নোয়াখালীতে ছেলেদের বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারালেন কৃষক দল নেতা
- আপডেট সময় ০৯:৫৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
- / 38
নোয়াখালী সদর উপজেলায় কিশোরদের অতর্কিত হামলায় মো. সেলিম (৫০) নামের এক স্থানীয় কৃষক দল নেতা নিহত হয়েছেন। শনিবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে দাদপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের গৌরিপুর গ্রামে এই সহিংস ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, নিজের সন্তানদের বাঁচাতে গিয়ে হামলার শিকার হন তিনি। নিহত সেলিম স্থানীয় ৪নং ওয়ার্ড কৃষক দলের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন এবং পেশায় একজন চা দোকানি। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহতের ছেলে অন্তরের সঙ্গে এলাকার কয়েকজন কিশোরের—যাদের মধ্যে সজল, শাওন, ফাহাদ ও রিয়াজের নাম উঠে এসেছে—বেশ কিছু দিন ধরে বিরোধ চলছিল। এজহারে উল্লেখ করার মতো তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দুপুরে ফোনে সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বে অন্তর ও সজলের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। এই ঘটনার রেশ ধরে সন্ধ্যায় সজল তার সহযোগীদের নিয়ে সেলিমের বাড়ির সামনে অবস্থান নেয় এবং হামলা চালায়।
সন্ধ্যার দিকে অভিযুক্তরা অন্তরের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করলে তার বড় ভাই শাকিল বাধা দিতে এগিয়ে আসেন। শোরগোল শুনে নিকটস্থ নিজের দোকান থেকে ছেলেদের রক্ষা করতে ছুটে যান বাবা সেলিম।
পরিবারের দাবি অনুযায়ী, এ সময় অভিযুক্ত কিশোররা তাকে ঘিরে ধরে বেধড়ক মারধর করে এবং মাথায় গুরুতর আঘাত করে। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে পড়েন।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বড় ছেলে শাকিল অভিযোগ করেছেন যে, পূর্ব বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে তার বাবাকে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে, নিহতের ছোট ভাই আনোয়ার হোসেন এই চক্রটিকে স্থানীয় ‘কিশোর গ্যাং’ হিসেবে অভিহিত করে দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন। দাদপুর ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতিও এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের গ্রেপ্তার দাবি করেছেন।
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, রাত ৯টার দিকে সেলিমকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বের জেরে দুই পক্ষের মারামারির খবর তারা পেয়েছেন। তিনি বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” বর্তমানে এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।























