১১:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি, কবে কি ঘটছে?

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:৫৭:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 55

ছবি সংগৃহীত

 

দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও প্রতীক্ষার পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠনের পথে এগিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব শেষ হওয়ার প্রাক্কালে দেশজুড়ে এখন নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দায়িত্ব গ্রহণ ঘিরে প্রস্তুতি চলছে।

নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশের পর নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নামে গেজেট জারি করবে। এরপর তারা শপথ গ্রহণ করবেন, যার মাধ্যমে নতুন সংসদের কার্যক্রম শুরু হবে। আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত এমপিদের শপথ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে এবং রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ধারণা করা হচ্ছে, ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেবে।

সংবিধান অনুযায়ী, কোনো দল বা জোট ১৫১টি আসন পেলেই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। সাধারণত সেই দল বা জোটের প্রধানকেই সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানান রাষ্ট্রপতি। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকলে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলকেই প্রথমে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়া হয়।

নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে বঙ্গভবনে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রথমে সরকারপ্রধানকে এবং পরে পর্যায়ক্রমে মন্ত্রীদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন। অনুষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ। শপথের মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন সরকার দায়িত্ব নেবে।

এর আগে রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের জানান, ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ফলাফলের গেজেট প্রকাশ এবং ১৭-১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

এবারের নির্বাচনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের পদ শূন্য থাকায় শপথ গ্রহণ নিয়ে কিছু আইনি প্রশ্ন উঠেছিল। তবে সংবিধান অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনো ব্যক্তি—যেমন প্রধান বিচারপতি—শপথ পড়াতে পারেন।

এখন পর্যন্ত ২৯৭টি আসনের ফলাফলে বিএনপি জোট পেয়েছে ২১২টি আসন। জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমন্বিত ১১ দলীয় জোট অর্জন করেছে ৭৭টি আসন। স্বতন্ত্র ও অন্যান্য প্রার্থীরা পেয়েছেন ৮টি আসন। সংসদে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতের ভূমিকা নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনকে সামনে রেখে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সরকারি পরিবহন পুল প্রায় ৫০ জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর জন্য গাড়ি প্রস্তুত করছে। বঙ্গভবন ও সচিবালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।

শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যায় শেষ হবে এবং নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি, কবে কি ঘটছে?

আপডেট সময় ০৯:৫৭:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও প্রতীক্ষার পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠনের পথে এগিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব শেষ হওয়ার প্রাক্কালে দেশজুড়ে এখন নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দায়িত্ব গ্রহণ ঘিরে প্রস্তুতি চলছে।

নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশের পর নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নামে গেজেট জারি করবে। এরপর তারা শপথ গ্রহণ করবেন, যার মাধ্যমে নতুন সংসদের কার্যক্রম শুরু হবে। আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত এমপিদের শপথ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে এবং রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ধারণা করা হচ্ছে, ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেবে।

সংবিধান অনুযায়ী, কোনো দল বা জোট ১৫১টি আসন পেলেই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। সাধারণত সেই দল বা জোটের প্রধানকেই সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানান রাষ্ট্রপতি। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকলে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলকেই প্রথমে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়া হয়।

নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে বঙ্গভবনে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রথমে সরকারপ্রধানকে এবং পরে পর্যায়ক্রমে মন্ত্রীদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন। অনুষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ। শপথের মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন সরকার দায়িত্ব নেবে।

এর আগে রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের জানান, ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ফলাফলের গেজেট প্রকাশ এবং ১৭-১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

এবারের নির্বাচনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের পদ শূন্য থাকায় শপথ গ্রহণ নিয়ে কিছু আইনি প্রশ্ন উঠেছিল। তবে সংবিধান অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনো ব্যক্তি—যেমন প্রধান বিচারপতি—শপথ পড়াতে পারেন।

এখন পর্যন্ত ২৯৭টি আসনের ফলাফলে বিএনপি জোট পেয়েছে ২১২টি আসন। জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমন্বিত ১১ দলীয় জোট অর্জন করেছে ৭৭টি আসন। স্বতন্ত্র ও অন্যান্য প্রার্থীরা পেয়েছেন ৮টি আসন। সংসদে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতের ভূমিকা নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনকে সামনে রেখে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সরকারি পরিবহন পুল প্রায় ৫০ জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর জন্য গাড়ি প্রস্তুত করছে। বঙ্গভবন ও সচিবালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।

শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যায় শেষ হবে এবং নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে।