ঢাকা ০৭:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
পাকিস্তান-মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আজই যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা ইরানের বৃহত্তম পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় ইসরায়েলের ‘শক্তিশালী’ হামলা: অচল ৮৫ শতাংশ রপ্তানি সক্ষমতা ১০ বছর পর তনু হত্যায় নতুন মোড়: তিন সন্দেহভাজনের ডিএনএ পরীক্ষার আদেশ ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির লক্ষ্যমাত্রা সরকারের: অর্থমন্ত্রীর লালমনিরহাট সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি আহত: পাল্টা ভারতীয় কৃষক আটক সংসদে শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপির তালিকা প্রকাশ: তালিকায় বেক্সিমকো ও এস আলম গ্রুপ শিক্ষকদের জন্য পৃথক পে স্কেলের প্রস্তাব শিক্ষামন্ত্রীর ড. ইউনূসের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আইনি নোটিশ মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ হামলায় আইআরজিসি গোয়েন্দা প্রধান নিহত রাজ কাপুর–এর পৈতৃক বাড়ির অংশ বিধ্বস্ত

ইরানের বৃহত্তম পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় ইসরায়েলের ‘শক্তিশালী’ হামলা: অচল ৮৫ শতাংশ রপ্তানি সক্ষমতা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:০৬:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
  • / 11

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের অন্যতম প্রধান এবং বৃহত্তম একটি পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় ‘শক্তিশালী’ হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। সোমবার (৬ এপ্রিল) চালানো এই হামলার খবর নিশ্চিত করেছে বিবিসি। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, দেশটির আসালুইহে অবস্থিত এই বৃহত্তম স্থাপনাটিতে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। কাৎজ আইডিএফ-কে ইরানি অবকাঠামোতে ‘সর্বশক্তি দিয়ে’ হামলা অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী, আসালুইহের এই স্থাপনাটি ইরানের প্রায় অর্ধেক পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদন করত। গত সপ্তাহের আরেকটি হামলার ধারাবাহিকতায় এই নতুন হামলাটি চালানো হয়েছে। বর্তমানে এই দুটি স্থাপনা মিলে ইরানের মোট পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করত, যা হামলার ফলে এখন সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এই ঘটনাকে ইরানি শাসকগোষ্ঠীর জন্য কয়েক হাজার কোটি ডলারের এক ভয়াবহ অর্থনৈতিক বিপর্যয় হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ এই শিল্পটি বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর কার্যক্রম ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধির প্রধান উৎস।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সিও দুটি পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানিতে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এর আগে গত ১৮ মার্চ সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে তেহরান কাতারের একটি জ্বালানি কেন্দ্রসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছিল। জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই ধারাবাহিক হামলা ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধির স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।

আরও পড়ুন  ইরানের ইউরেনিয়াম নিতে স্পেশাল ফোর্স অভিযানের চিন্তা যুক্তরাষ্ট্রের

এই পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইতিপূর্বেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল সীমিত করেছে, যার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, সাউথ পার্স হামলার বিষয়ে তিনি আগে থেকে জানতেন না।
তবে গত রোববার (৫ এপ্রিল) এক বার্তায় তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, মঙ্গলবার রাত ৮টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত না করা হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালানো হবে। অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, এই অভিযানে ইসরায়েল ‘একাই পদক্ষেপ নিয়েছে’।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইরানের বৃহত্তম পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় ইসরায়েলের ‘শক্তিশালী’ হামলা: অচল ৮৫ শতাংশ রপ্তানি সক্ষমতা

আপডেট সময় ০৭:০৬:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের অন্যতম প্রধান এবং বৃহত্তম একটি পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় ‘শক্তিশালী’ হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। সোমবার (৬ এপ্রিল) চালানো এই হামলার খবর নিশ্চিত করেছে বিবিসি। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, দেশটির আসালুইহে অবস্থিত এই বৃহত্তম স্থাপনাটিতে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। কাৎজ আইডিএফ-কে ইরানি অবকাঠামোতে ‘সর্বশক্তি দিয়ে’ হামলা অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী, আসালুইহের এই স্থাপনাটি ইরানের প্রায় অর্ধেক পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদন করত। গত সপ্তাহের আরেকটি হামলার ধারাবাহিকতায় এই নতুন হামলাটি চালানো হয়েছে। বর্তমানে এই দুটি স্থাপনা মিলে ইরানের মোট পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করত, যা হামলার ফলে এখন সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এই ঘটনাকে ইরানি শাসকগোষ্ঠীর জন্য কয়েক হাজার কোটি ডলারের এক ভয়াবহ অর্থনৈতিক বিপর্যয় হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ এই শিল্পটি বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর কার্যক্রম ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধির প্রধান উৎস।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সিও দুটি পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানিতে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এর আগে গত ১৮ মার্চ সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে তেহরান কাতারের একটি জ্বালানি কেন্দ্রসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছিল। জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই ধারাবাহিক হামলা ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধির স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।

আরও পড়ুন  ইরানের প্রধান পেট্রোকেমিক্যাল কেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলা

এই পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইতিপূর্বেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল সীমিত করেছে, যার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, সাউথ পার্স হামলার বিষয়ে তিনি আগে থেকে জানতেন না।
তবে গত রোববার (৫ এপ্রিল) এক বার্তায় তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, মঙ্গলবার রাত ৮টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত না করা হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালানো হবে। অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, এই অভিযানে ইসরায়েল ‘একাই পদক্ষেপ নিয়েছে’।