ভারতের সিইসির পদত্যাগের দাবিতে ফের আন্দোলনের ঘোষণা
- আপডেট সময় ০১:০৬:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
- / 34
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আবারও আন্দোলন জোরদার করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইন্ডিয়া’। আগামী ১ নভেম্বর নয়াদিল্লির রামলীলা ময়দানে সমাবেশের পরিকল্পনা করেছে জোটটি। এর পর নভেম্বরের শুরুতে আন্দোলনের পরবর্তী ধাপ শুরু হতে পারে। তবে কর্মসূচির বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সিপিআইএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি জানান, আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে বিরোধী নেতাদের মধ্যে বিভিন্ন বিকল্প আলোচনা হচ্ছে। দিল্লির কেন্দ্রস্থলে সাম্প্রতিক মিছিলগুলো রাজনৈতিকভাবে সফল হওয়ায় কয়েকজন নেতা আবারও বড় সমাবেশ আয়োজনের পক্ষে মত দিয়েছেন। এ ছাড়া জ্ঞানেশ কুমারকে অভিশংসনের প্রক্রিয়া তুলে ধরে একটি প্রতীকী সংসদ অধিবেশন আয়োজনের প্রস্তাবও এসেছে।
কংগ্রেসের এক জ্যেষ্ঠ নেতা জানিয়েছেন, এখনো নির্দিষ্ট কোনো কর্মসূচি চূড়ান্ত হয়নি। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এ বিষয়ে কাজ করছে। লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি ভেনুগোপাল আগেই বলেছেন, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে দিল্লির কেন্দ্রস্থলে বিরোধী দলগুলোর ধারাবাহিক মিছিলে হাজার হাজার দলীয় কর্মী, শিক্ষার্থী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি অংশ নেন। সাম্প্রতিক সময়ে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এগুলোকে বড় বিক্ষোভগুলোর অন্যতম হিসেবে দেখা হচ্ছে। এসব কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও বিরোধীদের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধও নতুন করে তীব্র হয়েছে।
গত ৯ অক্টোবর বিরোধী নেতারা ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাঁরা জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের আজীবন দায়মুক্তি দেওয়া ২০২৩ সালের আইন বাতিলের দাবি জানান। একই সঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) অবিলম্বে স্থগিত এবং তালিকা থেকে বেআইনিভাবে বাদ দেওয়া ১৩ কোটি ৩০ লাখ ভোটারের নাম পুনর্বহালের দাবি তোলেন।
বিরোধীদের অভিযোগের জবাবে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তাঁদের কাছে ভোট চুরির অভিযোগের প্রমাণ চান। এর পর ১২ অক্টোবর রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে বিরোধী নেতারা সুপ্রিম কোর্টের উদ্দেশে মিছিল করেন। জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আবেদন জমা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেসহ অন্য নেতারা অংশ নেন।
আবেদনে কংগ্রেস নেতারা অভিযোগ করেন, চলমান বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রমের সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার একতরফা ও স্বেচ্ছাচারীভাবে নির্বাচন কমিশনের সম্মিলিত ক্ষমতা প্রয়োগ করেছেন। নির্বাচন কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো পর্যালোচনারও দাবি জানান তাঁরা, যাতে সংবিধানস্বীকৃত সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়।
আবেদনে নির্বাচনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও অখণ্ডতা নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি যোগ্য নাগরিকদের ভোটার হিসেবে নিবন্ধন ও ভোট দেওয়ার সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। তবে আবেদনকারীরা জানিয়েছেন, এসআইআরের বৈধতা নিয়ে সামগ্রিকভাবে নতুন করে বিচার শুরু করার দাবি তাঁরা করছেন না।
আগামী ১ নভেম্বরের সমাবেশ আয়োজনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু করেছে কংগ্রেস ও জোটের অন্য দলগুলো। নবরাত্রি ও দুর্গাপূজার কারণে আন্দোলনে বিরতি তৈরি হওয়ায় কীভাবে আবার গতি ফেরানো যায়, তা নিয়েও আলোচনা করছেন জ্যেষ্ঠ নেতারা।
প্রতীকী সংসদ আয়োজনের পরিকল্পনা সম্পর্কে এম এ বেবি বলেন, সেখানে বিশিষ্ট আইনজ্ঞ ও সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতিদের আমন্ত্রণ জানানো হবে। জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অভিশংসনের উদ্দেশ্যে প্রতীকী বিচার আয়োজন করা হবে এবং তাঁর পক্ষে যুক্তি উপস্থাপনের জন্যও একজন থাকবেন। বেবির ভাষ্য, বিভিন্ন অভিযোগে জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে দায়ী, তা তুলে ধরাই হবে আয়োজনটির উদ্দেশ্য।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিরোধী জোটের আরেক জ্যেষ্ঠ নেতা জানান, পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে; কোনো দল এককভাবে সব সিদ্ধান্ত নেবে না। আন্দোলনের পরিকল্পনা ও কর্মসূচি তদারক করতে জোটের শরিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সমন্বয় কমিটিও গঠন করা হবে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক নাম বাদ দেওয়া এবং এ বিষয়ে জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকার প্রতিবাদে দিল্লির সমাবেশে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। রাহুল গান্ধীর অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, ‘সব আন্দোলনই এক।’ সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস।






















