অনলাইনে বন্ধুত্বই ফাঁদ, হয়রানির শিকার ১৩ হাজার নারী
- আপডেট সময় ০১:৩২:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬
- / 20
সাইবার হয়রানির শিকার ১৩ হাজার নারী, বাড়ছে ব্ল্যাকমেইল
দেশে সাইবার অপরাধের ফাঁদে পড়ে গত এক বছরে ১৩ হাজারের বেশি নারী ভুক্তভোগী হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের মাধ্যমে প্রতারণা, ব্ল্যাকমেইল ও ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের মতো ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ সিআইডি।
সিআইডি সূত্র জানায়, গত বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ১৩ হাজার ৮১৩ জন নারী সাইবার হয়রানির অভিযোগ করেছেন। এর মধ্যে ৪৮০টি অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়। সমাধান হয়েছে ১৬৩টি এবং ৩১৭টি অভিযোগ এখনও প্রক্রিয়াধীন। এছাড়া ১২ হাজারের বেশি অভিযোগ টেলিফোনের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
ফেসবুকে পরিচয়, পরে ব্ল্যাকমেইল :
একাধিক ঘটনায় দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে বন্ধুত্ব গড়ে তোলা হয়। পরে ভিডিওকলের মাধ্যমে ব্যক্তিগত মুহূর্ত ধারণ করে ভুক্তভোগীদের ব্ল্যাকমেইল করা হয়।
এক ভুক্তভোগীর অভিযোগে জানা যায়, পরিচয়ের কয়েক মাস পর সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে গোপনে ভিডিও ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ডক্সিং ও ব্ল্যাকমেইলই বেশি :
পুলিশ সদর দপ্তরের ‘সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন’ ইউনিটের তথ্যে দেখা যায় :
৪৫% নারী ডক্সিংয়ের শিকার
১৮% ব্ল্যাকমেইল
১৭% আইডি হ্যাক
৯% সাইবার বুলিং
৬% ইমপারসোনেশন
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যক্তিগত ছবি ও তথ্যের অপব্যবহার নারীদের সামাজিকভাবে হেয় করার বড় মাধ্যম হয়ে উঠছে।
সতর্কতা জরুরি :
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সচেতনতার অভাবই অনেক ক্ষেত্রে ঝুঁকি বাড়ায়। ব্যক্তিগত তথ্য ও ছবি শেয়ার করার ক্ষেত্রে সতর্ক না থাকলে অপরাধীরা সুযোগ নেয়।
আইনগত সহায়তার আহ্বান :
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভুক্তভোগীরা দ্রুত অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হয়। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
























