শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগের শুনানি আজ
- আপডেট সময় ১১:৩০:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ জুন ২০২৫
- / 112
আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দুইজনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে আজ (বুধবার) শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ এ শুনানি গ্রহণ করবেন।
শুনানির বিষয়বস্তু—‘২২৭ জনকে হত্যার লাইসেন্স পেয়েছি’—এই বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে তৈরি হওয়া আইনি বিতর্ক। অভিযোগ উঠেছে, গাইবান্ধার একজন আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে টেলিফোনে কথোপকথনের সময় শেখ হাসিনা এই বক্তব্য দেন। বিষয়টি সামনে আসার পর ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন বিভাগ আদালত অবমাননার অভিযোগ আনে।
প্রসিকিউশন জানায়, জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বিষয়টি জানানো হলেও শেখ হাসিনা আদালতে হাজির হননি কিংবা কোনো আইনজীবীর মাধ্যমে ব্যাখ্যাও দেননি। এতে আদালতের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে অভিযোগ আনা হয়। তারা আরও জানায়, আদালত এখন আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে সক্ষম।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইনে আদালত অবমাননার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ১ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।
এই মামলায় ন্যায়বিচারের স্বার্থে একজন অ্যামিকাস কিউরি (আদালতের বন্ধু) নিয়োগ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এ ওয়াই মশিউজ্জামান।
যদিও ট্রাইব্যুনালের আইনে আদালত অবমাননা মামলায় আসামিপক্ষের জন্য সরকারি খরচে আইনজীবী নিয়োগের কোনো নিয়ম নেই, তবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে শেখ হাসিনার পক্ষে একজন আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। আইনি বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ পর্যায়ের রাজনীতিকদের এ ধরনের মন্তব্য শুধু বিচারব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে না, বরং দেশের আইনি ও গণতান্ত্রিক কাঠামোকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে।
ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে, আজকের শুনানিতে উভয় পক্ষের বক্তব্য পর্যালোচনা শেষে বিচারকগণ সিদ্ধান্ত নেবেন মামলাটি কীভাবে এগোবে। আইনজীবীরা বলছেন, এটি শুধু একজন রাজনৈতিক নেতার বক্তব্যের বিচার নয়, বরং দেশের বিচারব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধা ও আস্থার একটি বড় পরীক্ষা।


























