শাড়ির আড়ালে ৪ কেজি কুশ, শাহজালালে ভারতীয় নাগরিক গ্রেপ্তার
- আপডেট সময় ০৩:২৫:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
- / 14
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শাড়ির নিচে লুকিয়ে আনা ৪ কেজি ২৮০ গ্রাম ‘কুশ’ মাদকসহ অভিজিৎ দাস (৪০) নামের এক ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিএনসি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো (উত্তর) শাহজালাল বিমানবন্দর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ড. মো. আবু সাঈদ মিয়ার নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল গ্রিন চ্যানেলে অবস্থান নেয়। দুপুর ১টার দিকে ব্যাংকক থেকে আসা থাই এয়ারওয়েজের (ফ্লাইট নম্বর: TG321) যাত্রী অভিজিৎ দাসকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়।
পরে উপস্থিত সাক্ষী ও বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনকারী অন্যান্য সংস্থার প্রতিনিধিদের সামনে তার ট্রাভেল ট্রলি তল্লাশি করা হয়। এ সময় তিনটি ভারতীয় শাড়ির আড়ালে কৌশলে লুকানো ৪ কেজি ২৮০ গ্রাম কুশ উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার করা মাদকের পাশাপাশি তার কাছ থেকে একটি ভারতীয় পাসপোর্ট (নম্বর: Z7630595), ২ হাজার ১৬০ ভারতীয় রুপি, ৭০ থাই বাথ, একটি স্মার্টফোন, তিনটি ভারতীয় শাড়ি এবং একটি বোর্ডিং কার্ড জব্দ করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে কর্মকর্তারা জানান, গ্রেপ্তারকৃত অভিজিৎ দাস ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বাসিন্দা।
তিনি মূলত বনগাঁও রেলওয়ে স্টেশনের একজন কুলি। একটি আন্তর্জাতিক ও ত্রিদেশীয় মাদক চোরাচালান চক্র ভারতের নিম্নআয়ের মানুষদের ‘ভিসা ফ্রি’ সুবিধার সুযোগ নিয়ে প্রথমে কলকাতা থেকে ব্যাংককে নিয়ে যায়। এরপর বিভিন্ন পণ্যের আড়ালে তাদের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ মাদক বাংলাদেশে পাচার করা হয়। বাংলাদেশে কুশের নতুন বাজার তৈরির উদ্দেশ্যে এই আন্তর্জাতিক চক্রটি কাজ করছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২-৩ দিন অবস্থান করে মাদকের চালানটি হস্তান্তরের পর বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল অভিজিতের।
এ বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ের বিমানবন্দর সার্কেলের পরিদর্শক শাহরিয়া শারমিন বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ (সংশোধিত ২০২৬)-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।
ডিএনসির উপপরিচালক মো. রাজিউর রহমান জানান, বর্তমান সরকারের মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

























