আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় আজ: ট্রাইব্যুনালে হাজির ৬ আসামি
- আপডেট সময় ১২:৪১:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
- / 10
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অগ্নিশিখা ও সাহসিকতার প্রতীক শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার বহু প্রতীক্ষিত রায় ঘোষণা করা হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার। ঐতিহাসিক এই রায়কে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে বিরাজ করছে টানটান উত্তেজনা ও কড়া নিরাপত্তা। রায় শুনতে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হয়েছেন আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যরা।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর তিন সদস্যের বেঞ্চ আজ এই রায় ঘোষণা করবেন। এর আগে সকাল থেকেই প্রিজন ভ্যানে করে মামলার ছয় আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
পরিবারের দাবি:
রায় ঘোষণার আগে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেন আবু সাঈদের দুই ভাই রমজান আলী ও আবুল হোসেন। তারা এই হত্যাকাণ্ডের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন।
আবু সাঈদের ভাই আবুল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন,
“আমরা আশা করছি আজই রায় হবে। যারা এই হত্যাকাণ্ডের সাথে সরাসরি জড়িত, আমরা তাদের ফাঁসি চাই। অনেক আসামি এখনও পলাতক, আমাদের দাবি— রায়ের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেন দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করে সাজা কার্যকর করে।”
মামলার বাদী ও আবু সাঈদের আরেক ভাই রমজান আলী বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, “আমরা প্রথম থেকেই দ্রুত বিচার চেয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ, আজ সেই দিন। আমরা একটি সুষ্ঠু রায়ের অপেক্ষায় আছি।”
আদালতে হাজির ৬ আসামি, পলাতক ২৪
মামলায় মোট ৩০ জন আসামির মধ্যে বর্তমানে ছয়জন কারাগারে রয়েছেন, যাদের আজ আদালতে উপস্থিত করা হয়েছে। তারা হলেন:
পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম
সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়
ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী
সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল
প্রক্টর অফিসের কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ।
উল্লেখ্য যে, মামলার বাকি ২৪ জন আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন।
মামলার প্রেক্ষাপট:
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে বুক পেতে দিয়ে শহীদ হন আবু সাঈদ, যা পুরো আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ২০২৫ সালের ২৪ জুন এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয় এবং ৩০ জুন ৩০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে চলা এই বিচার প্রক্রিয়ায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৫ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। এই মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বা ‘তারকা সাক্ষী’ হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন আন্দোলনের সমন্বয়ক ও বর্তমান সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।
গত ২৭ জানুয়ারি যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান রাখা হয়েছিল। আজ সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, যখন পুরো জাতি তাকিয়ে আছে জুলাই বিপ্লবের প্রথম সারির এই শহীদের ন্যায়বিচারের দিকে।























