১০:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
শিরোনাম :
ব্যাংক মার্জার: ‘শূন্য’ হওয়া শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিলেন অর্থ উপদেষ্টা গৃহকর্মী নির্যাতন : বিমানের সাবেক এমডিসহ ৪ জনের রিমান্ড স্বচ্ছতার নজির: সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করলেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা সারাদেশে ৫ দিন ড্রোন ওড়ানো নিষিদ্ধ বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান লড়াই, আফ্রিদির মতে ‘ক্রিকেটের জয়’ পঞ্চগড়ে সারজিসকে সমর্থন দিলো ইসলামী আন্দোলন নির্বাচনের দিন সহিংসতা হলে, ওই দিন বুঝবেন প্রশাসনের কী প্রস্তুতি আছে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা রোনালদো বিদায় নিলেই সৌদি লিগ দর্শকশূন্য হয়ে পড়বে-ক্রুস শহীদ ওসমান হাদির পরিবারকে ফ্ল্যাটের দলিল–চাবি হস্তান্তর করলেন প্রধান উপদেষ্টা জামায়াত সেক্রেটারীর পা ভেঙে দিলেন বিএনপি কর্মী

ব্যাংক মার্জার: ‘শূন্য’ হওয়া শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিলেন অর্থ উপদেষ্টা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:১৬:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 24

ছবি: সংগৃহীত

 

বেসরকারি খাতের পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করার ফলে যে শেয়ারহোল্ডাররা পুঁজি হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের জন্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা নেতিবাচক হওয়ার সম্পূর্ণ দায় একতরফাভাবে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যৌক্তিক নয়।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

 

সম্প্রতি একীভূত হওয়া ইসলামী ব্যাংকগুলোর শেয়ারের মূল্য ‘শূন্য’ হয়ে গেছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর যে মন্তব্য করেছিলেন, সেই প্রসঙ্গে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “গভর্নর সাহেব কারিগরি দিক থেকে হয়তো বলেছেন যে নিট সম্পদ মূল্য (NAV) ঋণাত্মক হওয়ায় শেয়ারের দাম নেই। কিন্তু সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বাজারের সিগন্যাল দেখে শেয়ার কিনেছেন। তাই কারিগরি জটিলতা থাকলেও আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছি।”

তিনি আরও যোগ করেন, “একজন বিনিয়োগকারী অনেক টাকা দিয়ে শেয়ার কিনেছেন, এখন সব দায় তার ওপর ছেড়ে দেওয়া যায় না। আমরা দেখছি কীভাবে তাদের আংশিক শেয়ার বা অন্য কোনো মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ দেওয়া যায়।”

 

উল্লেখ্য, শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে গঠিত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গত ১ ডিসেম্বর লাইসেন্স পায় এবং চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যক্রম শুরু করে। আমানতকারীদের বিষয়ে উপদেষ্টা আশ্বস্ত করে বলেন, “আমানতকারীরা অবশ্যই তাদের টাকা পাবেন। ইতোমধ্যে ৪২ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে যেন গ্রাহকরা টাকা তুলতে পারেন।”

 

অর্থ উপদেষ্টা জানান, এই ক্ষতিপূরণের মডেল তৈরি করতে কিছুটা সময় লাগবে এবং এর চূড়ান্ত বাস্তবায়ন পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের অর্থমন্ত্রীর হাত ধরে হতে পারে। ব্যাংক খাতের সংস্কার নিয়ে তিনি বলেন, “শুধু এককালীন সিদ্ধান্তে এই খাতের কাঠামোগত দুর্বলতা কাটবে না। সংস্কারের ধারাবাহিকতা প্রয়োজন। শেয়ারবাজার ও বন্ড মার্কেটকে শক্তিশালী না করলে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতি টেকসই হবে না।”
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বর্তমান সরকারের নেওয়া এই উদ্যোগগুলো পরবর্তী সরকার বজায় রাখলে ব্যাংক খাতে দ্রুত স্থিতিশীলতা ফিরবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ব্যাংক মার্জার: ‘শূন্য’ হওয়া শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিলেন অর্থ উপদেষ্টা

আপডেট সময় ০৯:১৬:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

বেসরকারি খাতের পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করার ফলে যে শেয়ারহোল্ডাররা পুঁজি হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের জন্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা নেতিবাচক হওয়ার সম্পূর্ণ দায় একতরফাভাবে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যৌক্তিক নয়।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

 

সম্প্রতি একীভূত হওয়া ইসলামী ব্যাংকগুলোর শেয়ারের মূল্য ‘শূন্য’ হয়ে গেছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর যে মন্তব্য করেছিলেন, সেই প্রসঙ্গে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “গভর্নর সাহেব কারিগরি দিক থেকে হয়তো বলেছেন যে নিট সম্পদ মূল্য (NAV) ঋণাত্মক হওয়ায় শেয়ারের দাম নেই। কিন্তু সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বাজারের সিগন্যাল দেখে শেয়ার কিনেছেন। তাই কারিগরি জটিলতা থাকলেও আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছি।”

তিনি আরও যোগ করেন, “একজন বিনিয়োগকারী অনেক টাকা দিয়ে শেয়ার কিনেছেন, এখন সব দায় তার ওপর ছেড়ে দেওয়া যায় না। আমরা দেখছি কীভাবে তাদের আংশিক শেয়ার বা অন্য কোনো মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ দেওয়া যায়।”

 

উল্লেখ্য, শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে গঠিত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গত ১ ডিসেম্বর লাইসেন্স পায় এবং চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যক্রম শুরু করে। আমানতকারীদের বিষয়ে উপদেষ্টা আশ্বস্ত করে বলেন, “আমানতকারীরা অবশ্যই তাদের টাকা পাবেন। ইতোমধ্যে ৪২ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে যেন গ্রাহকরা টাকা তুলতে পারেন।”

 

অর্থ উপদেষ্টা জানান, এই ক্ষতিপূরণের মডেল তৈরি করতে কিছুটা সময় লাগবে এবং এর চূড়ান্ত বাস্তবায়ন পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের অর্থমন্ত্রীর হাত ধরে হতে পারে। ব্যাংক খাতের সংস্কার নিয়ে তিনি বলেন, “শুধু এককালীন সিদ্ধান্তে এই খাতের কাঠামোগত দুর্বলতা কাটবে না। সংস্কারের ধারাবাহিকতা প্রয়োজন। শেয়ারবাজার ও বন্ড মার্কেটকে শক্তিশালী না করলে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতি টেকসই হবে না।”
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বর্তমান সরকারের নেওয়া এই উদ্যোগগুলো পরবর্তী সরকার বজায় রাখলে ব্যাংক খাতে দ্রুত স্থিতিশীলতা ফিরবে।