ট্রাম্প প্রশাসনে ইরান যুদ্ধ নিয়ে মতবিরোধ, দীর্ঘ সংঘাতে বাড়ছে চাপ
- আপডেট সময় ১২:৩৩:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
- / 25
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ভেতরে মতবিরোধ ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। যুদ্ধের ভবিষ্যৎ, কূটনৈতিক সমাধান এবং সামরিক পদক্ষেপের পরিধি নিয়ে হোয়াইট হাউসের শীর্ষ পর্যায়ে ভিন্নমত দেখা দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্রমশ অসন্তুষ্ট ও হতাশ হয়ে পড়ছেন। তিনি শুরুতে আশা করেছিলেন, সামরিক চাপের মুখে তেহরান দ্রুত আলোচনার টেবিলে ফিরবে এবং একটি সমঝোতার পথ তৈরি হবে। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র এনবিসিকে জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট এত দীর্ঘ সময় ধরে চলা সংঘাতের জন্য প্রস্তুত ছিলেন না। তার ধারণা ছিল, কূটনৈতিক ও সামরিক চাপের সমন্বয়ে দ্রুত ফল পাওয়া যাবে। কিন্তু পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নেওয়ায় প্রশাসনের ভেতরে যুদ্ধের পরবর্তী ধাপ নিয়ে নানা আলোচনা ও মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, কিছু ক্ষেত্রে কৌশলগত সাফল্য এলেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও স্পষ্ট নীতিগত দিকনির্দেশনার অভাব ভবিষ্যতে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। তার মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে অর্জিত সাফল্য ধরে রাখতে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক লক্ষ্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
এনবিসির প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রতি জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক এক বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করেন। যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে আলোচনার সময় তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। তবে হোয়াইট হাউস এ ধরনের দাবিকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, প্রেসিডেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা দল অত্যন্ত দক্ষ এবং তিনি তাদের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখেন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতেই রয়েছে এবং প্রশাসন ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে বলেও তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল জানান, প্রেসিডেন্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রতিরক্ষা বিভাগ সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। তিনি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে মার্কিন বাহিনী সক্ষম।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে মূলত দুটি মতাদর্শিক অবস্থান স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এক পক্ষ মনে করছে, ইরানের ওপর আরও কঠোর সামরিক চাপ প্রয়োগ করা প্রয়োজন, যাতে তেহরান দ্রুত সমঝোতায় আসতে বাধ্য হয়। অন্য পক্ষের মত, সুস্পষ্ট দীর্ঘমেয়াদি কৌশল ছাড়া সংঘাত আরও বাড়ানো হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং যুদ্ধ আরও দীর্ঘ হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ইস্যু এখন শুধু সামরিক নয়, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জেও পরিণত হয়েছে। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন কোনো দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে না জড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান পরিস্থিতি সেই প্রতিশ্রুতির সামনে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। যুদ্ধ অব্যাহত থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমাধান বা সমঝোতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
এদিকে ট্রাম্প আবারও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজন হলে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। অন্যদিকে ইরানও নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। ফলে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা শিগগিরই কমার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।














