ঢাকা ০২:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ঢাকাসহ ৪ বিভাগে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা: বাড়তে পারে দিনের তাপমাত্রা দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে আর জড়াবে না যুক্তরাষ্ট্র: ফক্স নিউজকে জেডি ভ্যান্স ইরানকে চিরতরে দমানোর ছক করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ঃ হাকান ফিদান শেয়ারবাজার কারসাজি: সাকিবসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন পেছাল ইরান সমঝোতার জন্য প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও তাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। নওগাঁ আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপির একচেটিয়া জয়, শূন্য হাতে জামায়াত শাহজালাল বিমানবন্দরে চারদিনে ১৪৭ ফ্লাইট বাতিল দুদকে পরিবর্তন, চেয়ারম্যান-কমিশনারদের পদত্যাগ পলিটেকনিকে সংঘর্ষ: রক্তের ‘বদলা’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি ছাত্রদল সভাপতির বিলবোর্ড ও ব্যানার থেকে নিজের ছবি সরানোর নির্দেশ: প্রধানমন্ত্রী

ভ্যাট ব্যবস্থায় বিপর্যয়: দুর্নীতির জালে রাজস্ব ঘাটতি ৫৮ হাজার কোটি টাকা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:১৫:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৫
  • / 149

ছবি: সংগৃহীত

 

বাংলাদেশে রাজস্ব আয়ের সবচেয়ে বড় খাত হচ্ছে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট)। কিন্তু ব্যবসায়ীদের অনিয়ম, দুর্নীতি ও ভ্যাট ফাঁকি দেওয়ার ফলে এই খাতে রাজস্ব আদায় অত্যন্ত সীমিত হয়ে পড়েছে। বর্তমানে দেশের ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআইয়ে প্রায় সাড়ে তিন কোটি ব্যবসায়ী নিবন্ধিত হলেও, এনবিআরের কাছে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা মাত্র ৫ লাখের কিছু বেশি। তার মধ্যে আবার বেশিরভাগই ভ্যাট রিটার্ন জমা দেয় না।

এমন পরিস্থিতিতে দেশের রাজস্ব ঘাটতি বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা চলতি বছরে ছয় মাসেই ৫৮ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। বিশেষ করে ডিজিটাইজেশনের অভাবে ভ্যাট আদায়ে নানা ফাঁকিবাজি চলে আসছে। রাজস্ব কর্তৃপক্ষ বারবার ভ্যাটের হার বাড়িয়ে সমস্যার সমাধান করতে চাইছে, কিন্তু নতুন ভ্যাটদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে তালিকাভুক্ত না করার ফলে সেই বাড়তি ভ্যাট আদায়ও সম্ভব হচ্ছে না।

আরও পড়ুন  নিক্সন চৌধুরীর বিরুদ্ধে অস্বাভাবিক লেনদেন ও অবৈধ সম্পদের মামলা

২০১৮ সালে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী ও সাভারের ২৫টি বাজারে চালানো এক জরিপে দেখা যায়, প্রায় ৮৮% প্রতিষ্ঠানই ভ্যাট ফাঁকি দেয়। এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভ্যাট প্রদান থেকে বিরত থাকলেও, রাজস্ব কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে তেমন কোনো কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। বরং ম্যানুয়াল পদ্ধতির ওপর নির্ভরশীলতার কারণে ভ্যাট আদায়ের ক্ষেত্রে নানা ধরনের ঘুষ-দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বলেন, “ভ্যাট আদায় বাড়ানোর জন্য অটোমেশন চালু করা উচিত, যাতে নতুন ব্যবসায়ীদেরও সঠিকভাবে ভ্যাটের আওতায় আনা যায়।” কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, অটোমেশন প্রক্রিয়া স্থগিত থাকায় এবং ম্যানুয়াল পদ্ধতির উপর নির্ভরশীলতার কারণে দেশের রাজস্ব আদায় কমছে।

এদিকে, বেশ কিছু বড় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান যেমন এস আলম গ্রুপ ভ্যাট ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগে চাপে রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান ভ্যাট প্রদান না করার কারণে সরকারের রাজস্ব খাতে বিশাল অঙ্কের ক্ষতি হচ্ছে। সরকার এখন অটোমেশন পদ্ধতির আওতায় ভ্যাট আদায়ের উদ্যোগ নিতে চাইলেও, এর বাস্তবায়ন সেভাবে কার্যকর হচ্ছে না।

