কে হচ্ছেন ক্রীড়ামন্ত্রী
- আপডেট সময় ০৯:০৬:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 52
দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এক আনন্দঘন পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হলো। দীর্ঘ সময় পর সাধারণ মানুষ ভয়হীন চিত্তে ভোট দিয়ে নিজেদের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচন করেছেন।
সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের মধ্যে ২১২টিতে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বিএনপি। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট ৭৭টি আসনে জয়ী হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে বিএনপি। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিবের তথ্যমতে, আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথ গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এর পরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন সরকার দায়িত্বভার গ্রহণ করবে।
বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে ক্রীড়া বিভাগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি খাত। ক্রীড়াপ্রেমী জাতি হিসেবে বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশিদের বিশেষ পরিচিতি রয়েছে। ক্রিকেটের দীর্ঘস্থায়ী সাফল্যের পাশাপাশি বর্তমানে ফুটবল এবং অন্যান্য ডিসিপ্লিনেও উন্নতির ছাপ স্পষ্ট। এমতাবস্থায়, নবনির্বাচিত সরকারের ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রধান লক্ষ্য হবে—এই অগ্রযাত্রাকে বেগবান করা এবং বিশ্ব ক্রীড়া মানচিত্রে বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা।
বিএনপির ২১২ জন বিজয়ীর তালিকায় সরাসরি ক্রীড়াঙ্গনের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন এমন দুইজন মুখ রয়েছেন। তাদের একজন চাঁদপুর-১ আসন থেকে নির্বাচিত সাবেক ভলিবল তারকা এহসানুল হক মিলন এবং অন্যজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও সাবেক কৃতি ফুটবলার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। তবে দলীয় গুঞ্জন ও রাজনৈতিক সমীকরণে এই দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর নাম বর্তমানে অন্য গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের আলোচনার টেবিলে রয়েছে।
নির্বাচনী ময়দানে ক্রীড়াঙ্গনের আরেক পরিচিত মুখ ছিলেন সাবেক ফুটবলার আমিনুল হক। ঢাকা-১৬ আসনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জয়ী হয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মো. আব্দুল বাতেন। তবে আমিনুলের জন্য মন্ত্রিসভার দুয়ার এখনই বন্ধ হয়ে যায়নি; টেকনোক্যাট হিসেবে তাকে ক্রীড়ামন্ত্রী করার সম্ভাবনা নিয়ে কানাঘুষা চলছে। এই পদের জন্য আরও দুই প্রভাবশালী নাম হিসেবে শোনা যাচ্ছে ইশরাক হোসেন এবং অভিজ্ঞ ক্রীড়া সংগঠক আলী আসগর লবির কথা।
বিসিবির সাবেক সফল সভাপতি আলী আসগর লবি এবার সংসদ সদস্য হিসেবে জয় পেয়েছেন খুলনা-৫ আসন থেকে। তিনি জামায়াতের হেভিওয়েট নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ারকে ভোটে পরাজিত করেছেন। ২০০১-২০০৬ সালে বিএনপির শাসনামলে পাঁচ বছর বিসিবির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা লবিকে এবারও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিসিবির গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আলী আসগর লবির নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি ২০০২ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) সভাপতির দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পালন করেছেন। এছাড়া ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্যতম শীর্ষ ক্লাব আবাহনী লিমিটেডের পরিচালক হিসেবেও তার ভূমিকা ছিল অনবদ্য। ক্রীড়াঙ্গনের এই গভীর ও বিস্তৃত অভিজ্ঞতাই তাকে নতুন সরকারের যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রীর দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে রেখেছে। বর্তমানে দেশের ক্রীড়া মহলেও তাকে নিয়ে জোর গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
অতীতে বিএনপির দুই মেয়াদে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে ছিলেন তিন জন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ। ১৯৯১ সালে সরকার গঠনের পর প্রথমে মাত্র দুই মাসের জন্য (২০ মার্চ ১৯৯১ – ১৯ মে ১৯৯১) এই দায়িত্বে ছিলেন মির্জা আব্বাস। তাঁর পর দায়িত্ব গ্রহণ করেন সাদেক হোসেন খোকা, যিনি ২০০১ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় এই মন্ত্রণালয় সামলান। পরবর্তীতে ২০০১-২০০৬ মেয়াদে পুরোটা সময় ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের হাল ধরেন ফজলুর রহমান পটল। উল্লেখ্য যে, এই তিনজনের প্রত্যেকেই ‘প্রতিমন্ত্রী’ পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালন করেছিলেন।






















