ঢাকা ০৫:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

ইমরান খানকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৪০:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / 61

ছবি: সংগৃহীত

বলিউড অভিনেতা ইমরান খানকে আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে মুম্বাই পুলিশ। ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার পর তাকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এ পদক্ষেপের বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।

গত ১০ অক্টোবর মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে আয়োজিত ওই বিক্ষোভে অংশ নেন ইমরান। তার সঙ্গে ছিলেন অভিনেতা ও তার প্রেমিকা লেখা ওয়াশিংটন এবং চাচাতো বোন জেইন মেরি খান। বিক্ষোভ চলাকালে মুম্বাই পুলিশ তাদের তিনজনকেই আটক করে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের নাগরিক না হয়েও রাজনৈতিক বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার কারণে অভিবাসন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় ইমরানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বলে জানা গেছে। মুম্বাই পুলিশের জারি করা নোটিশে তাকে ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ছাড়তে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন  ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে প্রথমবারের মতো ড্রোন যুদ্ধ, বিশ্বে নজিরবিহীন উত্তেজনা

এর আগে বিজেপি নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য কিরিট সোমাইয়া ইমরানকে ভারত থেকে ফেরত পাঠানোর দাবি জানান। ইমরান যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক উল্লেখ করে তার নাগরিকত্ব যাচাই করতে মুম্বাই পুলিশের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সোমাইয়া লেখেন, অভিনেতা ইমরান খানকে অবিলম্বে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো উচিত। একই সঙ্গে একজন বিদেশি নাগরিকের রাজনৈতিক আন্দোলনে অংশ নেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

ইন্ডিয়া টুডেকে ২০১১ সালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইমরান নিজেই তার মার্কিন নাগরিকত্বের কথা জানিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ভারতীয় পাসপোর্ট পাওয়ার চেষ্টা করছেন এবং এ-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া চলছে। শিগগিরই পাসপোর্ট পাওয়ার আশা প্রকাশ করেছিলেন তিনি।

ইমরান আরও বলেছিলেন, নিজের দেশের সেবা করা তার দায়িত্ব বলে তিনি মনে করেন। ভারতীয় নাগরিক না হওয়ায় সেখানে ভোট দিতে পারেন না তিনি। তবে ভোটের গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার মাধ্যমে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করেন। কারণ, নিজেকে তিনি এই দেশেরই একজন অংশ বলে মনে করেন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার বিষয়ে ইমরান সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি সেখানে যাননি। মুম্বাইয়ের একজন বাসিন্দা ও নাগরিক হিসেবে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, তার কোনো দাবি নেই; শহরটিতে বসবাসকারী একজন মানুষ ও নাগরিক হিসেবেই সেখানে গিয়েছিলেন।

চলাফেরার স্বাধীনতায় বিধিনিষেধ আরোপ এবং মানুষের কণ্ঠরোধের চেষ্টা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ইমরান। তার বক্তব্য, কোনো সংগঠনের সদস্য হিসেবে নয়, নিজের নাগরিক পরিচয় থেকেই বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিলেন তিনি।

১০ অক্টোবর শনিবার সন্ধ্যায় আটক হওয়ার পর পুলিশের গাড়ির ভেতর থেকে একটি ছবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন ইমরান। ছবির ক্যাপশনে তিনি লিখেছিলেন, ‘দেখে মনে হচ্ছে, আমাকে একটু ঘুরতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে!’

তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

নিউজটি শেয়ার করুন

ইমরান খানকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ

আপডেট সময় ১২:৪০:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

বলিউড অভিনেতা ইমরান খানকে আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে মুম্বাই পুলিশ। ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার পর তাকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এ পদক্ষেপের বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।

গত ১০ অক্টোবর মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে আয়োজিত ওই বিক্ষোভে অংশ নেন ইমরান। তার সঙ্গে ছিলেন অভিনেতা ও তার প্রেমিকা লেখা ওয়াশিংটন এবং চাচাতো বোন জেইন মেরি খান। বিক্ষোভ চলাকালে মুম্বাই পুলিশ তাদের তিনজনকেই আটক করে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের নাগরিক না হয়েও রাজনৈতিক বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার কারণে অভিবাসন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় ইমরানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বলে জানা গেছে। মুম্বাই পুলিশের জারি করা নোটিশে তাকে ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ছাড়তে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন  চীন সীমান্তে ভারতের বৃহত্তম বাঁধ প্রকল্প নিয়ে উত্তেজনা, ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা

এর আগে বিজেপি নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য কিরিট সোমাইয়া ইমরানকে ভারত থেকে ফেরত পাঠানোর দাবি জানান। ইমরান যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক উল্লেখ করে তার নাগরিকত্ব যাচাই করতে মুম্বাই পুলিশের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সোমাইয়া লেখেন, অভিনেতা ইমরান খানকে অবিলম্বে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো উচিত। একই সঙ্গে একজন বিদেশি নাগরিকের রাজনৈতিক আন্দোলনে অংশ নেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

ইন্ডিয়া টুডেকে ২০১১ সালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইমরান নিজেই তার মার্কিন নাগরিকত্বের কথা জানিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ভারতীয় পাসপোর্ট পাওয়ার চেষ্টা করছেন এবং এ-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া চলছে। শিগগিরই পাসপোর্ট পাওয়ার আশা প্রকাশ করেছিলেন তিনি।

ইমরান আরও বলেছিলেন, নিজের দেশের সেবা করা তার দায়িত্ব বলে তিনি মনে করেন। ভারতীয় নাগরিক না হওয়ায় সেখানে ভোট দিতে পারেন না তিনি। তবে ভোটের গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার মাধ্যমে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করেন। কারণ, নিজেকে তিনি এই দেশেরই একজন অংশ বলে মনে করেন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার বিষয়ে ইমরান সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি সেখানে যাননি। মুম্বাইয়ের একজন বাসিন্দা ও নাগরিক হিসেবে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, তার কোনো দাবি নেই; শহরটিতে বসবাসকারী একজন মানুষ ও নাগরিক হিসেবেই সেখানে গিয়েছিলেন।

চলাফেরার স্বাধীনতায় বিধিনিষেধ আরোপ এবং মানুষের কণ্ঠরোধের চেষ্টা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ইমরান। তার বক্তব্য, কোনো সংগঠনের সদস্য হিসেবে নয়, নিজের নাগরিক পরিচয় থেকেই বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিলেন তিনি।

১০ অক্টোবর শনিবার সন্ধ্যায় আটক হওয়ার পর পুলিশের গাড়ির ভেতর থেকে একটি ছবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন ইমরান। ছবির ক্যাপশনে তিনি লিখেছিলেন, ‘দেখে মনে হচ্ছে, আমাকে একটু ঘুরতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে!’

তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়া টুডে