ইরানে বিধ্বস্ত এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের দ্বিতীয় ক্রুকে উদ্ধার করল মার্কিন স্পেশাল ফোর্স
- আপডেট সময় ১০:৩০:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
- / 54
ইরানের অভ্যন্তরে বিধ্বস্ত হওয়া মার্কিন এফ-১৫-ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমানের দ্বিতীয় ক্রুকে উদ্ধার করে ফিরিয়ে এনেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী।
রোববার (৫ এপ্রিল) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন সামরিক বাহিনীর একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে উদ্ধারকৃত ক্রু জীবিত নাকি মৃত অবস্থায় রয়েছেন, সে বিষয়ে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। গত শুক্রবার বিমানটি ভূপাতিত হওয়ার পর থেকেই দুই ক্রুকে উদ্ধারে ইরানের ভূখণ্ডে সরাসরি প্রবেশ করে মার্কিন স্পেশাল ফোর্স, যা দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
মার্কিন সামরিক সূত্রের দাবি অনুযায়ী, দ্বিতীয় ক্রুকে উদ্ধারে মার্কিন বাহিনীকে ব্যাপক লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হয়েছে। গত শুক্রবার ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) বিমানটি ভূপাতিত করার পরপরই এক ক্রুকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্স। তবে দ্বিতীয় ক্রুর সন্ধানে রোববার পর্যন্ত চালানো এই অভিযানে মার্কিন নজরদারি বিমান ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়। উদ্ধার তৎপরতার এক পর্যায়ে ইরানি বাহিনীর প্রবল প্রতিরোধের মুখে একটি মার্কিন উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিধ্বস্ত বিমানের ক্রুদের জীবিত বা মৃত অবস্থায় হস্তান্তরের জন্য ইরান প্রলোভনমূলক কৌশল গ্রহণ করেছিল। ইরানের রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে ঘোষণা করা হয়েছিল যে, যে বা যারা মার্কিন ওই বিমান সেনাকে ধরে দিতে পারবে, তাদের ৬০ হাজার মার্কিন ডলার পুরস্কার প্রদান করা হবে। তেহরানের পক্ষ থেকে এমন পুরস্কারের ঘোষণা প্রমাণ করে যে, তারা মার্কিন সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের জন্য এই ক্রুদের জিম্মি করতে অত্যন্ত মরিয়া ছিল।
গত শুক্রবার সকালে ইরানি আকাশসীমায় টহল বা হামলার সময় আইআরজিসি-র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আঘাতে মার্কিন এফ-১৫-ই যুদ্ধবিমানটি বিধ্বস্ত হয়। এই ধরনের বিমানে সাধারণত দুজন ক্রু থাকেন; একজন বিমান পরিচালনা করেন (পাইলট) এবং অন্যজন অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ করেন। বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর থেকেই পেন্টাগন তাদের নিখোঁজ সদস্যদের ফিরিয়ে নিতে সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে অভিযান পরিচালনা করে আসছিল।
মার্কিন ক্রুদের উদ্ধারের পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ইরানের ভেতরে ঢুকে যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্ধার অভিযানকে তেহরান সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের কর্মকর্তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে যেকোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে। এই ঘটনার ফলে হরমুজ প্রণালী ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে মোতায়েন করা উভয় দেশের সামরিক বাহিনী এখন সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা
























