দিল্লিতে ব্যাপক ধরপাকড়, তেলাপোকা দমনে মরিয়া সরকার
- আপডেট সময় ০২:৫৯:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
- / 39
ভারতের নয়াদিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করেছে পুলিশ। তাঁদের আটকের পাশাপাশি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভকারীদের ধরপাকড় চলছে।
আন্দোলন ঠেকাতে দিল্লিতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় চলাচল, মেট্রো পরিষেবা ও মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এর আগে বিক্ষোভে যোগ দিতে আসা শত শত মানুষকে আটক করা হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ককরোচ জনতা পার্টি শনিবার নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে ‘যন্তর মন্তর ২.০’ নামে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল। ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া প্রত্যাহার এবং নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগসংক্রান্ত আইন পরিবর্তনের দাবিতে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তরুণদের এতে অংশ নেওয়ার কথা ছিল। শনিবার সকালে মুম্বাই থেকে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে বিমানের ভেতর থেকেই আটক করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিজিৎকে বলতে শোনা যায়, তাঁরা গ্রেপ্তার হওয়ার ভয় পান না।
আন্দোলনের নেতাদের আটকের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে সংগঠনের পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
দিল্লি পুলিশের আশঙ্কা, কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বড় জমায়েত হতে পারে। এ কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মিলিয়ে ৩৫ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। কিছু প্রতিবেদনে এই সংখ্যা ৪০ হাজারের বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা যেসব পথ দিয়ে যন্তর মন্তরে পৌঁছাতে পারেন, সেসব স্থানে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় যানবাহন পরীক্ষা ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ হোটেল, অতিথিশালা, ছাত্রাবাসসহ বিভিন্ন আবাসনে তল্লাশি চালাচ্ছে বলেও খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে অন্য রাজ্য থেকে আসা তরুণ-তরুণীদের চলাচলের ওপর নজর রাখা হচ্ছে।
শুক্রবার রাত থেকেই যন্তর মন্তরসংলগ্ন এলাকায় মাইকিং করে জমায়েতের ওপর বিধিনিষেধের কথা জানানো হয়। বিস্তীর্ণ এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। জনপথ ও কর্তব্যপথের সংযোগস্থলকে কেন্দ্র করে চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শনিবার রাত ১০টা পর্যন্ত এ বিধিনিষেধ কার্যকর থাকার কথা।
এদিকে, দিল্লি মেট্রোর একাধিক স্টেশনে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ রাখা হয়েছে। সাধারণ মানুষের যাতায়াতের পথ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট আপত্তি জানানোর পর মেট্রো কর্তৃপক্ষ আগের নির্দেশে পরিবর্তন আনে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পাশাপাশি নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে নির্দিষ্ট সময়ে পৌঁছানোর কথা থাকা একাধিক ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল সীমিত করা হতে পারে বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ। প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বের হওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে সাধারণ মানুষকে।
আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি সংগঠনের কর্মী ও সমর্থকদেরও আটক করার খবর পাওয়া গেছে। তবে নেতাদের আটকের পর কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ হয়েছে কি না কিংবা শেষ পর্যন্ত কতজন যন্তর মন্তরে পৌঁছাতে পেরেছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সিজেপির নেতারা আগেই জানিয়েছিলেন, তাঁদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ হবে এবং গ্রেপ্তার হলেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া উচিত। ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা ও ধরপাকড়ের মধ্যে শেষ পর্যন্ত বিক্ষোভ কতটা বিস্তৃত হয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।
























