ঢাকা ০৮:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

মসজিদে নববীর বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা, অস্বীকার হুতিদের

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:৫৫:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
  • / 67

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মদিনায় মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী একটি বিতরণকেন্দ্রে হামলার জন্য ইয়েমেনের হুতিদের দায়ী করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। তবে এ অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছে হুতিরা। এদিকে মদিনার হামলার অভিযোগের মধ্যেই ইয়েমেনের তাইজ প্রদেশে হুতি ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ চলছে।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, মঙ্গলবার মদিনার একটি বিদ্যুৎ বিতরণকেন্দ্রে হামলা চালানো হয়। ওই কেন্দ্র থেকে মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। হামলায় একটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার অচল হয়ে গেলেও বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।

জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলার পর তদন্ত এবং ঘটনাস্থলে পাওয়া ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করে হুতিদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাদের দাবি, পরিকল্পিতভাবেই এ হামলা চালানো হয়েছে।

আরও পড়ুন  জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার পর নতুন দাবি তেহরানের

তবে হুতি-নিয়ন্ত্রিত সাবা নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক বক্তব্যে গোষ্ঠীটির সামরিক বাহিনীর এক কর্মকর্তা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি সৌদি জোটের বক্তব্যকে ‘মিথ্যা’ বলে দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, মক্কায় হুতিদের হামলার আগের অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ দিতে না পারার বিষয়টি আড়াল করতেই সৌদি আরব নতুন এই দাবি তুলেছে।

সৌদি জোটের দাবি, মদিনার বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা মক্কার মসজিদুল হারাম ও মদিনার মসজিদে নববীকে লক্ষ্য করে হুতিদের ধারাবাহিক তৎপরতার অংশ। মুসলিম বিশ্বের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ানোও এর উদ্দেশ্য বলে দাবি করেছে জোটটি। পবিত্র স্থান ও সেখানে আসা মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছে তারা।

এদিকে বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতে হুতিদের ছোড়া চারটি ড্রোন ধ্বংস করার দাবি করেছে সৌদি জোট। একই দিনে খামিস মুশাইত ও জাজান শহরের দিকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।

তাইজে তীব্র লড়াই, নিহতের সংখ্যা নিয়ে দাবি

মদিনায় হামলার অভিযোগের মধ্যে ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ প্রদেশে হুতি ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ তীব্র হয়েছে। সরকারি বাহিনীর দাবি, হুতিদের বড় ধরনের একটি হামলা প্রতিহত করে তাদের উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি করা হয়েছে।

ইয়েমেনের সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যা থেকে তাইজের পশ্চিমাঞ্চলের জাবাল হাবাশি ও মাকবানাহ এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের আল-আকরুদ এলাকায় হুতিরা ব্যাপক গোলাবর্ষণ শুরু করে।

সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনীর দাবি, শুধু আল-আকরুদ এলাকায় অন্তত ৩০ হুতি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েক ডজন। এ ছাড়া তাইজের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও মাকবানাহ এলাকার হুমাইর ফ্রন্টে ছয়টি বিমান হামলায় হুতিদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

সংঘর্ষের কারণে ইয়েমেনে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বাস্তুচ্যুতদের বড় একটি অংশ তাইজ প্রদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতদের শিবির ব্যবস্থাপনা ইউনিট জানিয়েছে, বুধবার পর্যন্ত দেশটিতে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৯০৬ জন বাস্তুচ্যুত মানুষ নিবন্ধিত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৯৭ হাজারের বেশি মানুষ তাইজ প্রদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫০ হাজারের বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ রয়েছেন লাহিজ প্রদেশে।

ইয়েমেন সরকারকে প্রায় ৬০ কোটি ডলার সহায়তা দিচ্ছে সৌদি আরব

তাইজে সংঘর্ষ চলার মধ্যেই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে ২২ কোটি ৪০ লাখ সৌদি রিয়াল বা প্রায় ৫৯ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার বাজেট সহায়তা দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে সৌদি আরব।

সৌদি আরবে নিযুক্ত ইয়েমেনের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আল-জাবির জানিয়েছেন, সরকারি অর্থপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখা, আর্থিক নীতির কার্যকারিতা বাড়ানো এবং নাগরিকদের ক্রয়ক্ষমতা শক্তিশালী করতে এই অর্থ ব্যয় করা হবে।

এর আগে গত মাসে কৌশলগত বাব আল-মান্দাব প্রণালির কাছে অবস্থিত মোখা শহরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করে হুতিরা। লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দরনগরী বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যপথের কাছাকাছি অবস্থিত।

উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সুয়েজ খাল হয়ে ভূমধ্যসাগরে তেল ও জ্বালানি পরিবহনের পাশাপাশি এশিয়ার বিভিন্ন পণ্য এবং রাশিয়ার তেল পরিবহনেও বাব আল-মান্দাব প্রণালি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

মোখা থেকে হুতিদের আরও অগ্রসর হওয়া ঠেকানোর ঘোষণা দিয়েছে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী। তাইজ ও পশ্চিম উপকূলের সামরিক কর্মকর্তারা শহরটি পুনর্দখলের চেষ্টার কথাও জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

