ঢাকা ১২:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

চীনে পাচারের ভয়ংকর ফাঁদ: রাজধানী থেকে ১২ পাহাড়ি নারী উদ্ধার

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:১৯:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / 23

ছবি : সংগৃহীত

উচ্চ বেতনের চাকরি ও উন্নত জীবনের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে চীনে পাচারের উদ্দেশ্যে আটকে রাখা ১২ জন পাহাড়ি নারীকে উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১। গত ২৬ অক্টোবর বিকেল থেকে ২৭ অক্টোবর মধ্যরাত পর্যন্ত রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম ও ভাটারা থানা এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তাঁদের উদ্ধার করা হয়।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১) -এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (অপস্ ও মিডিয়া) শাহ আলম তথ্যটি নিশ্চিত করেন।

 

আরও পড়ুন  চীনে গেলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

অভিযানের সূত্রপাত ও প্রথম উদ্ধার

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, সম্প্রতি নিখোঁজ হওয়া কয়েকজন ব্যক্তির স্বজনদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ও চট্টগ্রাম বায়েজিদ বোস্তামী থানার একটি সাধারণ ডায়েরির (জিডি) সূত্র ধরে অনুসন্ধানে নামে এসআরবি। অনুসন্ধানের ভিত্তিতে ২৬ অক্টোবর বিকেলে এসআরবি-১-এর সিপিসি-২-এর একটি বিশেষ দল উত্তরা পশ্চিম থানার যমযম টাওয়ারের সংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। সেখান থেকে মেমাচিং মারমা (১৫) ও মাসানু মগিনী (১৮) নামের দুই তরুণীকে উদ্ধার করা হয়।

 

দ্বিতীয় দফায় ভাটারায় অভিযান

উত্তরায় উদ্ধার হওয়া দুই তরুণীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভাটারা থানার একটি আবাসিক ভবনে দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালায় আভিযানিক দলটি। ২৬ অক্টোবর রাত ৮টা থেকে শুরু হয়ে ২৭ অক্টোবর রাত ১টা পর্যন্ত চলা এই দীর্ঘ অভিযানে আরও ১০ নারীকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

উদ্ধারকৃত ১০ নারী হলেন: রেখা চাকমা (২৮), ক্যানচি চাকমা (২২), বিরুপতি চাকমা (২৮), পূণ্যরেখা চাকমা (২৮), চাইছাইও মারমা (২২), কৃষ্টিনা রোয়ালময় বৈল্টুং (১৯), পুষ্পিতা চাকমা (২১), পিংকি চাকমা (১৫), ববিতা চাকমা (২৭) ও আদর্শী চাকমা (২১)।

এসআরবি-১-এর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের তথ্যানুযায়ী, ভুক্তভোগীদের চীনে আকর্ষণীয় চাকরি ও নানাবিধ সুযোগ-সুবিধার আশ্বাস দিয়ে ঢাকায় আনা হয়েছিল। পরবর্তীতে কোনো বৈধ কাগজপত্র বা পাসপোর্ট ছাড়াই তাদের পাচারের উদ্দেশ্যে একটি বাসায় বন্দি করে রাখা হয়। জিম্মি অবস্থায় তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো এবং অনৈতিক কাজে বাধ্য করার জন্য নানাভাবে প্রলুব্ধ ও চাপ দেওয়া হতো।

আইনগত ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে উদ্ধারকৃত ১২ নারীকে তাঁদের স্ব-স্ব পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তও করা হয়েছে। এসআরবি জানিয়েছে, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে পুরো ঘটনার নেপথ্যে থাকা পাচারকারী চক্রের বিষয়ে এখনো পূর্ণাঙ্গ তদন্ত পরিচালনা করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

চীনে পাচারের ভয়ংকর ফাঁদ: রাজধানী থেকে ১২ পাহাড়ি নারী উদ্ধার

আপডেট সময় ১০:১৯:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

উচ্চ বেতনের চাকরি ও উন্নত জীবনের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে চীনে পাচারের উদ্দেশ্যে আটকে রাখা ১২ জন পাহাড়ি নারীকে উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১। গত ২৬ অক্টোবর বিকেল থেকে ২৭ অক্টোবর মধ্যরাত পর্যন্ত রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম ও ভাটারা থানা এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তাঁদের উদ্ধার করা হয়।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১) -এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (অপস্ ও মিডিয়া) শাহ আলম তথ্যটি নিশ্চিত করেন।

 

আরও পড়ুন  বোয়াও ফোরামে ড. ইউনূস ও চীনা এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যানের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎ

অভিযানের সূত্রপাত ও প্রথম উদ্ধার

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, সম্প্রতি নিখোঁজ হওয়া কয়েকজন ব্যক্তির স্বজনদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ও চট্টগ্রাম বায়েজিদ বোস্তামী থানার একটি সাধারণ ডায়েরির (জিডি) সূত্র ধরে অনুসন্ধানে নামে এসআরবি। অনুসন্ধানের ভিত্তিতে ২৬ অক্টোবর বিকেলে এসআরবি-১-এর সিপিসি-২-এর একটি বিশেষ দল উত্তরা পশ্চিম থানার যমযম টাওয়ারের সংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। সেখান থেকে মেমাচিং মারমা (১৫) ও মাসানু মগিনী (১৮) নামের দুই তরুণীকে উদ্ধার করা হয়।

 

দ্বিতীয় দফায় ভাটারায় অভিযান

উত্তরায় উদ্ধার হওয়া দুই তরুণীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভাটারা থানার একটি আবাসিক ভবনে দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালায় আভিযানিক দলটি। ২৬ অক্টোবর রাত ৮টা থেকে শুরু হয়ে ২৭ অক্টোবর রাত ১টা পর্যন্ত চলা এই দীর্ঘ অভিযানে আরও ১০ নারীকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

উদ্ধারকৃত ১০ নারী হলেন: রেখা চাকমা (২৮), ক্যানচি চাকমা (২২), বিরুপতি চাকমা (২৮), পূণ্যরেখা চাকমা (২৮), চাইছাইও মারমা (২২), কৃষ্টিনা রোয়ালময় বৈল্টুং (১৯), পুষ্পিতা চাকমা (২১), পিংকি চাকমা (১৫), ববিতা চাকমা (২৭) ও আদর্শী চাকমা (২১)।

এসআরবি-১-এর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের তথ্যানুযায়ী, ভুক্তভোগীদের চীনে আকর্ষণীয় চাকরি ও নানাবিধ সুযোগ-সুবিধার আশ্বাস দিয়ে ঢাকায় আনা হয়েছিল। পরবর্তীতে কোনো বৈধ কাগজপত্র বা পাসপোর্ট ছাড়াই তাদের পাচারের উদ্দেশ্যে একটি বাসায় বন্দি করে রাখা হয়। জিম্মি অবস্থায় তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো এবং অনৈতিক কাজে বাধ্য করার জন্য নানাভাবে প্রলুব্ধ ও চাপ দেওয়া হতো।

আইনগত ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে উদ্ধারকৃত ১২ নারীকে তাঁদের স্ব-স্ব পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তও করা হয়েছে। এসআরবি জানিয়েছে, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে পুরো ঘটনার নেপথ্যে থাকা পাচারকারী চক্রের বিষয়ে এখনো পূর্ণাঙ্গ তদন্ত পরিচালনা করা হচ্ছে।