুপ্রেরণা।