শূন্যপাস প্রতিষ্ঠান একীভূত করার পরিকল্পনা: শিক্ষামন্ত্রী
- আপডেট সময় ০২:১৫:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
- / 16
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থী পাস না করা ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একীভূত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে সরকার। শিক্ষার পরিবেশ ও ফলাফলের উন্নয়নে প্রয়োজনে এসব প্রতিষ্ঠানকে কাছাকাছি অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তবে এ উদ্যোগের কারণে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের চাকরি হারানোর আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
শূন্যপাস প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ ও ফলাফল কীভাবে উন্নত করা যায়, তা নিয়ে সরকার কাজ করবে। প্রয়োজনে কাছাকাছি থাকা অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এগুলো একীভূত করার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এতে শিক্ষকদের চাকরির কোনো ঝুঁকি থাকবে না।
এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পাসের হার কমার পেছনে কোথায় ঘাটতি রয়েছে, তা চিহ্নিত করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যাগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পরীক্ষার খাতা পুনর্নিরীক্ষণের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী জানান, এবারও এ সুযোগ রাখা হবে। এর মাধ্যমে কোনো শিক্ষার্থী যেন মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করা হবে। গত এসএসসি পরীক্ষার খাতা পুনর্নিরীক্ষণের পর নতুন করে ৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়েও সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। এ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কত দিনের মধ্যে তাদের পরীক্ষা নেওয়া হলে ভালো হয়, তা নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এক মাসের মধ্যে পরীক্ষা আয়োজন করা সম্ভব কি না, সেটিও বিবেচনা করা হচ্ছে।
এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। অন্যদিকে অকৃতকার্য হয়েছেন ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এবার দেশের ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। গত বছর এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ২০২টি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে শূন্যপাস প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ৯১টি। অন্যদিকে এবার শতভাগ পাস করেছে ১৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।
গত বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ। একই সঙ্গে কমেছে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও। গত বছর ৬৯ হাজার ৯৭ জন জিপিএ-৫ পেলেও এবার পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন।
উল্লেখ্য, গত ২ জুলাই এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা ছিল ৮ আগস্ট। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হলে ওই বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর।





















