তদন্তে ক্যান্টনমেন্টের সাবেক ওসির আ: লীগ-সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- আপডেট সময় ০৫:৫৫:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 28
রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসানের সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন থানার ওসি বদলি এবং বিশেষ করে শাহ আলী থানার ওসি প্রত্যাহারের প্রসঙ্গ তুলে সাংবাদিকরা জানতে চান, শুধু বদলি করলেই এসব সমস্যার সমাধান হচ্ছে কি না।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বদলি প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ। কর্তব্যে অবহেলা বা কোনো বিষয়ে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলেও বদলি করা হতে পারে। তবে বদলির মধ্যেই ব্যবস্থা শেষ হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যক্রমও চলছে বলে জানান তিনি।
ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি মো. রাকিবুল হাসানের প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে তদন্ত হয়েছে। ফরেনসিক পরীক্ষাসহ বিভিন্ন সংস্থা বিষয়টি তদন্ত করেছে। এর ভিত্তিতে মামলা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগে রাকিবুল হাসানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলাও করা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এরপর সাংবাদিকরা জানতে চান, রাকিবুল হাসানের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে কি না। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিওকে কেন্দ্র করে আলোচনায় আসেন ক্যান্টনমেন্ট থানার তৎকালীন ওসি মো. রাকিবুল হাসান।
ওই অডিওতে তাকে পুলিশের বর্তমান পরিস্থিতি, কর্মকর্তা পদায়ন ও বাহিনীর অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলতে শোনা যায়। সেখানে তিনি দাবি করেন, পুলিশের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের অনেক কর্মকর্তা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন, যদিও মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা তা করছেন না।
অডিওতে ওসি পদায়নে অর্থ লেনদেন এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাধ্যমে পোস্টিং দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়। যোগ্য কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে অযোগ্যদের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
এ ছাড়া শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে ঠেকানোর সক্ষমতা পুলিশের নেই বলেও অডিওতে মন্তব্য করতে শোনা যায় রাকিবুল হাসানকে। পুলিশের পদায়ন ও নেতৃত্ব নিয়েও তিনি অসন্তোষের কথা তুলে ধরেন।
অডিওটি নিয়ে তদন্তের পর রাকিবুল হাসানকে ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি পদ থেকে প্রত্যাহার করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করা হয়।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর ওই মামলায় রাকিবুল হাসানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। শুনানি শেষে আদালত তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেন। পরে মামলাটির তদন্তভার ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগে (ডিবি) দেওয়া হয়।

























