নির্বাচন–পরবর্তী সহিংসতায় ৫ জেলায় আহত অর্ধশত
- আপডেট সময় ১০:৫২:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 42
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন শেষে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়েছে সহিংসতা। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত থেকে আজ শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ঝিনাইদহ, কিশোরগঞ্জ, মেহেরপুর, পটুয়াখালী ও দিনাজপুরে সংঘর্ষ, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। বেশ কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ
কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বিজয়ী ও পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আজ বেলা ১১টার দিকে বাজিতপুর উপজেলার হুমায়ুনপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমানের সমর্থকদের সঙ্গে ধানের শীষের প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদার অনুসারীদের মধ্যে উত্তেজনা থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত। চারজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বলে জানিয়েছেন বাজিতপুর থানার ওসি এস এম শহীদুল্লাহ।
মেহেরপুর
গাংনী উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর তিন কর্মীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির স্থানীয় কর্মীদের বিরুদ্ধে। আজ সকালে জোড়পুকুরিয়া বাজারে চায়ের দোকানে বসে থাকা অবস্থায় তাঁদের ওপর হামলা করা হয়।
আহত উজ্জ্বল হোসেন, মাসুদ রানা ও জুয়েল রানাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। উজ্জ্বলের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। নির্বাচন ঘিরে পূর্ব বিরোধের জেরে হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ঝিনাইদহ
জেলায় পৃথক পাঁচটি ঘটনায় অন্তত ২৬ জন আহত হয়েছেন। শৈলকুপা, সদর, মহেশপুর ও কালীগঞ্জ উপজেলায় পাল্টাপাল্টি হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনা ঘটে।
স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী ক্যাম্পে হামলা, সমর্থকদের বাড়িঘরে ভাঙচুর এবং মহেশপুর প্রেসক্লাবে দুর্বৃত্তদের হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলগুলোতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী পরিদর্শন করেছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পটুয়াখালী
বাউফল উপজেলায় পাল্টাপাল্টি হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের বিরুদ্ধে। কালাইয়া বন্দর ও আশপাশের এলাকায় সকালে দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ায়।
ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বসতঘরে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কয়েকজন আহত হয়েছেন। বাউফল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
দিনাজপুর
বিরামপুর উপজেলায় ভোট গণনা বিলম্বকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষে অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। দুদিনে পৃথক দফায় হামলার ঘটনা ঘটে। কয়েকজনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
বিরামপুর থানার ওসি সাইফুল ইসলাম সরকার জানান, এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সার্বিক পরিস্থিতি
নির্বাচন-পরবর্তী এই সহিংসতায় বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং যেকোনো ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




















