ঢাকা ০৩:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সালের ১০ বছরের কারাদণ্ড শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলা: সাবেক দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন উত্তরাধিকার সূত্রে সন্তানের শরীর ও মনে মায়ের জিনের প্রভাব কতটুকু ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় আল জাজিরার সাংবাদিক মোহাম্মদ উইশাহ নিহত আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় আজ: ট্রাইব্যুনালে হাজির ৬ আসামি ছাত্র আন্দোলনের পরিচিত মুখ রাফিয়া সুলতানা রাফির অকাল প্রয়াণ চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগে ফের হরমুজ প্রণালি বন্ধ করল ইরান ‘প্রকৃত চুক্তি’ না মানলে ফের যুদ্ধের হুমকি: ইরানকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি শুক্রবার সকাল থেকে ২৪ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায় ২৭ হাজার টন অকটেন নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে মালয়েশীয়ার জাহাজ

শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলা: সাবেক দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:৩৪:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
  • / 18

ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ এবং রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলার ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই হত্যাকাণ্ডকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য করে পুলিশের সাবেক দুই সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। এছাড়া মামলার বাকি ২৫ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন এবং সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। রায় ঘোষণার সময় তারা দুজনেই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল আজ এই রায় পাঠ করেন। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলিতে নিহত হন আবু সাঈদ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করে বুক পেতে দাঁড়িয়ে আছেন এবং পুলিশ অত্যন্ত কাছ থেকে তার বুকে গুলি চালাচ্ছে। এই নৃশংস দৃশ্য সে সময় সারা দেশে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয় এবং ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে এক নতুন গতি প্রদান করে।

আরও পড়ুন  মোহাম্মদপুরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ছিনতাইকারী ও ডাকাতসহ ১০ জন গ্রেপ্তার

মামলার মোট ৩০ জন আসামির মধ্যে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদসহ ২৪ জন এখনো পলাতক রয়েছেন। গ্রেপ্তার হওয়া ৬ আসামিকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশও রয়েছেন। পলাতক আসামিদের মধ্যে রংপুর মহানগর পুলিশের তৎকালীন শীর্ষ কর্মকর্তা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মকর্তা রয়েছেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২৪ জুন এই মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছিল। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে চলতি বছরের জানুয়ারিতে সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক সম্পন্ন হয়। আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন এই মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছিলেন। আজ রায় ঘোষণার মাধ্যমে শহীদ সাঈদের পরিবার ও আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতা দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বিচার পেলেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিরস্ত্র শিক্ষার্থীর ওপর সরাসরি গুলি চালানো কেবল একটি হত্যাকাণ্ড নয়, বরং এটি ছিল নিয়মতান্ত্রিক মানবতাবিরোধী অপরাধ। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে ইতিমধ্যে রেড নোটিশ জারির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এই রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছাত্র-জনতা সন্তোষ প্রকাশ করেন।

আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের এই বিচার জুলাই বিপ্লবের পরবর্তী বিচারিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগ ও তার বিচারের এই রায় দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলা: সাবেক দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন

আপডেট সময় ০২:৩৪:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ এবং রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলার ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই হত্যাকাণ্ডকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য করে পুলিশের সাবেক দুই সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। এছাড়া মামলার বাকি ২৫ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন এবং সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। রায় ঘোষণার সময় তারা দুজনেই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল আজ এই রায় পাঠ করেন। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলিতে নিহত হন আবু সাঈদ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করে বুক পেতে দাঁড়িয়ে আছেন এবং পুলিশ অত্যন্ত কাছ থেকে তার বুকে গুলি চালাচ্ছে। এই নৃশংস দৃশ্য সে সময় সারা দেশে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয় এবং ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে এক নতুন গতি প্রদান করে।

আরও পড়ুন  ফোনে পরিচয়, দেখা করতে গিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার চার সন্তানের জননী, গ্রেপ্তার ১

মামলার মোট ৩০ জন আসামির মধ্যে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদসহ ২৪ জন এখনো পলাতক রয়েছেন। গ্রেপ্তার হওয়া ৬ আসামিকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশও রয়েছেন। পলাতক আসামিদের মধ্যে রংপুর মহানগর পুলিশের তৎকালীন শীর্ষ কর্মকর্তা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মকর্তা রয়েছেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২৪ জুন এই মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছিল। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে চলতি বছরের জানুয়ারিতে সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক সম্পন্ন হয়। আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন এই মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছিলেন। আজ রায় ঘোষণার মাধ্যমে শহীদ সাঈদের পরিবার ও আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতা দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বিচার পেলেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিরস্ত্র শিক্ষার্থীর ওপর সরাসরি গুলি চালানো কেবল একটি হত্যাকাণ্ড নয়, বরং এটি ছিল নিয়মতান্ত্রিক মানবতাবিরোধী অপরাধ। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে ইতিমধ্যে রেড নোটিশ জারির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এই রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছাত্র-জনতা সন্তোষ প্রকাশ করেন।

আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের এই বিচার জুলাই বিপ্লবের পরবর্তী বিচারিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগ ও তার বিচারের এই রায় দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।