ঢাকা ০৩:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন: বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার পাচ্ছে জামায়াত ওমানের মধ্যস্থতার আলোচনার খবর ‘ভিত্তিহীন’: বলছে তেহরান ইরানে হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতি পরিপন্থী: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্রাজিল: দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম দেশ ও বৈচিত্র্যের শক্তি সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ না দিতে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি ওজন কমানোর ‘গোপন অস্ত্র’ পর্যাপ্ত ঘুম? দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও ইন্টার মিয়ামির অতিমানবিক জয় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ক্রীড়া সংগঠনগুলোর উন্নয়নে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ থেকে বিদায়: দায় নিজের কাঁধেই নিলেন শেই হোপ রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

বিজ্ঞানীদের চমকপ্রদ আবিষ্কার: খুঁজে পাওয়া গেল লুকানো প্লাজমা কাঠামো

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:৪৭:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৫
  • / 275

ছবি সংগৃহীত

 

মহাকাশ বিজ্ঞানের জগতে প্লাজমা একটি পরিচিত নাম। এটি পদার্থের একটি বিশেষ অবস্থা, যেখানে পরমাণুর ইলেকট্রন বিচ্ছিন্ন হয়ে আয়নিত গ্যাসে রূপান্তরিত হয়। অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রা ও বিদ্যুৎ পরিবাহিতার কারণে এই প্লাজমা মহাবিশ্বের নানান অংশে, বিশেষ করে তারকাপুঞ্জ ও নীহারিকায়, সহজেই খুঁজে পাওয়া যায়। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা শক্তিশালী রেডিও টেলিস্কোপের সাহায্যে এক নতুন ও রহস্যময় প্লাজমা কাঠামোর সন্ধান পেয়েছেন, যা এতদিন পৃথিবীর কাছেই লুকানো ছিল।

‘নেচার অ্যাস্ট্রোনমি’ নামক আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকীতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই নতুন প্লাজমা স্তরটি একটি দ্রুতগতিতে ঘূর্ণায়মান পালসার তারার আশেপাশে অবস্থিত। বিজ্ঞানীদের মতে, পালসারটির নাম J0437-4715, এবং এটি পৃথিবী থেকে মাত্র ৫১২ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থান করছে। পালসার হলো একধরনের নিউট্রন তারা, যা মহাকাশের সবচেয়ে ঘন ও রহস্যময় বস্তুর মধ্যে অন্যতম। এই পালসার একটি তীব্র রেডিও তরঙ্গ ও কণা প্রবাহ সৃষ্টি করে, যা তার চারপাশের আন্তনাক্ষত্রিক মাধ্যমের মধ্য দিয়ে ছুটে চলে। এর ফলে তৈরি হয় উত্তপ্ত গ্যাসের এক প্রকার শক তরঙ্গ, যা মহাশূন্যে প্লাজমার এক অশান্ত অবস্থা সৃষ্টি করে।

আরও পড়ুন  সীমাহীন জ্বালানির সন্ধানে চীনের যুগান্তকারী আবিষ্কার! চলবে ৬০ হাজার বছর

এই প্লাজমার মধ্যে তরঙ্গের বিক্ষিপ্ততা একটি বিশেষ নকশা গঠন করে, যার ফলে দূর থেকে পালসারটিকে মিটমিটে তারা হিসেবে দেখা যায়। বিজ্ঞানীরা এই প্লাজমা স্তর বিশ্লেষণের জন্য বর্তমানে সিন্টিলেশন আর্ক নামক এক ধরণের ইন্টারফেরেন্স প্যাটার্ন বিশ্লেষণ করছেন। এই পদ্ধতিকে অনেকটা মহাকাশের বস্তুসমূহের সিটি স্ক্যানের সঙ্গে তুলনা করা যায়। এই প্রযুক্তির সাহায্যে পালসারের তরঙ্গ কীভাবে গঠিত ও ছড়িয়ে পড়ছে তা আরও গভীরভাবে অনুধাবন করার চেষ্টা চলছে।

