নতুন দরের অপেক্ষায় ‘তেল নেই’ নোটিশ, পাম্পে পাম্পে গ্রাহক ভোগান্তি ও ক্ষোভ
- আপডেট সময় ১০:৩৫:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
- / 27
আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য ঘোষণার আগাম খবরে রাজধানীজুড়ে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সোমবার রাত থেকেই ফিলিং স্টেশনগুলোতে যানবাহনের ভিড় বাড়তে থাকলেও অধিকাংশ পাম্পে ‘তেল নেই’ নোটিশ ঝুলিয়ে দেওয়ায় সাধারণ চালক ও গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর তেজগাঁও, বাড্ডা, গুলশান ও রমনা এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ পেট্রোল পাম্প বন্ধ রাখা হয়েছে। দু-একটি পাম্প খোলা থাকলেও সাময়িকভাবে ‘অকটেন ও পেট্রোল শেষ’—এমন অজুহাতে চালকদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে করে সকাল থেকেই কর্মস্থলগামী মানুষ ও পরিবহন চালকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
পাম্প মালিকদের দাবি, ডিপো থেকে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ না পাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে সাধারণ চালকদের অভিযোগ ভিন্ন। তাদের মতে, তেলের দাম বাড়ার খবর ছড়িয়ে পড়ায় পাম্প মালিকরা অধিক মুনাফার আশায় মজুতদারি করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন।
শাহবাগ এলাকার একটি পাম্পে অপেক্ষমাণ এক মোটরসাইকেল চালক জানান, ভোর থেকে ৪-৫টি পাম্প ঘুরেও তিনি তেল পাননি। অনেক পাম্প নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও খোলেনি। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছেন, দাম বাড়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই পাম্পগুলো কৌশলে সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে।
পাম্পে দীর্ঘ লাইন এবং সরবরাহ সংকট নিয়ে জাতীয় সংসদে বিবৃতি দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেন, “পাম্পে দীর্ঘ লাইন মানেই সরবরাহ সংকট নয়; বরং দাম বাড়ার আশঙ্কায় অতিরিক্ত কেনা ও মজুত করার প্রবণতাই এই অস্থিরতার মূল কারণ।”
মন্ত্রী আরও জানান, দেশে বর্তমানে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই এবং আগের তুলনায় সরবরাহ আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার কঠোর তদারকি করছে বলেও তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করেন।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও বাজার পরিস্থিতি
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তজনা ও ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কয়েক দফা বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের এই অস্থিরতার প্রভাব গত এক মাস ধরেই দেশের ফিলিং স্টেশনগুলোতে দেখা যাচ্ছিল। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে নতুন দাম নির্ধারণ করা হবে। এছাড়া পরিস্থিতি সামাল দিতে আগামী মাসে বড় পরিসরে জ্বালানি আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
তবে বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেলের দাম নির্ধারণে স্বচ্ছতা এবং মাঠ পর্যায়ে কঠোর তদারকি নিশ্চিত করা না গেলে এই ধরনের অস্থিরতা সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে।























