০১:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
শিরোনাম :
হাসনাত আব্দুল্লাহর প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল চরমোনাইয়ের জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করবে জামায়াত জোট আইসিসি ভারতীয় কর্মকর্তাকে ভিসা দেয়নি বাংলাদেশ, ভারতীয় মিডিয়ার দাবি একটি দল নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার সুযোগ খুঁজছে: সালাহউদ্দিন আহমদ বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করেছে : তারেক রহমান আচরণবিধি লঙ্ঘন: অপসাংবাদিকতার শিকার বললেন মামুনুল হক পোস্টাল ব্যালটের ডিজাইনে পরিবর্তন আনছে ইসি গুম ও নির্যাতনের শিকার পরিবারের পাশে তারেক রহমান জাতিসংঘের এলডিসি উত্তরণবিষয়ক প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফর স্থগিত ব্রিটিশ নৌবাহিনীর প্রথম স্বয়ংক্রিয় হেলিকপ্টারের সফল প্রথম উড্ডয়ন

আবরার ফাহাদ হত্যা: হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ – ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৫ জনের যাবজ্জীবন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:৫২:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ মে ২০২৫
  • / 112

ছবি সংগৃহীত

 

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ বহাল রেখে হাইকোর্ট ১৩১ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে।

গত ১৬ মার্চ বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শেষে এই রায় দেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে দেওয়া এই রায়ে আদালত বলেন, আবরার ফাহাদকে পরিকল্পিতভাবে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল, যার জন্য দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের একটি কক্ষে আবরার ফাহাদকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী। তিনি তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

হত্যাকাণ্ডের পরদিনই আবরারের বাবা বরকতউল্লাহ ঢাকার চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। এরপর ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলার রায় ঘোষণা করেন বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান।

ওই রায়ে বিচারক বলেন, “আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে একে অপরের সহায়তায় শিবির সন্দেহে আবরারের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলে এবং তাকে অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে পিটিয়ে হত্যা করে। এটি ছিল এক জঘন্য হত্যাকাণ্ড।”

আদালতের রায়ে ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে রায় উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল হিসেবে পাঠানো হয়, যা গত ১৬ মার্চ চূড়ান্তভাবে রায় ঘোষণা করে হাইকোর্ট।

আবরার হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তোলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ন্যায়বিচারের দাবিতে উত্তাল হয় তরুণ সমাজ। এই রায়ের মাধ্যমে আদালত আবারও প্রমাণ করলো যে, ন্যায়বিচার অবশেষে প্রতিষ্ঠিত হয়, যদিও সময় লাগে।

হাইকোর্টের প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায় এখন দেশের বিচারপ্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আবরার ফাহাদ হত্যা: হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ – ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৫ জনের যাবজ্জীবন

আপডেট সময় ০১:৫২:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ মে ২০২৫

 

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ বহাল রেখে হাইকোর্ট ১৩১ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে।

গত ১৬ মার্চ বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শেষে এই রায় দেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে দেওয়া এই রায়ে আদালত বলেন, আবরার ফাহাদকে পরিকল্পিতভাবে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল, যার জন্য দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের একটি কক্ষে আবরার ফাহাদকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী। তিনি তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

হত্যাকাণ্ডের পরদিনই আবরারের বাবা বরকতউল্লাহ ঢাকার চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। এরপর ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলার রায় ঘোষণা করেন বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান।

ওই রায়ে বিচারক বলেন, “আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে একে অপরের সহায়তায় শিবির সন্দেহে আবরারের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলে এবং তাকে অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে পিটিয়ে হত্যা করে। এটি ছিল এক জঘন্য হত্যাকাণ্ড।”

আদালতের রায়ে ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে রায় উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল হিসেবে পাঠানো হয়, যা গত ১৬ মার্চ চূড়ান্তভাবে রায় ঘোষণা করে হাইকোর্ট।

আবরার হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তোলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ন্যায়বিচারের দাবিতে উত্তাল হয় তরুণ সমাজ। এই রায়ের মাধ্যমে আদালত আবারও প্রমাণ করলো যে, ন্যায়বিচার অবশেষে প্রতিষ্ঠিত হয়, যদিও সময় লাগে।

হাইকোর্টের প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায় এখন দেশের বিচারপ্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।