রাজস্ব আদায় সুনির্দিষ্ট করতে হলে ভ্যাট সিস্টেমে আরো বেশি শৃঙ্খলা আনা জরুরি। অটোমেশন চালু করে, ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকরভাবে ভ্যাট আদায়ের আওতায় আনা গেলে, দেশের রাজস্ব ঘাটতি কমানো সম্ভব হতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ভ্যাট ব্যবস্থায় বিপর্যয়: দুর্নীতির জালে রাজস্ব ঘাটতি ৫৮ হাজার কোটি টাকা

আপডেট সময় ১২:১৫:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৫

 

বাংলাদেশে রাজস্ব আয়ের সবচেয়ে বড় খাত হচ্ছে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট)। কিন্তু ব্যবসায়ীদের অনিয়ম, দুর্নীতি ও ভ্যাট ফাঁকি দেওয়ার ফলে এই খাতে রাজস্ব আদায় অত্যন্ত সীমিত হয়ে পড়েছে। বর্তমানে দেশের ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআইয়ে প্রায় সাড়ে তিন কোটি ব্যবসায়ী নিবন্ধিত হলেও, এনবিআরের কাছে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা মাত্র ৫ লাখের কিছু বেশি। তার মধ্যে আবার বেশিরভাগই ভ্যাট রিটার্ন জমা দেয় না।

এমন পরিস্থিতিতে দেশের রাজস্ব ঘাটতি বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা চলতি বছরে ছয় মাসেই ৫৮ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। বিশেষ করে ডিজিটাইজেশনের অভাবে ভ্যাট আদায়ে নানা ফাঁকিবাজি চলে আসছে। রাজস্ব কর্তৃপক্ষ বারবার ভ্যাটের হার বাড়িয়ে সমস্যার সমাধান করতে চাইছে, কিন্তু নতুন ভ্যাটদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে তালিকাভুক্ত না করার ফলে সেই বাড়তি ভ্যাট আদায়ও সম্ভব হচ্ছে না।

আরও পড়ুন  রেস্তোরাঁ ভ্যাট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার: আন্দোলনে এনবিআরের পিছুটান

২০১৮ সালে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী ও সাভারের ২৫টি বাজারে চালানো এক জরিপে দেখা যায়, প্রায় ৮৮% প্রতিষ্ঠানই ভ্যাট ফাঁকি দেয়। এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভ্যাট প্রদান থেকে বিরত থাকলেও, রাজস্ব কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে তেমন কোনো কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। বরং ম্যানুয়াল পদ্ধতির ওপর নির্ভরশীলতার কারণে ভ্যাট আদায়ের ক্ষেত্রে নানা ধরনের ঘুষ-দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বলেন, “ভ্যাট আদায় বাড়ানোর জন্য অটোমেশন চালু করা উচিত, যাতে নতুন ব্যবসায়ীদেরও সঠিকভাবে ভ্যাটের আওতায় আনা যায়।” কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, অটোমেশন প্রক্রিয়া স্থগিত থাকায় এবং ম্যানুয়াল পদ্ধতির উপর নির্ভরশীলতার কারণে দেশের রাজস্ব আদায় কমছে।

এদিকে, বেশ কিছু বড় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান যেমন এস আলম গ্রুপ ভ্যাট ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগে চাপে রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান ভ্যাট প্রদান না করার কারণে সরকারের রাজস্ব খাতে বিশাল অঙ্কের ক্ষতি হচ্ছে। সরকার এখন অটোমেশন পদ্ধতির আওতায় ভ্যাট আদায়ের উদ্যোগ নিতে চাইলেও, এর বাস্তবায়ন সেভাবে কার্যকর হচ্ছে না।

রাজস্ব আদায় সুনির্দিষ্ট করতে হলে ভ্যাট সিস্টেমে আরো বেশি শৃঙ্খলা আনা জরুরি। অটোমেশন চালু করে, ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকরভাবে ভ্যাট আদায়ের আওতায় আনা গেলে, দেশের রাজস্ব ঘাটতি কমানো সম্ভব হতে পারে।