কাপ্তাই হ্রদে নাব্য সংকট: পানির অভাবে ৩টি ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ
- আপডেট সময় ০৪:৩৫:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
- / 26
টানা অনাবৃষ্টি ও তীব্র তাপদাহে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের (কপাবিকে) উৎপাদন সংকটে পড়েছে। কেন্দ্রের ৫টি ইউনিটের মধ্যে বর্তমানে ৩টি ইউনিটে উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। সচল থাকা বাকি ২টি ইউনিটে গড়ে মাত্র ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। আজ রোববার (১২ এপ্রিল) বেলা ১১টায় কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৩০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন এই কেন্দ্রে পানির অভাবে উৎপাদন অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে:
বর্তমান উৎপাদন: ৫টি ইউনিটের মধ্যে ১ ও ২ নম্বর ইউনিট থেকে বর্তমানে ৪০ মেগাওয়াট করে মোট ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।
পানির লেভেল: বর্তমানে হ্রদে ৮৫ দশমিক ৮০ মিন সি লেভেল (এমএসএল) পানি থাকার কথা থাকলেও আছে মাত্র ৮১ দশমিক ০২ এমএসএল।
বিপজ্জনক সীমা: পানির স্তর ৬৮ এমএসএল-এ নেমে গেলে কেন্দ্রের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উল্লেখ্য, হ্রদের সর্বোচ্চ ধারণ ক্ষমতা ১০৯ এমএসএল।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি হ্রদের পানি কমে যাওয়ায় রাঙ্গামাটির ৫টি উপজেলার মানুষের জনজীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে।
বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ: বিলাইছড়ি, বরকল, জুরাছড়ি, লংগদু ও বাঘাইছড়ি উপজেলার নৌ-যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হওয়ার পথে। লেকের বিভিন্ন স্থানে ডুবোচর জেগে ওঠায় নৌযান চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
নাব্য সংকট: দীর্ঘদিনের পলি জমে হ্রদের নাব্য হ্রাস পাওয়ায় সামান্য পানি কমলেই নৌপথ ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। এতে লেকের ওপর নির্ভরশীল হাজারো মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।
ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানিয়েছেন, কেন্দ্রের সবকটি ইউনিট যান্ত্রিকভাবে সচল থাকলেও কেবল পানির অভাবেই ৩টি ইউনিট চালানো যাচ্ছে না। সহসা ভারী বৃষ্টিপাত না হলে এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে হ্রদে পানির স্তর বাড়ার সাথে সাথে উৎপাদন পুনরায় পূর্ণ ক্ষমতায় ফিরবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।























