ঢাকা ১১:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা ‎বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে গিয়ে নিখোঁজ যুবক, সকালে মিলল মরদেহ ‎আর্জেন্টিনার হার মেনে নিতে না পেরে দুই জনের মৃত্যু সীমান্তে ১০৯ কিমি কাঁটাতারের বেড়ার পরিকল্পনা সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৌশলের ভুলে শিরোপা হারাল আর্জেন্টিনা; বিবিসির বিশ্লেষণ দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রিজেন্টের সেই সাহেদ ফের গ্রেপ্তার সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন

আইএমএফ-এর সঙ্গে চুক্তি হয়নি, চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তির অর্থছাড়ে অনিশ্চয়তা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:৪৪:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৫
  • / 398

ছবি সংগৃহীত

 

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চলমান ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশের চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তির অর্থছাড় এখনো চূড়ান্ত হয়নি। দুই সপ্তাহব্যাপী আলোচনার পরও সফররত আইএমএফ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি বাংলাদেশ সরকার। ফলে আপাতত এই দুই কিস্তির অর্থ পাওয়া যাচ্ছে না।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে আইএমএফের মিশনপ্রধান ক্রিস পাপাজর্জিও এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, এখনো আলোচনা চলমান রয়েছে এবং সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে জুনের শেষ দিকে চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তির অর্থ ছাড় হতে পারে। ওয়াশিংটনে ২১ থেকে ২৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের বসন্তকালীন বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আবারও আলোচনা হবে।

আরও পড়ুন  সীমান্তে উত্তেজনার মাঝেও পাকিস্তানকে আইএমএফ ঋণ, ক্ষুব্ধ ভারত

পাপাজর্জিও জানান, বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পরিস্থিতি আশানুরূপ এবং বিনিময় হার মোটামুটি স্থিতিশীল। রিজার্ভের পরিমাণ তাদের পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি হলেও বিনিময় হার আরও নমনীয় হলে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বাড়বে বলে মনে করছেন তিনি।

করব্যবস্থা সংস্কার, করনীতিকে সহজতর করা এবং করছাড় হ্রাস করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে আইএমএফ। তারা মনে করে, রাজস্ব আয় বাড়ানোর টেকসই পথ খুঁজে বের করাই এখন সময়ের দাবি। একইসঙ্গে করনীতি ও প্রশাসনের মধ্যে স্পষ্ট সীমারেখা টানার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

ব্যাংক খাতের অবস্থা উন্নত করতে আইএমএফ আইনি সংস্কার, সঠিক সম্পদ মূল্যায়ন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতা ও সুশাসন জোরদারের পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন রোধে আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে জোর দিয়েছে সংস্থাটি।

৬ এপ্রিল থেকে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত আইএমএফ প্রতিনিধিরা অর্থ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআর, বিদ্যুৎ বিভাগসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করেছে। অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গেও দু’দফা বৈঠক হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি বাংলাদেশ ও আইএমএফের মধ্যে এই ঋণচুক্তি কার্যকর হয়। এ পর্যন্ত তিন কিস্তিতে ২৩১ কোটি ডলার পেয়েছে বাংলাদেশ। বাকি রয়েছে ২৩৯ কোটি ডলার। অন্তর্বর্তী সরকার আশা করছে, জুন মাসেই বাকি দুই কিস্তির অর্থ একসঙ্গে ছাড় হবে। তবে এবার কোনো স্টাফ লেভেল চুক্তি না হওয়ায় বিষয়টি ঘিরে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আইএমএফ-এর সঙ্গে চুক্তি হয়নি, চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তির অর্থছাড়ে অনিশ্চয়তা

আপডেট সময় ০৭:৪৪:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৫

 

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চলমান ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশের চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তির অর্থছাড় এখনো চূড়ান্ত হয়নি। দুই সপ্তাহব্যাপী আলোচনার পরও সফররত আইএমএফ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি বাংলাদেশ সরকার। ফলে আপাতত এই দুই কিস্তির অর্থ পাওয়া যাচ্ছে না।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে আইএমএফের মিশনপ্রধান ক্রিস পাপাজর্জিও এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, এখনো আলোচনা চলমান রয়েছে এবং সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে জুনের শেষ দিকে চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তির অর্থ ছাড় হতে পারে। ওয়াশিংটনে ২১ থেকে ২৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের বসন্তকালীন বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আবারও আলোচনা হবে।

আরও পড়ুন  কৃষিতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখতে আইএমএফ ছাড়ার সিদ্ধান্ত: ড. আনিসুজ্জামান

পাপাজর্জিও জানান, বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পরিস্থিতি আশানুরূপ এবং বিনিময় হার মোটামুটি স্থিতিশীল। রিজার্ভের পরিমাণ তাদের পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি হলেও বিনিময় হার আরও নমনীয় হলে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বাড়বে বলে মনে করছেন তিনি।

করব্যবস্থা সংস্কার, করনীতিকে সহজতর করা এবং করছাড় হ্রাস করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে আইএমএফ। তারা মনে করে, রাজস্ব আয় বাড়ানোর টেকসই পথ খুঁজে বের করাই এখন সময়ের দাবি। একইসঙ্গে করনীতি ও প্রশাসনের মধ্যে স্পষ্ট সীমারেখা টানার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

ব্যাংক খাতের অবস্থা উন্নত করতে আইএমএফ আইনি সংস্কার, সঠিক সম্পদ মূল্যায়ন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতা ও সুশাসন জোরদারের পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন রোধে আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে জোর দিয়েছে সংস্থাটি।

৬ এপ্রিল থেকে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত আইএমএফ প্রতিনিধিরা অর্থ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআর, বিদ্যুৎ বিভাগসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করেছে। অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গেও দু’দফা বৈঠক হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি বাংলাদেশ ও আইএমএফের মধ্যে এই ঋণচুক্তি কার্যকর হয়। এ পর্যন্ত তিন কিস্তিতে ২৩১ কোটি ডলার পেয়েছে বাংলাদেশ। বাকি রয়েছে ২৩৯ কোটি ডলার। অন্তর্বর্তী সরকার আশা করছে, জুন মাসেই বাকি দুই কিস্তির অর্থ একসঙ্গে ছাড় হবে। তবে এবার কোনো স্টাফ লেভেল চুক্তি না হওয়ায় বিষয়টি ঘিরে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।