মসজিদে নববীর বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা, অস্বীকার হুতিদের

আপডেট সময় ০৭:৫৫:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মদিনায় মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী একটি বিতরণকেন্দ্রে হামলার জন্য ইয়েমেনের হুতিদের দায়ী করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। তবে এ অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছে হুতিরা। এদিকে মদিনার হামলার অভিযোগের মধ্যেই ইয়েমেনের তাইজ প্রদেশে হুতি ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ চলছে।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, মঙ্গলবার মদিনার একটি বিদ্যুৎ বিতরণকেন্দ্রে হামলা চালানো হয়। ওই কেন্দ্র থেকে মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। হামলায় একটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার অচল হয়ে গেলেও বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।

জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলার পর তদন্ত এবং ঘটনাস্থলে পাওয়া ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করে হুতিদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাদের দাবি, পরিকল্পিতভাবেই এ হামলা চালানো হয়েছে।

আরও পড়ুন  দক্ষিণ কোরিয়াকে না জানিয়েই তাদের ঘাঁটি থেকে সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র।

তবে হুতি-নিয়ন্ত্রিত সাবা নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক বক্তব্যে গোষ্ঠীটির সামরিক বাহিনীর এক কর্মকর্তা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি সৌদি জোটের বক্তব্যকে ‘মিথ্যা’ বলে দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, মক্কায় হুতিদের হামলার আগের অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ দিতে না পারার বিষয়টি আড়াল করতেই সৌদি আরব নতুন এই দাবি তুলেছে।

সৌদি জোটের দাবি, মদিনার বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা মক্কার মসজিদুল হারাম ও মদিনার মসজিদে নববীকে লক্ষ্য করে হুতিদের ধারাবাহিক তৎপরতার অংশ। মুসলিম বিশ্বের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ানোও এর উদ্দেশ্য বলে দাবি করেছে জোটটি। পবিত্র স্থান ও সেখানে আসা মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছে তারা।

এদিকে বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতে হুতিদের ছোড়া চারটি ড্রোন ধ্বংস করার দাবি করেছে সৌদি জোট। একই দিনে খামিস মুশাইত ও জাজান শহরের দিকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।

তাইজে তীব্র লড়াই, নিহতের সংখ্যা নিয়ে দাবি

মদিনায় হামলার অভিযোগের মধ্যে ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ প্রদেশে হুতি ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ তীব্র হয়েছে। সরকারি বাহিনীর দাবি, হুতিদের বড় ধরনের একটি হামলা প্রতিহত করে তাদের উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি করা হয়েছে।

ইয়েমেনের সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যা থেকে তাইজের পশ্চিমাঞ্চলের জাবাল হাবাশি ও মাকবানাহ এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের আল-আকরুদ এলাকায় হুতিরা ব্যাপক গোলাবর্ষণ শুরু করে।

সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনীর দাবি, শুধু আল-আকরুদ এলাকায় অন্তত ৩০ হুতি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েক ডজন। এ ছাড়া তাইজের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও মাকবানাহ এলাকার হুমাইর ফ্রন্টে ছয়টি বিমান হামলায় হুতিদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

সংঘর্ষের কারণে ইয়েমেনে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বাস্তুচ্যুতদের বড় একটি অংশ তাইজ প্রদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতদের শিবির ব্যবস্থাপনা ইউনিট জানিয়েছে, বুধবার পর্যন্ত দেশটিতে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৯০৬ জন বাস্তুচ্যুত মানুষ নিবন্ধিত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৯৭ হাজারের বেশি মানুষ তাইজ প্রদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫০ হাজারের বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ রয়েছেন লাহিজ প্রদেশে।

ইয়েমেন সরকারকে প্রায় ৬০ কোটি ডলার সহায়তা দিচ্ছে সৌদি আরব

তাইজে সংঘর্ষ চলার মধ্যেই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে ২২ কোটি ৪০ লাখ সৌদি রিয়াল বা প্রায় ৫৯ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার বাজেট সহায়তা দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে সৌদি আরব।

সৌদি আরবে নিযুক্ত ইয়েমেনের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আল-জাবির জানিয়েছেন, সরকারি অর্থপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখা, আর্থিক নীতির কার্যকারিতা বাড়ানো এবং নাগরিকদের ক্রয়ক্ষমতা শক্তিশালী করতে এই অর্থ ব্যয় করা হবে।

এর আগে গত মাসে কৌশলগত বাব আল-মান্দাব প্রণালির কাছে অবস্থিত মোখা শহরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করে হুতিরা। লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দরনগরী বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যপথের কাছাকাছি অবস্থিত।

উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সুয়েজ খাল হয়ে ভূমধ্যসাগরে তেল ও জ্বালানি পরিবহনের পাশাপাশি এশিয়ার বিভিন্ন পণ্য এবং রাশিয়ার তেল পরিবহনেও বাব আল-মান্দাব প্রণালি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

মোখা থেকে হুতিদের আরও অগ্রসর হওয়া ঠেকানোর ঘোষণা দিয়েছে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী। তাইজ ও পশ্চিম উপকূলের সামরিক কর্মকর্তারা শহরটি পুনর্দখলের চেষ্টার কথাও জানিয়েছেন।