ঢাকা ০৯:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম :
বিচ্ছেদের পর নতুন রূপে শেহতাজ রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইলেন ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব আতাউর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা কমছে নেতানিয়াহুর, খুঁজছেন নতুন মিত্র সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুজনের মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে: প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে পাঁচ বিষয়ে অগ্রাধিকার ববি হাজ্জাজের নিজ সন্তানের জন্য হলেও ঢাকা পরিচ্ছন্ন রাখুন: প্রধানমন্ত্রী সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, তথ্যের ঘাটতি ছিল মিডিয়ায় আমাকে টার্গেট করা হয়েছে, বললেন ইশরাক মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের ঘোষণা ইশরাকের, প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দিলেন পদত্যাগপত্র

বাংলাদেশ ব্যাংক পেতে যাচ্ছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:৫৪:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ জুলাই ২০২৫
  • / 818

ছবি সংগৃহীত

 

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ব্যাংককে একটি সংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ২০২৫’ নামে একটি খসড়া অধ্যাদেশ চূড়ান্ত করা হয়েছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উপর আর্থিক খাতের পূর্ণ কর্তৃত্ব, স্বায়ত্তশাসন এবং জবাবদিহিমূলক ক্ষমতা অর্পণ করবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই খসড়া আইন ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং বিশ্বব্যাংকের পর্যালোচনা শেষ করেছে। অনুমান করা হচ্ছে, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই অধ্যাদেশ আকারে এটি প্রণয়ন করা হতে পারে। আইন কার্যকর হলে বাংলাদেশ ব্যাংক স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে কাজ করবে এবং কেবল সংসদের কাছে জবাবদিহি করবে। এর ফলে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের বিতর্কিত অধ্যায়ের অবসান ঘটতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  চরমোনাইয়ের জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করবে জামায়াত জোট

নতুন আইনের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংক সংবিধান স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা পাবে, যা রাষ্ট্রের একটি সাংবিধানিক স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত হবে। গভর্নর ও ডেপুটি গভর্নরদের ছয় বছরের মেয়াদে নিয়োগের প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যা সংসদের অনুমোদন এবং প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশের ভিত্তিতে সম্পন্ন হবে। অপসারণের ক্ষেত্রে কারণ দর্শানোর নোটিশ এবং আনুষ্ঠানিক শুনানির সুযোগ থাকবে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, নিয়োগপ্রাপ্ত গভর্নর ও ডেপুটি গভর্নররা দায়িত্ব নেওয়ার আগে দেশের প্রধান বিচারপতির সামনে শপথ গ্রহণ করবেন, যা তাদের সাংবিধানিক মর্যাদাকে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরবে।

নতুন আইনের আরেকটি বড় পরিবর্তন হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংককে প্রশাসনিক ও আর্থিক স্বায়ত্তশাসন দেওয়া। এতে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক খাতের একক নিয়ন্ত্রক এবং তদারকি কর্তৃপক্ষ হিসেবে কাজ করবে। রাষ্ট্রায়ত্ত এবং বেসরকারি উভয় ধরনের ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় এর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে। পাশাপাশি মুদ্রানীতি নির্ধারণ, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, তারল্য ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ পাবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ বাংলাদেশ ব্যাংককে ‘নির্বাহী বিভাগের অধীন একটি সংযুক্ত দফতর’ থেকে বের করে এনে সত্যিকারের আর্থিক সংবিধান রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ ব্যাংক পেতে যাচ্ছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা

আপডেট সময় ০৪:৫৪:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ জুলাই ২০২৫

 

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ব্যাংককে একটি সংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ২০২৫’ নামে একটি খসড়া অধ্যাদেশ চূড়ান্ত করা হয়েছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উপর আর্থিক খাতের পূর্ণ কর্তৃত্ব, স্বায়ত্তশাসন এবং জবাবদিহিমূলক ক্ষমতা অর্পণ করবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই খসড়া আইন ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং বিশ্বব্যাংকের পর্যালোচনা শেষ করেছে। অনুমান করা হচ্ছে, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই অধ্যাদেশ আকারে এটি প্রণয়ন করা হতে পারে। আইন কার্যকর হলে বাংলাদেশ ব্যাংক স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে কাজ করবে এবং কেবল সংসদের কাছে জবাবদিহি করবে। এর ফলে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের বিতর্কিত অধ্যায়ের অবসান ঘটতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  কারওয়ান বাজারে ব্যবসায়ীদের লাঠিমিছিল, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায়

নতুন আইনের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংক সংবিধান স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা পাবে, যা রাষ্ট্রের একটি সাংবিধানিক স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত হবে। গভর্নর ও ডেপুটি গভর্নরদের ছয় বছরের মেয়াদে নিয়োগের প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যা সংসদের অনুমোদন এবং প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশের ভিত্তিতে সম্পন্ন হবে। অপসারণের ক্ষেত্রে কারণ দর্শানোর নোটিশ এবং আনুষ্ঠানিক শুনানির সুযোগ থাকবে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, নিয়োগপ্রাপ্ত গভর্নর ও ডেপুটি গভর্নররা দায়িত্ব নেওয়ার আগে দেশের প্রধান বিচারপতির সামনে শপথ গ্রহণ করবেন, যা তাদের সাংবিধানিক মর্যাদাকে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরবে।

নতুন আইনের আরেকটি বড় পরিবর্তন হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংককে প্রশাসনিক ও আর্থিক স্বায়ত্তশাসন দেওয়া। এতে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক খাতের একক নিয়ন্ত্রক এবং তদারকি কর্তৃপক্ষ হিসেবে কাজ করবে। রাষ্ট্রায়ত্ত এবং বেসরকারি উভয় ধরনের ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় এর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে। পাশাপাশি মুদ্রানীতি নির্ধারণ, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, তারল্য ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ পাবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ বাংলাদেশ ব্যাংককে ‘নির্বাহী বিভাগের অধীন একটি সংযুক্ত দফতর’ থেকে বের করে এনে সত্যিকারের আর্থিক সংবিধান রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।