অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমে নতুন পরিকল্পনার কথা জানালেন শিক্ষামন্ত্রী
- আপডেট সময় ০২:৪৫:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
- / 25
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি খাতের অস্থিরতা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ তেলের সংকট মোকাবিলায় নতুন কৌশল হাতে নিচ্ছে সরকার। জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্য নিয়ে এবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সশরীরে ক্লাসের পাশাপাশি অনলাইন কার্যক্রম চালুর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন সরকারের এই প্রাথমিক পরিকল্পনার কথা জানান।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, সরকার শিগগিরই সারা দেশের স্কুলগুলোতে সরাসরি ক্লাসের পাশাপাশি অনলাইনে পাঠদানের বিষয়টি বিবেচনা করছে। বিশেষ করে দেশের মেট্রোপলিটন বা মহানগর এলাকাগুলোতে অনলাইন ক্লাসের বিষয়টিকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শুরুতে দেশের সব বড় শহরের স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন ও অফলাইন—উভয় পদ্ধতিতেই ক্লাস পরিচালনার খসড়া তৈরি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
অনলাইন ক্লাসের গুঞ্জন ও জ্বালানি সাশ্রয়ের এই প্রস্তাবটি আগামী মন্ত্রিসভার বৈঠকে উত্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন যে, মন্ত্রিসভায় বিস্তারিত আলোচনার পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা আসবে। এর ফলে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের যাতায়াত কমবে, অন্যদিকে জ্বালানি খরচেও বড় ধরনের সাশ্রয় সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করতে এখন থেকে সপ্তাহে ৬ দিন ক্লাস চালু রাখার পরিকল্পনা করছে সরকার। শিক্ষামন্ত্রী জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে হোম অফিস বা অনলাইন ক্লাসের গুঞ্জন উঠলেও শিক্ষার মান বজায় রাখতে এবং সেশনজট নিরসনে ক্লাস সংখ্যা বাড়ানোর দিকেও নজর দিচ্ছে মন্ত্রণালয়।
শিক্ষাব্যবস্থার বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেন, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময়ক্ষেপণ শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় নষ্ট করছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নির্দিষ্ট সময়ে পাঠদান শেষ করলেও শিক্ষা বোর্ডগুলো পাবলিক পরীক্ষা নিতে অনেক সময় বিলম্ব করে। ডিসেম্বরের পরীক্ষা পরবর্তী বছরের এপ্রিল বা জুনে চলে যাওয়ায় যে জাতীয় ক্ষতি হচ্ছে, তা কাটিয়ে উঠতে কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেন তিনি।
মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, মহানগর এলাকাগুলোতে যানজট নিরসন ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোকে স্থায়ীভাবে ব্যবহারের কথা ভাবা হচ্ছে। এতে করে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হবে না এবং প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত হবে।

























