ঢাকা ০৩:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ১০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
প্রতিশ্রুতি দিয়েও ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র হামলার, কথা রাখলেন না ট্রাম্প ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে নিহত ২, আহত অন্তত ৩০ যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় ইরাকে ১৫ জন নিহত,আহত অন্তত ৩০ জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তিতে একমত সংসদীয় কমিটি অপরাধ দমনে চালু হচ্ছে ‘হটলাইন’: প্রতিমন্ত্রী পুতুল দেশে জ্বালানি মজুত নিয়ে আশ্বাস, তবে সরবরাহে চাপ ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে সারাদেশের পেট্রোল পাম্প যে কোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে তেল-নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে পারে: সতর্কবার্তা মির্জা ফখরুলের পাবনায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে গৃহবধূ নিহত, আহত ১০ আলটিমেটাম শেষ হওয়ার আগেই ভোল পাল্টালেন ট্রাম্প

গ্যাস সংকট কাটাতে ঋণের ফাঁদে জ্বালানি খাত, এলএনজি কেনার জন্য ৪২৭০ কোটি টাকা ঋণ নিতে পারে সরকার

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:০১:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ মার্চ ২০২৫
  • / 177

ছবি: সংগৃহীত

 

দেশের গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়াতে বাধ্য হচ্ছে সরকার। কিন্তু চলমান ডলার সংকটের কারণে আমদানি বিল পরিশোধ কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় আগামী অর্থবছরে (২০২৫-২৬) বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ৩৫ কোটি ডলার বা ৪ হাজার ২৭০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং পেট্রোবাংলা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বিশ্বব্যাংকের কারিগরি সহায়তায় ঋণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যেখানে গ্যারান্টার হিসেবে থাকবে বিশ্বব্যাংক। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর প্রস্তাব পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে জ্বালানি বিভাগ।

আরও পড়ুন  যুক্তরাষ্ট্রের আর্জেন্ট এলএনজির সঙ্গে বাংলাদেশের বড় চুক্তি

এদিকে, মার্কিন কোম্পানি শেভরনের গ্যাস বিল বকেয়া রয়েছে ১৫ কোটি ডলারের বেশি, আর এলএনজি আমদানির বিল বকেয়া ২০ কোটি ডলারের বেশি। সময়মতো পরিশোধ না হওয়ায় বিদেশি কোম্পানিগুলো এলএনজি সরবরাহে আগ্রহ হারাচ্ছে।

একসময় দেশে প্রতিদিন ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হতো, যা ২০১৮ সালের পর থেকে কমতে থাকে। বর্তমানে উৎপাদন নেমে এসেছে ১৯০ কোটি ঘনফুটের নিচে, আর আমদানি করা এলএনজি থেকে সরবরাহ হচ্ছে ৯৫ কোটি ঘনফুট। ঘাটতি মোকাবিলায় বিগত সরকার আমদানির ওপর নির্ভর করলেও গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়নি।

এর আগে সরকার আইটিএফসি থেকে স্বল্পমেয়াদি ঋণ নিয়ে এলএনজি কিনেছিল। এবার দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় ২০ কোটি ডলার ঋণ নেওয়া হবে এলএনজি আমদানির জন্য, আর ৫ কোটি ডলার আসবে খোলাবাজার থেকে। বকেয়া পরিশোধে নেওয়া হবে আরও ১০ কোটি ডলার। এতে বিশ্বব্যাংক গ্যারান্টার হিসেবে কমিশন নেবে, বহুজাতিক ব্যাংকগুলো নেবে সুদ।

জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, বকেয়া পরিশোধ না হওয়ায় ভালো কোম্পানিগুলো এলএনজি সরবরাহে আগ্রহী নয়। এ কারণে আমদানি বাড়ানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করাও জরুরি হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে ব্রুনেই ও সৌদি আরামকোর সঙ্গে আলোচনা চলছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এলএনজি আমদানি বাড়ানোর নীতি গ্যাস খাতকে ঝুঁকিতে ফেলেছে। সাময়িকভাবে ঋণ নিয়ে আমদানি বিল শোধ করলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি নতুন সংকট তৈরি করবে। সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের মতে, সুদসহ ঋণ নিয়ে দায় শোধের এই চক্র অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়াবে এবং ভবিষ্যতে ঋণ সংগ্রহ করাও কঠিন হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

গ্যাস সংকট কাটাতে ঋণের ফাঁদে জ্বালানি খাত, এলএনজি কেনার জন্য ৪২৭০ কোটি টাকা ঋণ নিতে পারে সরকার

আপডেট সময় ০৪:০১:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ মার্চ ২০২৫

 

দেশের গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়াতে বাধ্য হচ্ছে সরকার। কিন্তু চলমান ডলার সংকটের কারণে আমদানি বিল পরিশোধ কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় আগামী অর্থবছরে (২০২৫-২৬) বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ৩৫ কোটি ডলার বা ৪ হাজার ২৭০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং পেট্রোবাংলা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বিশ্বব্যাংকের কারিগরি সহায়তায় ঋণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যেখানে গ্যারান্টার হিসেবে থাকবে বিশ্বব্যাংক। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর প্রস্তাব পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে জ্বালানি বিভাগ।

আরও পড়ুন  চট্টগ্রামে জ্বালানি সংকটে কনটেইনার ডিপোর কার্যক্রম ঝুঁকিতে

এদিকে, মার্কিন কোম্পানি শেভরনের গ্যাস বিল বকেয়া রয়েছে ১৫ কোটি ডলারের বেশি, আর এলএনজি আমদানির বিল বকেয়া ২০ কোটি ডলারের বেশি। সময়মতো পরিশোধ না হওয়ায় বিদেশি কোম্পানিগুলো এলএনজি সরবরাহে আগ্রহ হারাচ্ছে।

একসময় দেশে প্রতিদিন ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হতো, যা ২০১৮ সালের পর থেকে কমতে থাকে। বর্তমানে উৎপাদন নেমে এসেছে ১৯০ কোটি ঘনফুটের নিচে, আর আমদানি করা এলএনজি থেকে সরবরাহ হচ্ছে ৯৫ কোটি ঘনফুট। ঘাটতি মোকাবিলায় বিগত সরকার আমদানির ওপর নির্ভর করলেও গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়নি।

এর আগে সরকার আইটিএফসি থেকে স্বল্পমেয়াদি ঋণ নিয়ে এলএনজি কিনেছিল। এবার দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় ২০ কোটি ডলার ঋণ নেওয়া হবে এলএনজি আমদানির জন্য, আর ৫ কোটি ডলার আসবে খোলাবাজার থেকে। বকেয়া পরিশোধে নেওয়া হবে আরও ১০ কোটি ডলার। এতে বিশ্বব্যাংক গ্যারান্টার হিসেবে কমিশন নেবে, বহুজাতিক ব্যাংকগুলো নেবে সুদ।

জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, বকেয়া পরিশোধ না হওয়ায় ভালো কোম্পানিগুলো এলএনজি সরবরাহে আগ্রহী নয়। এ কারণে আমদানি বাড়ানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করাও জরুরি হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে ব্রুনেই ও সৌদি আরামকোর সঙ্গে আলোচনা চলছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এলএনজি আমদানি বাড়ানোর নীতি গ্যাস খাতকে ঝুঁকিতে ফেলেছে। সাময়িকভাবে ঋণ নিয়ে আমদানি বিল শোধ করলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি নতুন সংকট তৈরি করবে। সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের মতে, সুদসহ ঋণ নিয়ে দায় শোধের এই চক্র অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়াবে এবং ভবিষ্যতে ঋণ সংগ্রহ করাও কঠিন হবে।