ওজন কমানোর ‘গোপন অস্ত্র’ পর্যাপ্ত ঘুম?
- আপডেট সময় ০৪:৩১:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬
- / 28
ওজন কমানোর কথা বললেই আমাদের মাথায় আসে কঠোর ডায়েট আর জিম। কিন্তু আপনি কি জানেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যায়াম আর ক্যালরি মেপে খাবার খাওয়ার পরেও কেন অনেকের ওজন কমে না? এর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হতে পারে পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব। সম্প্রতি বিশেষজ্ঞদের মতামতে উঠে এসেছে যে, ঘুমই হতে পারে আপনার ওজন কমানোর লড়াইয়ের সেই গোপন অস্ত্র, যা আপনি এতদিন অবহেলা করেছেন।
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ফারজানা রহমান দিনার মতে, ঘুম কেবল বিশ্রামের জন্য নয়, এটি শরীরের হরমোনাল ভারসাম্য রক্ষার প্রধান চাবিকাঠি। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরে চর্বি জমার প্রবণতা বেড়ে যায়।
ঘুমের সঙ্গে ওজনের বিজ্ঞানি সম্পর্ক
গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমের অভাব শরীরে দুটি প্রধান হরমোনের কাজ এলোমেলো করে দেয়:
লেপটিন (Leptin): এটি আমাদের মস্তিষ্ককে জানায় যে পেট ভরে গেছে। ঘুমের অভাবে এর মাত্রা কমে যায়।
ঘ্রেলিন (Ghrelin): এটি ক্ষুধার হরমোন। ঘুম কম হলে এর মাত্রা বেড়ে যায়, ফলে বারবার ক্ষুধা লাগে।
মার্কিন প্রতিষ্ঠান ‘ন্যাশনাল স্লিপ ফাউন্ডেশন’ জানিয়েছে, যারা রাতে ৫-৬ ঘণ্টা ঘুমান, তারা ৮-৯ ঘণ্টা ঘুমানো ব্যক্তিদের তুলনায় দিনে গড়ে ২০০-৩০০ ক্যালরি বেশি খাবার গ্রহণ করেন। শুধু তাই নয়, ঘুমের অভাবে শরীরের ‘মেটাবলিক রেট’ বা ক্যালরি পোড়ানোর ক্ষমতা কমে যায়, ফলে খাবার সরাসরি চর্বি হিসেবে জমা হয়।
ঘুমের মান উন্নত করার ৫টি টিপস
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষজ্ঞগণ নিচের অভ্যাসগুলো গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন:
একই সময় মেনে চলা: প্রতিদিন রাতে ঘুমানো এবং সকালে ওঠার সময় নির্দিষ্ট রাখা।
স্ক্রিন টাইম বর্জন: ঘুমের অন্তত ২ ঘণ্টা আগে মোবাইল বা ল্যাপটপ ব্যবহার বন্ধ করা।
পরিবেশ: শোয়ার ঘর অন্ধকার, শান্ত এবং আরামদায়ক তাপমাত্রায় রাখা।
ক্যাফিন এড়িয়ে চলা: বিকেলের পর চা বা কফি না খাওয়া।
খাদ্যাভ্যাস: রাতে অতিরিক্ত ভারী খাবার এড়িয়ে হালকা খাবার গ্রহণ করা।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: প্রতিদিন ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুম লেপটিন ও ঘ্রেলিনের ভারসাম্য বজায় রাখে, যা আপনার ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করে এবং মেটাবলিজম সক্রিয় রাখে। তাই ওজন কমাতে চাইলে জিমের পাশাপাশি বিছানাকেও গুরুত্ব দিন।

























