পোপের সমালোচনার পর যিশু খ্রিস্টের বেশে ট্রাম্পের বিতর্কিত এআই ছবি প্রকাশ
- আপডেট সময় ০৭:২৭:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
- / 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পোপ লিও-র মধ্যে চলমান বাকযুদ্ধ এবার এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ কোনো ধরনের মন্তব্য ছাড়াই যিশু খ্রিস্টের বেশে নিজের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন বা এআই ছবি শেয়ার করেছেন ট্রাম্প। পোপ লিও সম্প্রতি ইরান যুদ্ধের তীব্র সমালোচনা করে মন্তব্য করেছিলেন যে, যারা যুদ্ধ শুরু করেন তাদের হাত রক্তে মাখা থাকে এবং ঈশ্বর তাদের প্রার্থনা গ্রহণ করেন না।
ধারণা করা হচ্ছে, পোপের এই অবস্থানের প্রতিবাদেই ট্রাম্প এমন আক্রমণাত্মক ও বিতর্কিত ছবি পোস্ট করেছেন।
নিজের পোস্টে ট্রাম্প পোপকে অপরাধ দমনে দুর্বল এবং বৈদেশিক নীতিতে ভয়াবহ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এমনকি তিনি দাবি করেন যে, তিনি নিজে হোয়াইট হাউসে না থাকলে পোপের পক্ষে ভ্যাটিকানে টিকে থাকাই সম্ভব হতো না।
ট্রাম্পের এই বিতর্কিত পোস্ট নিয়ে তার নিজের কট্টর অনুসারীদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে এবং অনেকেই তাকে ছবিটি সরিয়ে ফেলার অনুরোধ জানিয়েছেন। এর আগেও ট্রাম্প নিজেকে বিভিন্ন জনপ্রিয় সিনেমার চরিত্রে ফুটিয়ে তুলতে এআই প্রযুক্তির সাহায্য নিয়েছিলেন, যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল।
সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প সরাসরি জানান যে, তিনি পোপ লিও-র বর্তমান কর্মকাণ্ড পছন্দ করছেন না। ট্রাম্পের অভিযোগ, পোপ ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র এবং আমেরিকার অভ্যন্তরীণ অপরাধের বিষয়ে নমনীয় ভূমিকা পালন করছেন।
যদিও পোপ লিও কখনোই ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচিকে সমর্থন করেননি। অন্যদিকে পোপ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের এসব মন্তব্যে মোটেও ভীত নন। তার শান্তির বার্তা কেবল ইঞ্জিল বা গসপেলের শিক্ষার ওপর ভিত্তি করে দেওয়া এবং তিনি কোনো রাজনৈতিক বিতর্কে জড়াতে চান না বলে স্পষ্ট করেছেন।
ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিশ্বনেতাদের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। একদিকে পোপ যখন শান্তির জন্য বিশ্বব্যাপী আহ্বান জানাচ্ছেন, অন্যদিকে ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান ও এই এআই ছবি বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় এবং বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই কূটনৈতিক সংঘাত আরও জটিল আকার ধারণ করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।