এটি শুধু একটি নতুন আবিষ্কার নয়, বরং মহাবিশ্বের গঠন ও তারকার আশেপাশের জটিল কাঠামো বোঝার পথে একটি বড় অগ্রগতি। বিজ্ঞানীরা আশাবাদী, এই গবেষণার মাধ্যমে মহাকাশে থাকা অজানা অনেক তথ্য সামনে আসবে, যা ভবিষ্যতের মহাকাশ গবেষণাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

সূত্র: এনডিটিভি

 

নিউজটি শেয়ার করুন

বিজ্ঞানীদের চমকপ্রদ আবিষ্কার: খুঁজে পাওয়া গেল লুকানো প্লাজমা কাঠামো

আপডেট সময় ০৬:৪৭:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৫

 

মহাকাশ বিজ্ঞানের জগতে প্লাজমা একটি পরিচিত নাম। এটি পদার্থের একটি বিশেষ অবস্থা, যেখানে পরমাণুর ইলেকট্রন বিচ্ছিন্ন হয়ে আয়নিত গ্যাসে রূপান্তরিত হয়। অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রা ও বিদ্যুৎ পরিবাহিতার কারণে এই প্লাজমা মহাবিশ্বের নানান অংশে, বিশেষ করে তারকাপুঞ্জ ও নীহারিকায়, সহজেই খুঁজে পাওয়া যায়। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা শক্তিশালী রেডিও টেলিস্কোপের সাহায্যে এক নতুন ও রহস্যময় প্লাজমা কাঠামোর সন্ধান পেয়েছেন, যা এতদিন পৃথিবীর কাছেই লুকানো ছিল।

‘নেচার অ্যাস্ট্রোনমি’ নামক আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকীতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই নতুন প্লাজমা স্তরটি একটি দ্রুতগতিতে ঘূর্ণায়মান পালসার তারার আশেপাশে অবস্থিত। বিজ্ঞানীদের মতে, পালসারটির নাম J0437-4715, এবং এটি পৃথিবী থেকে মাত্র ৫১২ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থান করছে। পালসার হলো একধরনের নিউট্রন তারা, যা মহাকাশের সবচেয়ে ঘন ও রহস্যময় বস্তুর মধ্যে অন্যতম। এই পালসার একটি তীব্র রেডিও তরঙ্গ ও কণা প্রবাহ সৃষ্টি করে, যা তার চারপাশের আন্তনাক্ষত্রিক মাধ্যমের মধ্য দিয়ে ছুটে চলে। এর ফলে তৈরি হয় উত্তপ্ত গ্যাসের এক প্রকার শক তরঙ্গ, যা মহাশূন্যে প্লাজমার এক অশান্ত অবস্থা সৃষ্টি করে।

আরও পড়ুন  সৌরজগতের বাইরে থাকা তরুণ এক নক্ষত্রের বলয়ে জমাট বরফের সন্ধান

এই প্লাজমার মধ্যে তরঙ্গের বিক্ষিপ্ততা একটি বিশেষ নকশা গঠন করে, যার ফলে দূর থেকে পালসারটিকে মিটমিটে তারা হিসেবে দেখা যায়। বিজ্ঞানীরা এই প্লাজমা স্তর বিশ্লেষণের জন্য বর্তমানে সিন্টিলেশন আর্ক নামক এক ধরণের ইন্টারফেরেন্স প্যাটার্ন বিশ্লেষণ করছেন। এই পদ্ধতিকে অনেকটা মহাকাশের বস্তুসমূহের সিটি স্ক্যানের সঙ্গে তুলনা করা যায়। এই প্রযুক্তির সাহায্যে পালসারের তরঙ্গ কীভাবে গঠিত ও ছড়িয়ে পড়ছে তা আরও গভীরভাবে অনুধাবন করার চেষ্টা চলছে।

এটি শুধু একটি নতুন আবিষ্কার নয়, বরং মহাবিশ্বের গঠন ও তারকার আশেপাশের জটিল কাঠামো বোঝার পথে একটি বড় অগ্রগতি। বিজ্ঞানীরা আশাবাদী, এই গবেষণার মাধ্যমে মহাকাশে থাকা অজানা অনেক তথ্য সামনে আসবে, যা ভবিষ্যতের মহাকাশ গবেষণাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

সূত্র: এনডিটিভি