হেবরনে বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দিচ্ছে ইসরাইল
- আপডেট সময় ১১:২২:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
- / 23
ফিলিস্তিনের দুই বন্দুকধারীর হামলায় ইসরাইলের দুই সেনা নিহত হওয়ার পর অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন শহরে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দিতে শুরু করেছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। হামলাকারীরা যে এলাকা থেকে এসেছেন, সেটি ধ্বংস করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে পশ্চিম তীরে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা পর্যালোচনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) হেবরনের বাইরে একটি চেকপোস্টে বন্দুকধারীদের হামলায় দুই ইসরাইলি সেনা নিহত হন। এ ঘটনায় আরও তিন সেনা আহত হয়েছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। পরে ইসরাইলি সেনাদের পাল্টা গুলিতে হামলাকারী দুই ফিলিস্তিনি নিহত হন।
এ ঘটনার পর হেবরনে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ভাঙার কার্যক্রম শুরু হয়। ঘটনাস্থল থেকে নেতানিয়াহু বলেন, হামলাকারীরা হেবরনের যে এলাকা থেকে এসেছেন, সেনাবাহিনী সেই এলাকা ‘গুঁড়িয়ে দেবে এবং পুরোপুরি বদলে দেবে’।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী জানান, পশ্চিম তীরের শরণার্থীশিবিরগুলোতে আগে চালানো সামরিক অভিযানের মতো বড় ধরনের পদক্ষেপের পরিকল্পনা পর্যালোচনা করেছেন তিনি। ওইসব অভিযানে আবাসিক ভবন ধ্বংস করা হয়েছিল এবং হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন। তবে নতুন অভিযান কখন শুরু হতে পারে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময় জানাননি নেতানিয়াহু।
তিনি আরও বলেন, প্রায় দুই লাখ মানুষের বসবাস হেবরন শহর ও কাছের হালহুল শহরের চারপাশে অবরোধ আরোপ করা হয়েছে।
ইসরাইলি বাহিনী এর আগেও ইসরাইলিদের ওপর হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দিয়েছে। তবে ইসরাইলের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এ ধরনের পদক্ষেপকে ‘সমষ্টিগত শাস্তি’ হিসেবে সমালোচনা করেছে।
পশ্চিম তীরে উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যেই এ ঘটনা ঘটল। অঞ্চলটিতে বার্ষিক জলপাই সংগ্রহের মৌসুম চলছে। এ সময় উগ্রপন্থি ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে চার দিন পর ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বিবিসির যাচাই করা ভিডিও ফুটেজে ইসরাইলি সেনা ও বন্দুকধারীদের মধ্যে তীব্র গোলাগুলির দৃশ্য দেখা গেছে। অন্য একটি ভিডিওতে দেখা যায়, দুই বন্দুকধারী একটি গাড়ি থেকে নেমে পিস্তল ও অ্যাসল্ট রাইফেলের মতো অস্ত্র নিয়ে চেকপোস্টে থাকা ইসরাইলি সেনাদের লক্ষ্য করে গুলি চালাচ্ছেন। পরে সেনারাও পাল্টা গুলি চালান।
হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন এক বন্দুকধারীর ছবি প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
ঘটনাটি ইসরাইলের চলমান নির্বাচনি প্রচারণাতেও প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিকে সামনে রেখে প্রচারণা চালানো নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, তাঁর দল লিকুদ পার্টি শুক্রবার সকালে নির্ধারিত প্রচারণামূলক কর্মসূচি বাতিল করবে।
এদিকে ইসরাইলের উগ্র ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ পশ্চিম তীরে গাজা কিংবা লেবাননের মতো সামরিক অভিযান চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে ভেঙে দেওয়ার দাবি তুলেছেন।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরাইল কাটজ বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে সরকারকে দুর্বল করার অভিযোগ তোলেন। ভবিষ্যতে দেশে কোনো হামলার ঘটনা ঘটলে তার জন্য বিরোধী নেতারা ‘দায়ী’ থাকবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে, নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে থাকা বিরোধী শিবিরের নেতা গাদি আইজেনকট এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট নিহত সেনাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে হামলাকারীদের হত্যা করা ব্যক্তিদের প্রশংসা করেছেন তাঁরা।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হামলাকারীদের ব্যবহৃত গাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর ধারণা, বন্দুকধারীরা কাছের রুট-৩৫ মহাসড়কে আরও বড় ধরনের হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে পথে চেকপোস্টের মুখে পড়ে যাওয়ায় তাঁরা সেখানে গুলি চালানোর সিদ্ধান্ত নেন।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরু থেকে পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সেনা কিংবা বসতি স্থাপনকারীদের হাতে অন্তত ৯৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একই সময়ে ফিলিস্তিনিদের হামলায় পশ্চিম তীরে ইসরাইলের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও বেসামরিক নাগরিকসহ চারজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। তবে শুক্রবারের হামলায় নিহতদের এই হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
সূত্র: বিবিসি



















