ঢাকা ১১:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

ব্যালন ডি’অর জিতলেন হ্যারি কেইন।

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:৩২:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / 25

ছবি: সংগৃহীত

নয় বছর আগের এক সন্ধ্যা। লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে উপস্থিত ছিলেন ফুটবলের মহাতারকারা—ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, লিওনেল মেসি, নেইমার ও সের্হিও রামোস। সেই অনুষ্ঠানে ছিলেন হ্যারি কেইনও। তবে তখনো ফুটবলের অভিজাত মঞ্চে তাঁর অবস্থান ছিল কিছুটা দূরে। ২০১৭ সালের সেই ফিফা বেস্ট অ্যাওয়ার্ডের অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে কি একবারও ভেবেছিলেন, একদিন এই মঞ্চেই তাঁর হাতে উঠবে ফুটবলের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার?

নয় বছর পর যেন সেই গল্পেরই নতুন অধ্যায়। লন্ডনের একই প্যালাডিয়াম থিয়েটারে এবার আলোচনার কেন্দ্রে হ্যারি কেইন। লামিনে ইয়ামাল, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও রদ্রির মতো তারকাদের উপস্থিতিতে ইংলিশ স্ট্রাইকারের হাতে উঠেছে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর—এমনই দাবি করা হয়েছে প্রতিবেদনে। ৩৩ বছর বয়সী কেইনের এই অর্জনকে তুলে ধরা হয়েছে দীর্ঘ পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের স্বীকৃতি হিসেবে।

কেইনের পথচলা অবশ্য মোটেও মসৃণ ছিল না। ছোটবেলায় আর্সেনালের বয়সভিত্তিক দলে খেললেও একসময় তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তখন তাঁর শারীরিক গঠন ও অ্যাথলেটিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। কিন্তু সেই প্রত্যাখ্যান থামাতে পারেনি তাঁকে। পরবর্তী সময়ে টটেনহাম হটস্পারে দীর্ঘ ১৯ বছরের পথচলায় গোলের পর গোল করেছেন, গড়েছেন একের পর এক রেকর্ড। তবু বড় শিরোপা জয়ের আক্ষেপ তাঁর ক্যারিয়ারে দীর্ঘদিনের সঙ্গী ছিল।

২০২৩ সালে সেই আক্ষেপ ঘোচাতে কঠিন সিদ্ধান্ত নেন কেইন। ইংল্যান্ড ছেড়ে পাড়ি জমান জার্মানিতে, যোগ দেন বায়ার্ন মিউনিখে। এরপর গোল ও ব্যক্তিগত অর্জনে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে গেছেন তিনি। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত মৌসুমে বায়ার্ন ও ইংল্যান্ডের হয়ে ৬৫ ম্যাচে ৭৩ গোল করেন এই স্ট্রাইকার। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে এক মৌসুমে তাঁর চেয়ে বেশি গোল করার নজির রয়েছে শুধু লিওনেল মেসির।

কেইনের সাফল্যের গল্পে তাই শুধু গোলের হিসাব নয়, রয়েছে দীর্ঘদিনের সমালোচনা পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়ার ইতিহাসও। টটেনহামে থাকাকালে বড় শিরোপা না জেতার কারণে তাঁকে ‘লুজার’ বলে কটাক্ষ করা হতো। কিন্তু বায়ার্নে যোগ দেওয়ার পর তাঁর ক্যারিয়ারের গতিপথ বদলে যায়। ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের পাশাপাশি দলীয় সাফল্যের স্বাদও পান তিনি।

ব্যালন ডি’অর জয়ের মধ্য দিয়ে ২০০১ সালে মাইকেল ওয়েনের পর প্রথম ইংরেজ ফুটবলার হিসেবে এই পুরস্কার পাওয়ার কৃতিত্ব অর্জনের কথা বলা হয়েছে প্রতিবেদনে। ওয়েন যখন পুরস্কারটি জেতেন, তখন কেইনের বয়স ছিল মাত্র আট বছর। ইংল্যান্ডের পঞ্চম ফুটবলার হিসেবে তাঁর নাম যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে স্যার স্ট্যানলি ম্যাথুস, ববি চার্লটন, কেভিন কিগান ও মাইকেল ওয়েনের পাশে।

ব্যালন ডি’অরের অনুষ্ঠানে কেইনকে ঘিরে ‘স্যার হ্যারি কেইন’ হওয়ার সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে। যুক্তরাজ্যে নাইটহুডের স্বীকৃতি পেলে নামের আগে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘স্যার’ উপাধি যুক্ত হতে পারে। তবে এমন সম্মান পাওয়ার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। আপাতত ইংল্যান্ডের বহু ফুটবলপ্রেমীর কাছে তাঁর দীর্ঘ সংগ্রাম ও সাফল্যই তাঁকে বিশেষ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ব্যালন ডি’অর জিতলেন হ্যারি কেইন।

