ব্যর্থ হলো ইসলামাবাদ আলোচনা: ট্রাম্পের সামনে এখন তিনটি কঠিন পথ
- আপডেট সময় ০৪:৪৩:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
- / 36
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে না পেরে ইসলামাবাদ ত্যাগ করায় মধ্যপ্রাচ্য ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এই আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার ফলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সামনে এখন মাত্র তিনটি অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ বিকল্প খোলা রয়েছে।
প্রথমত, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও ক্লান্তিকর আলোচনা চালিয়ে যাওয়া। তবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান এখন আগের চেয়েও অনড়। দ্বিতীয় বিকল্পটি হলো পুনরায় যুদ্ধ শুরু করা, যা আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ জ্বালানি সংকট তৈরি করবে।
আগামী ২১ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে চলায় এই পথটি ট্রাম্পের জন্য বড় হাতিয়ার হলেও এর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মূল্য হবে আকাশচুম্বী। তৃতীয়ত, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী এক সামরিক লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়া।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই ঘোষণা দেবেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমার বিষয়ে কোনো ছাড় দিতে রাজি হয়নি।
অন্যদিকে, মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ইরানকে সরাসরি ‘আত্মসমর্পণ’ করার পরামর্শ দিলেও তেহরান তাদের অবস্থানে অনড়। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, তাদের ওপর আসা যেকোনো আঘাত জাতীয় স্বার্থ রক্ষার সংকল্পকে আরও দৃঢ় করেছে।
মূল সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ। ইরান একে নিজেদের অধিকার হিসেবে দাবি করলেও ওয়াশিংটন মনে করে এটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির একটি কৌশল। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির হার ৩.৩ শতাংশে রয়েছে, এই অবস্থায় যুদ্ধ শুরু হলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হবে এবং অর্থনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত হবে।
যেহেতু দুই পক্ষই প্রাথমিক লড়াইয়ে নিজেদের জয়ী মনে করছে, তাই এই মুহূর্তে কোনো পক্ষই সমঝোতার পথে হাঁটতে আগ্রহী নয়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
























