ঢাকা ১০:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ২৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
পানামা খাল, বাণিজ্য আর বৈচিত্র্যের সংযোগস্থল সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিনকে আদালতে তুলে রিমান্ড চাইল ডিবি ছেঁড়া পোশাকে অক্ষয় কুমারের চমক: ‘ভূত বাংলা’র প্রচারে ভিন্ন আমেজ ‘মসজিদ’ ভেবে ইহুদি উপাসনালয়ই ধ্বংস করল ইসরাইল স্বাস্থ্য খাতে ১ লাখ নতুন জনবল নিয়োগের উদ্যোগ সরকারের ১৮ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে হজ ফ্লাইট; সংসদ অধিবেশনে ধর্মমন্ত্রীর ঘোষণা বান্দরবানে গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ থেকে অগ্নিকাণ্ড: ভস্মীভূত ৪ বসতবাড়ি ইরানজুড়ে ব্যাপক হামলায় ১৫ জন নিহত দেশে জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত আছে: সংসদে জ্বালানি মন্ত্রী কলকাতায় হামলার হুমকির মুখে মোদির নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন মমতার; প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে টোল বসাতে চান ট্রাম্প: ওয়াশিংটনের নতুন দাবি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:৫২:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬
  • / 35

ছবি: সংগৃহীত

 

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর শুল্ক বা টোল আরোপের পরিকল্পনা ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি মনে করেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের ওপর নিয়ন্ত্রণ ও শুল্ক আদায়ের অধিকার ইরানের নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের থাকা উচিত। বাংলাদেশ সময় সোমবার মধ্যরাতে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এই বিতর্কিত প্রস্তাবটি সামনে আনেন।

সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, মার্কিন প্রশাসন কেন এই প্রণালি থেকে টোল আদায় করবে না? তিনি বলেন, “তাদের (ইরান) নিতে দেওয়ার চেয়ে আমি বরং নিজেই সেটা (টোল আদায়) করতে চাই।” মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘকালীন সামরিক উপস্থিতি এবং এই জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওয়াশিংটনের যে ভূমিকা রয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে এই ধরনের শুল্ক আরোপের নৈতিক ও কৌশলগত অধিকার একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রেরই প্রাপ্য।

আরও পড়ুন  প্রবাসীদের ভোটাধিকার: ভোটাধিকারের দাবিতে সোচ্চার রেমিট্যান্স যোদ্ধারা

সম্প্রতি ইরান এই প্রণালি অতিক্রমকারী জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর ওপর একটি নতুন টোল ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। তেহরান এই পদক্ষেপকে তাদের জাতীয় ‘সার্বভৌম অধিকার’ হিসেবে দাবি করছে। মূলত ইরানের এই ঘোষণার পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবেই ট্রাম্পের এমন কড়া অবস্থান সামনে এলো। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল সরবরাহের একটি বড় অংশ এই সরু জলপথের ওপর দিয়ে পরিবাহিত হয়।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালিতে নতুন কোনো শুল্ক বা টোল ব্যবস্থা কার্যকর হলে তা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ভয়াবহ অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। এটি কেবল তেলের দাম বাড়াবে না, বরং বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন এক সংকটের সূচনা করবে। যেহেতু প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যায়, তাই এই ধরনের কোনো পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় সরাসরি প্রভাব ফেলবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই প্রস্তাব আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন এবং বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। সার্বভৌম কোনো জলপথ বা আন্তর্জাতিক জলসীমায় একক কোনো দেশের টোল আরোপের বিষয়টি বিশ্বমঞ্চে কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে টোল বসাতে চান ট্রাম্প: ওয়াশিংটনের নতুন দাবি

আপডেট সময় ০৯:৫২:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

 

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর শুল্ক বা টোল আরোপের পরিকল্পনা ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি মনে করেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের ওপর নিয়ন্ত্রণ ও শুল্ক আদায়ের অধিকার ইরানের নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের থাকা উচিত। বাংলাদেশ সময় সোমবার মধ্যরাতে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এই বিতর্কিত প্রস্তাবটি সামনে আনেন।

সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, মার্কিন প্রশাসন কেন এই প্রণালি থেকে টোল আদায় করবে না? তিনি বলেন, “তাদের (ইরান) নিতে দেওয়ার চেয়ে আমি বরং নিজেই সেটা (টোল আদায়) করতে চাই।” মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘকালীন সামরিক উপস্থিতি এবং এই জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওয়াশিংটনের যে ভূমিকা রয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে এই ধরনের শুল্ক আরোপের নৈতিক ও কৌশলগত অধিকার একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রেরই প্রাপ্য।

আরও পড়ুন  ট্রাম্পের দাবি ইরান আত্মসমর্পণ করতে চলেছে

সম্প্রতি ইরান এই প্রণালি অতিক্রমকারী জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর ওপর একটি নতুন টোল ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। তেহরান এই পদক্ষেপকে তাদের জাতীয় ‘সার্বভৌম অধিকার’ হিসেবে দাবি করছে। মূলত ইরানের এই ঘোষণার পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবেই ট্রাম্পের এমন কড়া অবস্থান সামনে এলো। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল সরবরাহের একটি বড় অংশ এই সরু জলপথের ওপর দিয়ে পরিবাহিত হয়।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালিতে নতুন কোনো শুল্ক বা টোল ব্যবস্থা কার্যকর হলে তা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ভয়াবহ অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। এটি কেবল তেলের দাম বাড়াবে না, বরং বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন এক সংকটের সূচনা করবে। যেহেতু প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যায়, তাই এই ধরনের কোনো পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় সরাসরি প্রভাব ফেলবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই প্রস্তাব আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন এবং বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। সার্বভৌম কোনো জলপথ বা আন্তর্জাতিক জলসীমায় একক কোনো দেশের টোল আরোপের বিষয়টি বিশ্বমঞ্চে কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।