স্পিকারের নাম প্রায় চূড়ান্ত, ২৬ তারিখের মধ্যেই ঘোষণা
- আপডেট সময় ১১:০৬:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 21
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর কে হচ্ছেন নতুন স্পিকার, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে। সংসদের প্রথম অধিবেশন সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর ভাইস চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট–এর জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন এবং দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান–এর নাম গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে।
বিভিন্ন সূত্র বলছে, আগামী ২৬ তারিখের মধ্যেই স্পিকারের নাম ঘোষণা হতে পারে।
দলীয় ও সংসদীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, জয়নুল আবেদীনের দীর্ঘ আইনজীবী অভিজ্ঞতা, সাংবিধানিক ও নির্বাচনী আইন বিষয়ে দক্ষতা এবং রাজনৈতিক পরিসরে সক্রিয় ভূমিকা তাকে আলোচনায় এগিয়ে রাখছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সুপ্রিম কোর্টে আইন পেশায় যুক্ত। সাংবিধানিক, নির্বাচন ও জনস্বার্থ–সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। পাশাপাশি তিনি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
দলীয় সূত্রের ভাষ্য, সংসদীয় অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক পরিপক্বতার সমন্বয় বিবেচনায় এনে তার নাম সামনে এসেছে। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
অন্যদিকে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ সদস্য মন্ত্রিসভাসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পেলেও ড. মঈন খান এখনো সরকারের বাইরে আছেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি নরসিংদী-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। প্রবীণ এই নেতাকে কোন ভূমিকায় দেখা যাবে, তা নিয়েও কৌতূহল রয়েছে।
ড. মঈন খান চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যও রয়েছে। অনেকের মতে, প্রবীণ ও অভিজ্ঞ রাজনীতিক হিসেবে তিনি স্পিকার হলে সংসদ পরিচালনায় ভারসাম্য আনতে পারবেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়–এর সাবেক শিক্ষক, যা তাকে একটি গ্রহণযোগ্য প্রোফাইল দেয় বলেও মত রয়েছে।
জাতীয় সংসদের স্পিকার পদটি রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্বপূর্ণ পদ। স্পিকার অধিবেশন পরিচালনা, কার্যপ্রণালী বিধি প্রয়োগ, সংসদীয় শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সদস্যদের অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেন। এই পদে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা, প্রশাসনিক দক্ষতা ও সাংবিধানিক জ্ঞানের সমন্বয় প্রয়োজন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদ পরিচালনায় আইনি ব্যাখ্যা দেওয়া, রুলিং প্রদান এবং বিতর্ক ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সে দিক থেকে অভিজ্ঞ আইনজীবী স্পিকার হলে তা কার্যকর হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে সংসদীয় সমীকরণ ও দলীয় কৌশলের ওপর।
আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম অধিবেশনেই সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার কথা রয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী বিদায়ী স্পিকারের সভাপতিত্বে নির্বাচন হওয়ার বিধান থাকলেও এবার ভিন্ন প্রক্রিয়ায় তা হতে পারে বলে জানা গেছে।

