আপডেট সময় ০৯:৩২:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

নয় বছর আগের এক সন্ধ্যা। লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে উপস্থিত ছিলেন ফুটবলের মহাতারকারা—ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, লিওনেল মেসি, নেইমার ও সের্হিও রামোস। সেই অনুষ্ঠানে ছিলেন হ্যারি কেইনও। তবে তখনো ফুটবলের অভিজাত মঞ্চে তাঁর অবস্থান ছিল কিছুটা দূরে। ২০১৭ সালের সেই ফিফা বেস্ট অ্যাওয়ার্ডের অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে কি একবারও ভেবেছিলেন, একদিন এই মঞ্চেই তাঁর হাতে উঠবে ফুটবলের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার?

নয় বছর পর যেন সেই গল্পেরই নতুন অধ্যায়। লন্ডনের একই প্যালাডিয়াম থিয়েটারে এবার আলোচনার কেন্দ্রে হ্যারি কেইন। লামিনে ইয়ামাল, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও রদ্রির মতো তারকাদের উপস্থিতিতে ইংলিশ স্ট্রাইকারের হাতে উঠেছে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর—এমনই দাবি করা হয়েছে প্রতিবেদনে। ৩৩ বছর বয়সী কেইনের এই অর্জনকে তুলে ধরা হয়েছে দীর্ঘ পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের স্বীকৃতি হিসেবে।

কেইনের পথচলা অবশ্য মোটেও মসৃণ ছিল না। ছোটবেলায় আর্সেনালের বয়সভিত্তিক দলে খেললেও একসময় তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তখন তাঁর শারীরিক গঠন ও অ্যাথলেটিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। কিন্তু সেই প্রত্যাখ্যান থামাতে পারেনি তাঁকে। পরবর্তী সময়ে টটেনহাম হটস্পারে দীর্ঘ ১৯ বছরের পথচলায় গোলের পর গোল করেছেন, গড়েছেন একের পর এক রেকর্ড। তবু বড় শিরোপা জয়ের আক্ষেপ তাঁর ক্যারিয়ারে দীর্ঘদিনের সঙ্গী ছিল।

২০২৩ সালে সেই আক্ষেপ ঘোচাতে কঠিন সিদ্ধান্ত নেন কেইন। ইংল্যান্ড ছেড়ে পাড়ি জমান জার্মানিতে, যোগ দেন বায়ার্ন মিউনিখে। এরপর গোল ও ব্যক্তিগত অর্জনে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে গেছেন তিনি। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত মৌসুমে বায়ার্ন ও ইংল্যান্ডের হয়ে ৬৫ ম্যাচে ৭৩ গোল করেন এই স্ট্রাইকার। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে এক মৌসুমে তাঁর চেয়ে বেশি গোল করার নজির রয়েছে শুধু লিওনেল মেসির।

কেইনের সাফল্যের গল্পে তাই শুধু গোলের হিসাব নয়, রয়েছে দীর্ঘদিনের সমালোচনা পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়ার ইতিহাসও। টটেনহামে থাকাকালে বড় শিরোপা না জেতার কারণে তাঁকে ‘লুজার’ বলে কটাক্ষ করা হতো। কিন্তু বায়ার্নে যোগ দেওয়ার পর তাঁর ক্যারিয়ারের গতিপথ বদলে যায়। ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের পাশাপাশি দলীয় সাফল্যের স্বাদও পান তিনি।

ব্যালন ডি’অর জয়ের মধ্য দিয়ে ২০০১ সালে মাইকেল ওয়েনের পর প্রথম ইংরেজ ফুটবলার হিসেবে এই পুরস্কার পাওয়ার কৃতিত্ব অর্জনের কথা বলা হয়েছে প্রতিবেদনে। ওয়েন যখন পুরস্কারটি জেতেন, তখন কেইনের বয়স ছিল মাত্র আট বছর। ইংল্যান্ডের পঞ্চম ফুটবলার হিসেবে তাঁর নাম যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে স্যার স্ট্যানলি ম্যাথুস, ববি চার্লটন, কেভিন কিগান ও মাইকেল ওয়েনের পাশে।

ব্যালন ডি’অরের অনুষ্ঠানে কেইনকে ঘিরে ‘স্যার হ্যারি কেইন’ হওয়ার সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে। যুক্তরাজ্যে নাইটহুডের স্বীকৃতি পেলে নামের আগে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘স্যার’ উপাধি যুক্ত হতে পারে। তবে এমন সম্মান পাওয়ার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। আপাতত ইংল্যান্ডের বহু ফুটবলপ্রেমীর কাছে তাঁর দীর্ঘ সংগ্রাম ও সাফল্যই তাঁকে বিশেষ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে।