ঢাকা ০৫:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সামোয়া: পলিনেশিয়ার ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মিলন সমৃদ্ধ খাদ্য ভান্ডার গড়ার প্রত্যয়: ‘কৃষক’ পরিচয়ে কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশীদ ইয়াছিন ডাকসুতে অন্তর্কোন্দল: সাদিক কায়েমদের বিরুদ্ধে ফাতেমা জুমার ক্ষোভ ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে ঢাবি ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি মেঘমল্লার বসুর আত্মহত্যার চেষ্টা কুষ্টিয়ায় ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশার ৫ যাত্রী নিহত অর্থনীতি সংস্কারে বড় পরিকল্পনা: শেয়ারবাজার ও বিনিয়োগ নিয়ে অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল ইউরোপের আরেক দেশ মোটরসাইকেলে এসে গ্রামবাসীকে ব্রাশফায়ার, নিহত ৫০ ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধের সূচনা : প্রতিমন্ত্রী ইশরাক ভোক্তা অধিকারের অভিযানে বাঁধা: পুলিশ মামলা না নেওয়ায় মিলনের বিস্ময়

একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:১১:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 20

ছবি: সংগৃহীত

 

অমর একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শুক্রবার রাত ঠিক ১২টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি। এরপর রাত ১২টা ৮ মিনিটে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন প্রধানমন্ত্রী। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের পর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানান তিনি।

আরও পড়ুন  আপনারা ভালা আছেন নি?' সিলেটে তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী তার স্ত্রী জোবায়দা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে শহীদ মিনারে আসেন।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়–এর উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান, একুশে উদযাপন কমিটির নেতারা ও সংশ্লিষ্টরা।

শ্রদ্ধা নিবেদনের পর ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এতে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদ, চব্বিশের আন্দোলনের শহীদ, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়। দেশের শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধিও কামনা করা হয় এ সময়।

পরে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার সদস্যরা শহীদ বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর পক্ষ থেকেও আলাদাভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু ও তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

মন্ত্রিসভার শ্রদ্ধা নিবেদনের পর প্রধানমন্ত্রী জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকেও পৃথকভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। রাত ১২টা ২১ মিনিটে তিনি শহীদ মিনার ত্যাগ করেন।

এর মধ্যেই সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন নিজ নিজ বাহিনীর পক্ষে শ্রদ্ধা জানান।

পরে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান–এর নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোটের নেতারা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বিদেশি রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকরাও ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের স্মরণ করেন।

প্রথম প্রহরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদ মিনার সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। হাজারো মানুষ সারিবদ্ধভাবে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

ইতিহাসের প্রেক্ষাপট

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে তৎকালীন পূর্ববাংলায় ছাত্র-জনতা ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে আন্দোলনে নামে। পুলিশি গুলিতে সালাম, রফিক, বরকত, শফিউরসহ অনেকে শহীদ হন। তীব্র আন্দোলনের মুখে বাংলা রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি পায়। ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালে সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশ।

১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় আত্মত্যাগের এই দিনটি এখন বিশ্বজুড়ে ভাষাপ্রেম ও অধিকার আদায়ের প্রতীক। এবার ভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছর পূর্ণ হচ্ছে। শনিবার রাজধানীসহ সারাদেশে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

আপডেট সময় ১০:১১:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

অমর একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শুক্রবার রাত ঠিক ১২টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি। এরপর রাত ১২টা ৮ মিনিটে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন প্রধানমন্ত্রী। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের পর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানান তিনি।

আরও পড়ুন  খেলাধুলা হতে পারে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সেতুবন্ধন: পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি

প্রধানমন্ত্রী তার স্ত্রী জোবায়দা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে শহীদ মিনারে আসেন।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়–এর উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান, একুশে উদযাপন কমিটির নেতারা ও সংশ্লিষ্টরা।

শ্রদ্ধা নিবেদনের পর ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এতে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদ, চব্বিশের আন্দোলনের শহীদ, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়। দেশের শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধিও কামনা করা হয় এ সময়।

পরে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার সদস্যরা শহীদ বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর পক্ষ থেকেও আলাদাভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু ও তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

মন্ত্রিসভার শ্রদ্ধা নিবেদনের পর প্রধানমন্ত্রী জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকেও পৃথকভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। রাত ১২টা ২১ মিনিটে তিনি শহীদ মিনার ত্যাগ করেন।

এর মধ্যেই সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন নিজ নিজ বাহিনীর পক্ষে শ্রদ্ধা জানান।

পরে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান–এর নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোটের নেতারা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বিদেশি রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকরাও ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের স্মরণ করেন।

প্রথম প্রহরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদ মিনার সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। হাজারো মানুষ সারিবদ্ধভাবে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

ইতিহাসের প্রেক্ষাপট

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে তৎকালীন পূর্ববাংলায় ছাত্র-জনতা ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে আন্দোলনে নামে। পুলিশি গুলিতে সালাম, রফিক, বরকত, শফিউরসহ অনেকে শহীদ হন। তীব্র আন্দোলনের মুখে বাংলা রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি পায়। ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালে সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশ।

১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় আত্মত্যাগের এই দিনটি এখন বিশ্বজুড়ে ভাষাপ্রেম ও অধিকার আদায়ের প্রতীক। এবার ভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছর পূর্ণ হচ্ছে। শনিবার রাজধানীসহ সারাদেশে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হবে।