ইসলামি শিক্ষাকে জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় আনার আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর
- আপডেট সময় ০১:৪০:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
- / 33
ইসলামি শিক্ষাকে কেবল ধর্মীয় শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জাতীয় উন্নয়ন, নৈতিকতা ও দক্ষ মানবসম্পদ গঠনের মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ গঠনের পাশাপাশি যুগোপযোগী শিক্ষা নিশ্চিত করতে গবেষণা, দক্ষ শিক্ষক এবং আধুনিক কারিকুলামের বিকল্প নেই।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ফাজিল ও কামিল স্তরের ‘শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান ও অনন্য শিক্ষার্থীদের অ্যাওয়ার্ড প্রদান’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষাকে প্রচলিত কাঠামোর গণ্ডিতে আটকে রাখলে চলবে না। এমনভাবে এ খাতকে গড়ে তুলতে হবে, যাতে এখানকার শিক্ষার্থীরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। এ লক্ষ্যে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও গবেষণানির্ভর, পরিকল্পিত ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, অতীতে মাদ্রাসা শিক্ষার কাঠামো ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় নানা সীমাবদ্ধতা ছিল। এসব বিবেচনায় সরকার শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও সমন্বিত ও কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে ফাজিল ও কামিল শিক্ষাকে মূলধারার উচ্চশিক্ষার সঙ্গে আরও শক্তভাবে যুক্ত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ইসলামি শিক্ষা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এর জন্য দক্ষ শিক্ষক, আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা এবং বাস্তবমুখী পাঠক্রম নিশ্চিত করতে হবে।
মাদ্রাসা খাতে শিক্ষক সংকটের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয়সংখ্যক শিক্ষক নেই। বিশেষ করে ইসলামি শিক্ষায় দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ সমস্যা সমাধানে কারিকুলাম উন্নয়ন ও শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কিছু মাদ্রাসা শিক্ষকের বেতনসংক্রান্ত জটিলতা সরকারের নজরে রয়েছে এবং তা নিরসনে কাজ চলছে। ভবিষ্যতে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) চালুর মাধ্যমে বেতন পরিশোধ ব্যবস্থা আরও সহজ, স্বচ্ছ ও কার্যকর করা হবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধু সনদ অর্জন নয়, জ্ঞান, গবেষণা ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য করে তুলতে হবে। ইসলামি শিক্ষার শিক্ষার্থীদেরও দেশের সব খাতে অবদান রাখার সক্ষমতা তৈরি করতে হবে। ফাজিল ও কামিল শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা, বিসিএসসহ বিভিন্ন জাতীয় সুযোগ-সুবিধার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণ করা হবে।
অনুষ্ঠানে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খানের সভাপতিত্বে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য, ট্রেজারার, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, অধ্যক্ষ, শিক্ষক এবং দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।











