অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নে বাড়বে করদাতা: উপদেষ্টা
- আপডেট সময় ০৫:৪৪:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
- / 24
অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নের মাধ্যমে দেশে করদাতার সংখ্যা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। তিনি বলেছেন, বর্তমান করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে কর প্রদানে সক্ষম নতুন নাগরিকদের করের আওতায় আনতে হবে। অর্থনীতিতে অধিক মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে করের আওতা বাড়বে এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্য রাজস্ব আহরণ সহজ হবে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) ঢাকার একটি হোটেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার অব ট্যাক্স ম্যানেজমেন্ট (এমটিএম) অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ‘তৃতীয় অভিষেক অনুষ্ঠান ও এমটিএম নাইট ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করা। এটি শুধু অর্থনীতির আকার বাড়ানোর লক্ষ্য নয়; বরং উৎপাদনমুখী, বিনিয়োগবান্ধব, কর্মসংস্থানসমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার অঙ্গীকার।
এ লক্ষ্য অর্জনে রপ্তানি বহুমুখীকরণ, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্পায়ন, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, পেশাজীবীদের নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রের ছোট ছোট অবদান সম্মিলিতভাবে জাতীয় সাফল্যে ভূমিকা রাখে।
উপদেষ্টা বলেন, একটি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি শুধু উৎপাদন ও বিনিয়োগের ওপর নির্ভর করে না। কার্যকর রাজস্ব আহরণ, সুশৃঙ্খল আর্থিক ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিও এর গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। এ ক্ষেত্রে কর ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা পেশাজীবীদের দায়িত্ব অনেক বেশি।
বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাতের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দেশে এই অনুপাত প্রায় ৬ দশমিক ৭ শতাংশ। ভারতে তা প্রায় ১২ শতাংশ এবং চীনে ২০ শতাংশ। বাংলাদেশে করদাতার সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে কম। উন্নত দেশগুলোর মতো রাষ্ট্রীয় সেবা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর পাশাপাশি কর ব্যবস্থাপনায় কার্যকর সংস্কার প্রয়োজন।
তিনি বলেন, করদাতাদের হয়রানিমুক্ত সেবা দিতে হবে এবং কর প্রদানে সক্ষম ব্যক্তিদের স্বেচ্ছায় কর দিতে উৎসাহিত করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক দর্শন তুলে ধরে ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, রাষ্ট্রের সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রশাসনিক দক্ষতা নিশ্চিত করা এবং জনগণের অর্থের যথাযথ ব্যবহার সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়ার ক্ষেত্রে বিনিয়োগের বিপরীতে প্রত্যাশিত সুফল বা রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট (আরওআই) বিবেচনায় রাখতে হবে। সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে জনগণের স্বার্থ ও বাস্তব ফলাফলকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মূল লক্ষ্য প্রতিটি নাগরিকের উৎপাদনশীল সক্ষমতাকে কাজে লাগানো। আর্থিক খাতের পেশাজীবীদের দায়িত্ব হলো মানুষের সক্ষমতা বিকাশের সুযোগ তৈরি করা এবং উদ্যোক্তা ও উৎপাদনশীল উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করা।
এমটিএম অ্যালামনাই সদস্যদের উদ্দেশে উপদেষ্টা বলেন, নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে পেশাগত সততা, স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার পরিচয় দিতে হবে। করসংক্রান্ত জটিলতা কমানো, ডিজিটাল করব্যবস্থা সম্প্রসারণ, রাজস্ব ফাঁকি প্রতিরোধ এবং করদাতাদের সেবার মান উন্নয়নে সরকারকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে হবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে কর বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতেও ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা অ্যানালিটিকস ও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার কর প্রশাসনকে আরও দক্ষ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে পারে। এ জন্য পেশাগত প্রশিক্ষণ, গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমটিএম অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

























